img

তানজানিয়ায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ৭০০

প্রকাশিত :  ১৮:৩১, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

তানজানিয়ায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ৭০০

আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায় ব্যাপক সহিংসতা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের পর বিক্ষোভে অন্তত ৭০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে প্রধান বিরোধী দল চাদেমা। তবে জাতিসংঘের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চাদেমা দলের মুখপাত্র জন কিতোকার শুক্রবার এএফপি নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, দার-এস-সালাম শহরে প্রায় ৩৫০ জন নিহত হয়েছে এবং মওয়াঞ্জায় ২০০ জনেরও বেশি মারা গেছে। দেশের অন্যান্য স্থান থেকে তথ্য যোগ করলে, মৃতের সংখ্যা প্রায় ৭০০-এ পৌঁছেছে।

তিনি জানান, দলের সদস্যরা সারা দেশে হাসপাতাল পরিদর্শন করে এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেছেন। এএফপির এক নিরাপত্তা সূত্রও এর সাথে মিল রেখে একই পরিসংখ্যান প্রদান করেছে। তবে আল জাজিরার পক্ষ থেকে নিহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তানজানিয়ার সরকার এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি, শুধু বলেছে যে, তাদের বাহিনী বিক্ষিপ্ত ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করছে।

এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার মুখপাত্র সেইফ মাগাঙ্গো শুক্রবার গেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, তাদের কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য সূত্র’ থেকে খবর এসেছে যে, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় শক্তির ব্যবহার না করতে বলেছি। বিশেষ করে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারে বিরত থাকতে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে অনুরোধ করেছি।

আলজাজিরা জানিয়েছে, বুধবার (২৯ অক্টোবর) দার-এস-সালাম শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দেশটিতে ভোটদান প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধের কারণে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা ভোটের সীমিত বিকল্প এবং বিরোধী নেতাদের হয়রানির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিক্ষোভের ফলে কয়েকটি গাড়ি, একটি পেট্রোল স্টেশন এবং পুলিশ স্টেশনগুলোতে আগুন দেওয়া হয়। শুক্রবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফলাফল ঘোষণা বন্ধ করার দাবিতে বিক্ষোভকারীরা তৃতীয় দিনের মতো পুলিশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহু, চটলেন ট্রাম্পের ওপর

প্রকাশিত :  ০৫:১৩, ২১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:১৯, ২১ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতা প্রচেষ্টা নিয়ে গভীর হতাশা এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালাতে বিলম্ব করার এই সিদ্ধান্ত কেবল তেহরানকেই কৌশলগতভাবে লাভবান করছে।

মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মঙ্গলবার (১৯ মে) এক উত্তপ্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ এক ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই ফোনালাপে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ও পরবর্তী কৌশলগত পদক্ষেপ কীভাবে নেওয়া উচিত, সেই বিষয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যকার গভীর মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

ফোনালাপ চলাকালীন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার জন্য তীব্র চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি যুক্তি দেন, আলোচনা বা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করা হলে তা ইরানকে নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ করে দেবে।

অন্য দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে যেকোনো উপায়ে একটি নতুন কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তাঁর প্রচেষ্টা এবং চাপ অব্যাহত রেখেছেন। তবে আলোচনার টেবিলে কূটনৈতিক পন্থার ওপর জোর দিলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একই সাথে এটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রয়োজন দেখা দিলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প পথটি এখনও সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর