img

বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে চায় স্টারলিংক

প্রকাশিত :  ০৫:৩২, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৪৩, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে চায় স্টারলিংক

আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। তবে গেটওয়ে স্থাপন বাধ্যতামূলক থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে সেটি ছাড়াই সেবা চালু করে। সম্প্রতি চারটি গেটওয়ে স্থাপনের দাবি জানিয়ে এখন বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-তে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে।

চিঠি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পপ (Point of Presence) থেকে সিঙ্গাপুর ও ওমানের পপে আন্তর্জাতিক ব্যাকহল সংযোগ দিতে চায় তারা। এজন্য দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আইপিএলসি (International Private Leased Circuit) এবং আনফিল্টারড আইপি কিনে ব্যবহার করবে। তবে এ সেবা শুধুমাত্র বিদেশি গ্রাহকদের জন্য হবে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকারীরা এর আওতায় পড়বে না।

আইপিএলসি সাধারণত আন্তর্জাতিক ডেটা পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আনফিল্টারড আইপি ব্যবহারে ডেটা স্থানীয় ফিল্টারিং বা আইনগত নজরদারি এড়িয়ে যেতে পারে। এ কারণে সাইবার নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “গাইডলাইনে আইপিএলসি কেবল সিগনালিংয়ের জন্য। ট্রাফিকের জন্য নয়। অনুমোদন দিলে আমাদের মনিটরিংয়ের বাইরে ডেটা চলে যাবে, আইনগত ইন্টারসেপশনও সম্ভব হবে না।”

তবে অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশ করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হলে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব। কারণ স্টারলিংক স্থানীয় অপারেটর—ফাইবার অ্যাট হোম, বিএসসিসিএল, সামিট—এর কাছ থেকে আইপি কিনবে। এতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি আয় করবে।

ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাব্বির বলেন, “এটি মূলত আন্তর্জাতিক ট্রাফিক বহনের জন্য। বিশ্ব এখন উন্মুক্ত—সেখানে ফিল্টারড আইপি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এর মাধ্যমে আয় বাড়াতে পারবে।”

প্রযুক্তি খাতের অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, অর্থনৈতিক সুফল থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে নজরদারির বাইরে থাকা ডেটা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) অপারেটর বাহনের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রাশেদ আমিন বিদ্যুৎ বলেন, “আনফিল্টারড আইপি ব্যবহারে কিছু ট্রাফিক মনিটরিংয়ের বাইরে চলে যাবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি দুর্বল হতে পারে। তাই অনুমোদন দিলে বিশেষ টেকনিক্যাল মনিটরিং সেল গঠন জরুরি।”

বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন ডিভিশনের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ বলেন, “স্টারলিংকের আবেদন পর্যালোচনায় আছে। গাইডলাইনে কী সুযোগ আছে, আর দেশের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা যায়—সব দিক যাচাই করে সিদ্ধান্ত হবে।”

স্টারলিংক ইতোমধ্যেই গাজীপুর, রাজশাহী ও যশোরে চারটি গেটওয়ে স্থাপনের দাবি করলেও সেগুলো পুরোপুরি কার্যকর কি না তা নিশ্চিত হতে পারেনি বিটিআরসি। ফলে একদিকে বাংলাদেশ বৈশ্বিক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা, নীতিমালা ও বাজার ভারসাম্য রক্ষার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়াচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

স্টারলিংক নিয়ে মুখোমুখি মাস্ক-ভারত, পালটাপালটি বার্তা

প্রকাশিত :  ০৭:০৯, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর পথে কারা বাধা দিচ্ছে, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ইলন মাস্ক। বুধবার এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে স্পেসএক্সের কর্ণধার অভিযোগ করেন, কিছু ‘অলিগার্ক’ বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠী নিজেদের একচেটিয়া ব্যবসায়িক আধিপত্য ধরে রাখতে ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ ঠেকিয়ে দিচ্ছে।

তবে মাস্কের অভিযোগের পরই বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারত সরকার তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলেছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার জন্য ভারতে একটি ‘ন্যায্য ও বৈষম্যহীন’ অনুমোদন কাঠামো রয়েছে।

সম্প্রতি ইলন মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কিছু ‘অলিগার্ক’ নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে দিচ্ছে।

তবে ভারতীয় যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে না। লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকেই নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে।

ভারতে ইতোমধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জিএমপিসিএস—গ্লোবাল মোবাইল পার্সোনাল কমিউনিকেশন বাই স্যাটেলাইট—লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো ইলন মাস্কের স্টারলিংক, ভারতী গ্রুপ-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও প্ল্যাটফর্মসের মালিকানাধীন জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস। এ ছাড়া জেফ বেজোসের অ্যামাজন লিও-ও লাইসেন্সের অপেক্ষায় রয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, লাইসেন্সধারী সব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা মূল্যায়ন বর্তমানে চলছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের এই প্রক্রিয়া শেষ হলে তারা পরবর্তী ধাপে স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য আবেদন করতে পারবে।

স্টারলিংক এক বছরেরও বেশি আগে ভারতে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেলেও এখনো দেশটিতে বাণিজ্যিক সেবা শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। তবে ভারতের দাবি, লাইসেন্স পাওয়া তিন প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে প্রায় একই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে স্টারলিংককে ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এর আগে ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬-এ স্পেসএক্সের স্টারলিংক বিজনেস অপারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার বলেন, ভারতে সেবা চালুর জন্য প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করেছে।

তিনি জানান, ভারতের জন্য ২০টি গেটওয়ে সাইট স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে শত শত অ্যান্টেনা রয়েছে। ভারতীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত মেনে ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশটির ভেতরেই রাখার ব্যবস্থাও করেছে স্টারলিংক।

ফলে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালুর ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের নিরাপত্তা যাচাই ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী প্রক্রিয়া।