img

মাদুরোকে নিয়ে মুখ খুললেন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট

প্রকাশিত :  ০৭:৫৮, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:০০, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬

মাদুরোকে নিয়ে মুখ খুললেন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট

ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিকোলাস মাদুরোই ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ ও সাংবিধানিক প্রেসিডেন্ট। তিনি এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের জরুরি বৈঠকের পর দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার সব রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ স্থায়ীভাবে সক্রিয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের সমর্থনে একটি ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ মোকাবিলা’ সংক্রান্ত ডিক্রি কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযান ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত এবং এটি জাতিসংঘ সনদের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি একে ‘বহিরাগত আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেন।

ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, প্রেসিডেন্ট মাদুরোর আহ্বানে দেশজুড়ে সমর্থকরা রাস্তায় নেমেছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি দেশবাসীকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলা সংলাপে প্রস্তুত, তবে তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, কারাকাসে চালানো এক অভিযানে নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নেবে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

গাজা নিয়ে তথ্যচিত্র বানিয়ে নাগরিকত্ব হারাচ্ছেন দুই ইসরাইলি নির্মাতা!

প্রকাশিত :  ০৮:০৭, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবরোদ্ধ গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পর ছবিটির দুই নির্মাতার নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন ইসরাইলের সংস্কৃতি-বিষয়কমন্ত্রী মিকি জোহার। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুমকি দেন। খবর আল জাজিরার

পোস্টে মিকি জোহার তথ্যচিত্রটিকে ‘জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির পুরস্কার পাওয়াকে তিনি ‘চমকে দেওয়ার মতো’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রীর অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বের ‘ইহুদিবিদ্বেষীদের’ কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার জন্য নির্মাতারা নিজেদের দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। তাদের কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলেও মন্তব্য করেন।

জোহার বলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোরের ইসরাইলি নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেবেন।

৮০ মিনিটের ওই তথ্যচিত্রে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের আনুষ্ঠানিক বর্ণনা অনুযায়ী, ছবিটিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত ব্যাপক হত্যাকাণ্ডে এআই-নির্ভর ব্যবস্থার ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

ছবিটির প্রিমিয়ারে দর্শকদের কাছ থেকে প্রায় ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে অভিবাদন পায়। 

তথ্যচিত্রটিতে ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন সদস্যের সাক্ষাৎকার রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারদাতারা ‘ল্যাভেন্ডার’ নামে একটি এআই ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গাজায় ফিলিস্তিনিদের টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।

তথ্যচিত্রটির নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম বলেছেন, তার আশা—এই চলচ্চিত্র পশ্চিমা দেশগুলোকে ইসরাইলের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।



আন্তর্জাতিক এর আরও খবর