ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিকোলাস মাদুরোই ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ ও সাংবিধানিক প্রেসিডেন্ট। তিনি এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের জরুরি বৈঠকের পর দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার সব রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ স্থায়ীভাবে সক্রিয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের সমর্থনে একটি ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ মোকাবিলা’ সংক্রান্ত ডিক্রি কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযান ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত এবং এটি জাতিসংঘ সনদের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি একে ‘বহিরাগত আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেন।
ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, প্রেসিডেন্ট মাদুরোর আহ্বানে দেশজুড়ে সমর্থকরা রাস্তায় নেমেছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি দেশবাসীকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলা সংলাপে প্রস্তুত, তবে তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, কারাকাসে চালানো এক অভিযানে নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নেবে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানলে হরমুজ বন্ধ, আলোচনাতেও ‘না’ ইরানের
প্রকাশিত :
০৬:১৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১৮, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ
যুক্তরাষ্ট্র শর্ত পূরণ না করলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না এবং দেশটির সঙ্গে আগের আলোচনার কাঠামোতেও ফিরবে না ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ কথা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তার এই বক্তব্য সামনে এলো।
এএনআই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গালিবাফ জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের দাবিগুলো জানানো হয়েছে। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তেহরান অবস্থান পরিবর্তন করবে না। তিনি বলেন, ইরানের জনগণের অধিকার স্বীকার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করাসহ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
এর আগে এসব শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের আলোচনার কাঠামোয় ফেরার সুযোগ নেই। একই কারণে হরমুজ প্রণালিও খোলার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পথে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কমে গেলে বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
গালিবাফের বক্তব্যের আগে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সামরিক অভিযান না চালানোর সতর্কতা দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান চালালে এর জবাব দেওয়া হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে পুরো অঞ্চলে থাকা দেশটির সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
ইরানি সামরিক কমান্ড এই হামলাকে ‘অবিরাম, কার্যকর ও বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেছে। ইরান একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে সহায়তা না করার জন্য সতর্ক করেছে। তেহরান বলেছে, কোনো দেশ যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে সেই দেশকেও অভিযানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এদিকে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করার অংশ হিসেবে ১০৯টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড। কেন্দ্রীয় কমান্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী এসব জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজের প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করার অভিযান আবার শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত ১৪ জুলাই থেকে এই কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পক্ষ। ইরান তাদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড পরিবর্তন না করলে দেশটিকে বড় ধরনের পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়ে তিনি আগ্রহী হতে পারেন। এতে একদিকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এর আগে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই জানিয়েছিলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় সংঘাত বন্ধের জন্য তেহরানের শর্তগুলো জানানো হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড় করা এবং ইরানের ওপর নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। তবে এসব শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সমঝোতার কথা জানানো হয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। এই সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ এবং সামরিক হামলার পাল্টা হুমকিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ বা বৈঠক হয় কি না, সেদিকেও এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।