img

কী কারণে ভাঙছে তাহসান-রোজার সংসার

প্রকাশিত :  ১১:১৮, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

কী কারণে ভাঙছে তাহসান-রোজার সংসার

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান এবং তার স্ত্রী রোজা আহমেদের দাম্পত্য ভাঙনের খবরে আলোচনা-সমালোচনায় মুখর বিনোদন অঙ্গন। গত বছরের শুরুতেই দম্পতির বিয়ের খবর প্রকাশ পায় এবং ভক্তরা আনন্দে ভেসে যান। তবে বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এই যাত্রার ইতি ঘটল। বিষয়টি বেশ চমকে দিয়েছে দুজনের অনুরাগী ও শোবিজের মানুষদের।

জানা গেছে, গত বছরের জুলাই থেকে আলাদা থাকছেন তাহসান ও রোজা। গত বছরের শেষদিকে তাহসান নিজেই ডিভোর্সের জন্য আবেদন করেন। বিচ্ছেদের আবেদন কার্যকর হবে মাস তিনেক পর। অর্থাৎ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেকী এমন জটিলতা তৈরি হলো তাহসান ও রোজার মধ্যে? কেন ভেঙে যাচ্ছে তাদের সংসার? সেই কারণ খুঁজছেন সবাই।

দুজনের পক্ষ থেকেই এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো অভিযোগ বা নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। তবু সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ও বাস্তব প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে তাদের সংসার ভাঙার কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ সামনে আসে।

প্রথমত, দূরত্ব ও জীবনযাপনের পার্থক্য। তাহসান দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন পড়াশোনা ও কাজের সূত্রে। অন্যদিকে রোজা ছিলেন নিজের কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত পরিসরে ব্যস্ত। দীর্ঘ সময় আলাদা দেশে থাকা দম্পতিদের সম্পর্কে মানসিক দূরত্ব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও দৈনন্দিন জীবনের ভাগাভাগি না থাকলে সম্পর্ক চাপের মুখে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, সেটাই হয়েছে এই নবদম্পতির ক্ষেত্রে।

দ্বিতীয়ত, পেশাগত চাপ ও ব্যস্ততা। তাহসান একজন সক্রিয় শিল্পী। গান, কনসার্ট, টিভি উপস্থিতি ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা সব মিলিয়ে তার সময়সূচি বরাবরই ব্যস্ত। অপরদিকে রোজাও নিজস্ব ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত পরিকল্পনায় মনোযোগী ছিলেন। দুইজনের জীবনযাত্রার গতি এক না হলে সম্পর্কে ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

তৃতীয়ত, তারকাজীবনের অতিরিক্ত জনদৃষ্টি। তাহসানের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই জনআলোচনার কেন্দ্রে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গুঞ্জন ও অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা এসব বিষয় অনেক সময় সম্পর্কের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে। একজন নন-শোবিজ পার্টনারের জন্য এই চাপ আরও বেশি হতে পারে।

চতুর্থত, সম্পর্কের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা। বিয়ে টিকিয়ে রাখতে দুজনের লক্ষ্য, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সামঞ্জস্য প্রয়োজন। সময়ের সঙ্গে সেই জায়গাগুলোতে মতপার্থক্য তৈরি হলে বিচ্ছেদই শেষ পরিণতি হতে পারে।

পঞ্চম, বয়সের গ্যাপ থেকে মানসিক দূরত্ব দূর না হওয়াও তাহসান-রোজার বিচ্ছেদের একটা কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। ৪৬ বছর বয়সী তাহসানের সঙ্গে রোজার বয়সের পার্থকী ১২ বছরেরও বেশি বলে শোনা যায়। দুই প্রজন্মের দুজন নারী পুরুষ ভালোবেসে একসঙ্গে বাস করার চ্যালেঞ্জ নিলেও সেটা তারা জয় করতে পারেননি।

ষষ্ট, সবচেয়ে মজবুত কারণ হিসেবে শোবিজে উড়ে বেড়াচ্ছে এই গুঞ্জনটি। তাহাসানের ঘনিষ্ঠ কিছু সূত্রের মতে মেয়ে আইরা তাহরিম খানের জন্যই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কারণ, আইরাকে কেন্দ্র করে মিথিলার সাথে যোগাযোগ মেনে নিতে পারছিলেন না রোজা আহমেদ। সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরে বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছেন তাহসান।

তবে বিচ্ছেদের পেছনে চূড়ান্ত কারণ বা সত্য জানেন কেবল তাহসান ও রোজাই। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল অবস্থান। তাই দুজনের এই সিদ্ধান্ত ও নতুন জীবনের জন্য রইলো শুভমানা।

বিনোদন এর আরও খবর

img

‘বিয়ে না করলেও সমস্যা নেই’, মেয়েকে নিয়ে কিয়ারার স্পষ্ট বার্তা

প্রকাশিত :  ১৬:৫৫, ১৭ মে ২০২৬

মেয়ে সারায়াহর ভবিষ্যৎ এবং সম্পর্ক নিয়ে নিজের খোলামেলা দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেনব লিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি। 

সম্প্রতি রাজ শামানীর পডকাস্টে অংশ নিয়ে এই অভিনেত্রী জানান, বড় হয়ে তার মেয়ে কেমন জীবন বেছে নেবে, তা সম্পূর্ণ মেয়ের ইচ্ছার ওপরই নির্ভর করবে। কিয়ারা চান না তার মেয়ে কোনো সামাজিক বা মানসিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে বড় হোক। বর্তমানে এই অভিনেত্রীর মেয়ের বয়স ১০ মাস। 

পডকাস্টে কিয়ারা জানান, তিনি কখনোই চান না তার মেয়ে মনে করুক যে তাকে কেবল একজন মানুষের সঙ্গেই প্রেম করতে হবে এবং তাকেই বিয়ে করতে হবে। তিনি তার মেয়েকে একটি স্বাধীন ও পরিপূর্ণ জীবন দিতে চান। এমনকি সারায়াহ যদি ভবিষ্যতে বিয়ে করতে না-ও চায়, মা হিসেবে কিয়ারা তাতে সম্পূর্ণ সমর্থন জানাবেন। 

সাক্ষাৎকারে কিয়ারা বলেন, ‘আমি চাই ও একটি পরিপূর্ণ জীবন দেখুক। আমি চাই না ও ভাবুক যে তাকে কেবল একজন মানুষের সঙ্গেই ডেট করতে হবে... এখানে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ও যদি বিয়ে করতে চায়, করবে; আর যদি না করতে চায়, তবে করবে না।’ 

নিজের অতীত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে কিয়ারা স্বীকার করেন যে, তরুণ বয়সে তিনি যার সঙ্গেই সম্পর্কে জড়িয়েছেন, তাকেই বিয়ে করবেন বলে ভাবতেন। তবে জীবন সব সময় মনের মতো চলে না। 

বর্তমান জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জীবন আসলে ওভাবে চলে না। আর সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে জীবন ওভাবে চলেনি, কারণ ঈশ্বর আমার জীবনের চূড়ান্ত সঙ্গী হিসেবে যাকে (সিদ্ধার্থ মালহোত্রা) বেছে নিয়েছেন, তাকে নিয়ে আমি অত্যন্ত সুখী। 

তবে বড় হওয়ার দিনগুলোতে আপনি যেসব সম্পর্কের মধ্য দিয়ে যান, সেগুলো আপনাকে কিছু না কিছু শেখায়। অবশেষে সেগুলোই আপনাকে একজন পরিপক্ক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।’ 

সূত্র: নিউজ১৮