img

শীতে কাঁপছে শ্রীমঙ্গল, তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি

প্রকাশিত :  ০৬:৫৩, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:০১, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬

শীতে কাঁপছে শ্রীমঙ্গল, তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি
সংগ্রাম দত্ত: সারা দেশের মতো শ্রীমঙ্গলেও জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে চায়ের রাজধানী ও পর্যটন নগরী, দেশ-বিদেশে পরিচিত কসমোপলিটন শহর শ্রীমঙ্গল। ভোরের আলো ফোটার আগেই হিমেল হাওয়ার তীব্রতায় নিঃশব্দ হয়ে পড়ে পুরো জনপদ, বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে স্বাভাবিক জনজীবন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলের সর্বনিম্ন। শীতের এমন দাপটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল, দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ।
শ্রীমঙ্গল যেন শীতকে অন্যভাবেই অনুভব করে। চারদিকে হাওর, পাহাড়, বনাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ চা বাগানঘেরা এই উপজেলা ভৌগোলিকভাবেই শীতপ্রবণ। টিলা ও উঁচু পাহাড়ি বনাঞ্চল রাতে দ্রুত তাপ বিকিরণ ঘটায়, ফলে সূর্যাস্তের পরপরই তাপমাত্রা দ্রুত নেমে যায়। দিনের বেলায়ও ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না। গত এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা মিলছে খুব কম—ক্ষণিকের জন্য উঁকি দিলেও দ্রুতই তা কুয়াশার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে।

এ অঞ্চলের হাওর ও জলাভূমিও শীতের তীব্রতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে। জলাভূমির ওপর দিয়ে বয়ে আসা ঠান্ডা বাতাস ও রাতভর জমে থাকা আর্দ্রতা মিলেমিশে সৃষ্টি করছে ঘন কুয়াশা। সন্ধ্যা নামলেই চা বাগান ও হাওর এলাকা ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশার চাদরে। ভোর পর্যন্ত সেই কুয়াশা না কাটায় রাস্তা-ঘাটে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে পড়ছে, দুর্ভোগে পড়ছে যানবাহন চলাচল।

চা বাগান অধ্যুষিত শ্রীমঙ্গলে খোলা বিস্তীর্ণ ভূমি ও সারি সারি গাছের ফাঁক দিয়ে শীতল বাতাস বাধাহীনভাবে প্রবাহিত হয়। ফলে শীতের কামড় এখানে তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়। পাহাড় ও বনাঞ্চল দিনে যেমন সূর্যের আলো আংশিকভাবে আটকে দেয়, রাতে তেমনি ঠান্ডা বাতাস ধরে রেখে দীর্ঘ সময় তাপমাত্রা নিচে নামিয়ে রাখে। এসব প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য মিলেই শ্রীমঙ্গলকে দেশের অন্যতম শীতল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত করেছে।

এই শীত সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে শ্রমজীবী মানুষ, চা শ্রমিক ও পথশিশুদের জন্য। ভোরের কনকনে ঠান্ডায় কাজে বের হতে গিয়ে তারা পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। অনেককে দেখা যাচ্ছে আগুন জ্বালিয়ে কিংবা পুরনো ও পাতলা কাপড় গায়ে জড়িয়ে কোনোমতে দিন পার করতে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে শ্রীমঙ্গল একটি শীতলতম স্থান হিসেবে পরিচিত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৪ সালে এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর চার বছর পর, ১৯৬৮ সালে সেই রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা নেমে আসে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে—যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বনিম্ন।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের জন্য খ্যাত শ্রীমঙ্গল শীতে হয়ে ওঠে আরও নিঃশব্দ ও স্থির। কুয়াশায় মোড়া চা বাগান, পাহাড়ি বন আর হাওরের জলরাশি একদিকে যেমন সৃষ্টি করে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, অন্যদিকে তেমনি এই ৭ ডিগ্রির শীত মানুষের জীবনে ডেকে আনছে কঠিন বাস্তবতা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বন্যার কবলে অর্ধলক্ষাধিক লোক

প্রকাশিত :  ১৬:৫৮, ১১ জুলাই ২০২৬

এক টানা বৃষ্টির ফলে উজানের ঢলে নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২২টি ইউনিয়ন এখনো প্লাবিত হয়ে আছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১১ হাজারের বেশি পরিবার। এতে অর্ধ লক্ষাধিক লোক বন্যার কবলে পড়েছেন।

এই দুই জেলায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয় সংকট।

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর দুটি স্থানে পানি প্রবেশ করায় সদর, বানিয়াচং ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে কালিগঞ্জ-চরহামুয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে এবং রাধাপুর এলাকায় নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে। এতে নোয়াবাদ, চরহামুয়া, কালিগঞ্জ, যাদবপুর, বনগাঁওসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ছয় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। পানি বৃদ্ধির কারণে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, খোয়াই নদীর দুটি স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। প্রবল স্রোতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ওয়ারল্যাস অপারেটর মো. নুর উদ্দিন বলেন, জেলার তিনটি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ৬ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা আক্রান্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও এক হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় এক হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজারেও মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে জেলা সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মনু নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙনকবলিত অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।

বন্যা পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজারের রাজনগরে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরফ মিয়া শুক্রবার বিকেলে বন্যার পানিতে আটকা পড়ে মারা যান। পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেলেও তিনি ঘরে থেকে যান।

মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকতা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এ পর্যন্ত চারটি উপজেলার ৪ হাজার ১৭৫টি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। পানি কমলে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যাবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর