img

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার, যুবলীগ নেতার স্ত্রীসহ আটক ২

প্রকাশিত :  ০৭:১৮, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২২, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার, যুবলীগ নেতার স্ত্রীসহ আটক ২

বরগুনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার হলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার অভিযোগে এক যুবলীগ নেতার স্ত্রীসহ দুইজন পরীক্ষার্থীকে পুলিশ আটক করেছে।

গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে বরগুনা শহরের পৃথক দুটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। 

আটককৃতরা হলেন, বরগুনা সরকারি কলেজ কেন্দ্রের ৩০২ নম্বর কক্ষের পরীক্ষার্থী, যুবলীগ নেতার স্ত্রী ইয়ামনি এবং আইডিয়াল কলেজ কেন্দ্রের ১০৭ নম্বর কক্ষের পরীক্ষার্থী রাসেল মিয়া। 

ইয়ামনি যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন রাসেলের স্ত্রী। যুবলীগ নেতার স্ত্রীর নিকট থেকে কমিউনিকেটিভ ইলেকট্রনিক ডিভাইস (মাস্টার কার্ড) একটি পিন ও সিম উদ্ধার করা হয়। রাসেল মিয়ার নিকট থেকে স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। 

জানা যায়, ইয়ামনি পরীক্ষা দেওয়ার সময় তার গতিবিধি সন্দেহজনক হলে তার কাছ থেকে একটি কমিউনিকেটিভ ইলেকট্রনিক ডিভাইস (মাস্টার কার্ড) ও কান থেকে একটি ডিভাইস ও রাসেল মিয়ার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

বরগুনা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) থেকে প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই অংশ হিসাবে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ দুই পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। 

তিনি আরও জানান, আটক রাসেল মিয়াকে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর আরিফ চৌধুরী ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। অপর পরীক্ষার্থী ইয়ামনির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। 

একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, আটক ইয়ামনি একজন টিকটকার। তার স্বামী অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন রাসেল বরগুনা সদর উপজেলার আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক। তিনি দক্ষিণ ইটবাড়িয়া গ্রামের আবদুস সালাম মহরীর বড় ছেলে। ইয়ামনির স্বামী ইসমাইল হোসেন রাসেল ৫ দিন আগে পৌরসভার মাইঠা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ডিভাইস চালানোর কক্ষ দেখতে যায়। 

আরও জানা যায়, বরগুনায় ২০ থেকে ৩০ পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে নিয়েছেন। 

মিরাজ নামের এক পরীক্ষর্থী জানান, ডিভাইস উদ্ধার করা বড় কিছু নয়। এই চক্রের পিছনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত ছিল তাদের ধরতে হবে। ইয়ামনির স্বামী ইসমাইল হোসেন রাসেলকে গ্রেফতার করলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র ধরা পড়বে। 

অপর এক পরীক্ষার্থী বাইজিদ জানান, শুক্রবার কতগুলো ডিভাইস পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যবহার হয়েছে তা খুঁজে বের করতে হবে। যারা ধরা পড়েনি তাদের গ্রেফতার করে পরীক্ষার খাতা বাতিল করতে হবে। ইয়ামনির স্বামী ইসমাইল হোসেন রাসেল সব কিছু জানেন। তার মাধ্যমে ডিভাইস বিক্রি হয়েছে। ইয়ামনির স্বামী কার কাছ থেকে ডিভাইস ক্রয় করছেন তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। 

বরগুনার এক পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইয়ামনির স্বামী আওয়ামী লীগের শাসন আমলে যুবলীগের নেতা বনে যায়। এ সময় ডিসি অফিসের নাজির তানসেন তার বন্ধু হওয়ার সুযোগে অর্থবিত্তে ফুলে উঠে। তানসেন নাজিরকে তিন লাখ টাকার মোটরসাইকেল উপহার দিয়ে ভাইরাল করে। এই ডিভাইস কর্মে নাজিরও জড়িত থাকতে পারেন। এক নারীর পক্ষে ডিভাইস ক্রয় করার যৌক্তিকতা নেই। ২০২১ সালেও প্রাইমারী নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইসসহ দুই নারী পরীক্ষার্থী ধরা পড়েন। 

এ ঘটনার পরে ইয়ামনির স্বামীকে থানার সামনে তদবির করতে দেখা গেলেও এখন তার ফোন বন্ধ থাকার কারণে যোগাযোগ করা যায়নি।

বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু জাফর মোহাম্মদ ছালেহ বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিভাইস ও স্মার্টফোন ব্যবহার করায় একজনকে সাত দিনের কারাদণ্ড ও অপরজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। 

কেন্দ্রে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করায় রাসেল মিয়া নামের একজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

বরগুনা জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও স্মার্টফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ । যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়া হয়েছে।  

শিক্ষা এর আরও খবর

img

বাজেট ২০২৬-২৭: স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে মেয়েদের পড়াশোনা

প্রকাশিত :  ১০:০১, ১১ জুন ২০২৬

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বড় ধরনের সংস্কার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনার নিয়েছে । এরই আওতায় বাজেটে নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহের উদ্যোগ এবং প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থাও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাজেটে অগ্রাধিকার খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম শিক্ষা, যেখানে কারিকুলাম সংস্কার থেকে শুরু করে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলারও নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি হবে বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট, যার সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারা দেশে ধাপে ধাপে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থাও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চাসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

এছাড়া বাজেটে শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে একাধিক নতুন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের রূপান্তর আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের ওপর জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে শিক্ষার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চাপমুক্ত ও আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে।

ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মানসহ একাধিক তৃতীয় ভাষা শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা এবং সেসব দেশে উচ্চশিক্ষায় গমনেচ্ছুদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


শিক্ষা এর আরও খবর