img

আমেরিকা-ইসরাইল ৩০ লাখ মুসলিমকে হত্যা করেছে: আল-হুথি

প্রকাশিত :  ০৫:০৭, ০৫ নভেম্বর ২০২৫

আমেরিকা-ইসরাইল ৩০ লাখ মুসলিমকে হত্যা করেছে: আল-হুথি

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তার মিত্ররা গত ২০ বছরে মুসলিম দেশগুলোতে প্রায় ৩০ লাখ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে। এমনটাই জানিয়েছেন ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনের নেতা আবদুল-মালিক বদরুদ্দিন আল-হুথি।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ইয়েমেনে শহীদ স্মরণ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। 

ইয়েমেনে এই শহীদ স্মরণ-অনুষ্ঠান পুরো এক সপ্তাহ ধরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চলবে। খবর মেহের নিউজের।

আল-হুথি বলেন, ‘যে জাতি আল্লাহর পথে জিহাদের চেতনা ও শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অগ্রসর হয়, সেই জাতি গর্বিত এবং বিপদ প্রতিহত করতে সক্ষম। আর শাহাদাত ধ্বংস ও অপমান থেকে রক্ষা করার এক শক্তিশালী প্রাচীর।’ 

ইয়েমেনি এই নেতা বলেন, ইসলামী উম্মাহর ইতিহাসে প্রাচীন যুগ থেকে উপনিবেশিক আমল এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত বড় বড় বিপর্যয় ঘটেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, আমেরিকানরা নিজেরাই স্বীকার করেছে যে, গত দুই দশকে তারা প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে, যাদের অধিকাংশই ইসলামী উম্মাহর অংশ। আর তারা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে এমন এক সময়ে, যখন মুসলিম জনগণ ছিল দুর্বল অবস্থানে।

আল-হুথি বলেন, শত্রুরা (ইসরাইল) মানুষকে ক্ষুধার্ত রেখে ও অস্ত্রের মুখে (গাজায়) জিম্মি করে আত্মসমর্পণ করানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মুসলিম জাতিগুলোকে দাসে পরিণত করার লক্ষ্যে মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তারা অন্য দেশ দখল করেছে কেবল নিজেদের স্বার্থে সেসব জনগণকে ব্যবহার করার জন্য।

আল হুথির ভাষায়, ‘এই অত্যাচারী শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো দয়া-মায়া নেই; নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা যেকোনো অপরাধ করতে দ্বিধা করে না।’


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

রিপাবলিকানরা জিতলে মার্কিনিদের ১ ট্রিলিয়ন ডলার দেবেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৬:১৮, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হলে দেশটির প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় নিশ্চিত হলে এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সময় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেষ বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন তিনি।

এই অর্থকে তিনি ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’নামে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘রিপাবলিকানরা জিতলে আপনারাও আমাদের সঙ্গে জিতবেন এবং ৫ হাজার ডলার পাবেন। এর নাম হবে ট্রাম্প ডিভিডেন্ড।’

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কমপক্ষে ১ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে আর্থিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। 

এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু বলেননি ট্রাম্প। শুধু বলেছেন, ‘আমাদের দেশ প্রচুর অর্থ আয় করছে।’

নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে বলে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।

সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বলছি, ধরে নিন আমিও ব্যালটে আছি।’

এরপর তিনি আবারও বলেন, ‘আমি ব্যালটে আছি, আমি ব্যালটে আছি—আরেকবারের জন্য।’

সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার ৩০ শতাংশের দিকে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ইরানের সঙ্গে শুরু করা যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষও বাড়ছে।

ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউর পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২৩০-২০৫ আসনে জয় পেতে পারে। আর সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৫১-৪৯ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বক্তব্যে ট্রাম্প বারবার ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গ তোলেন। এমনকি এই যুদ্ধ মার্কিন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেও পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ভালোই করছিলাম।’ 

এরপর অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের কাছে গিয়ে বলেন,‘আমি এটা করতে চাই না তবে ইরান সম্ভবত আর দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারত তাই সংঘাতে জড়ানো প্রয়োজন ছিল।’

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে পরিবর্তন করার প্রস্তাবও দেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে বিজয়ের পর তেলের দাম কমবে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘খাদ্যসহ প্রায় সব পণ্যের দাম দ্রুত কমছে। আর ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে আমরা জিতলেই তেলের দাম কমে যাবে।’

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও সমর্থন করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, এতে সাময়িক অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাওয়া যাবে। 

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর