হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী আগুন পোহানোর উৎস
প্রতিনিধি: শ্রীমঙ্গল: পৌষ মাস এলেই এক সময় শ্রীমঙ্গলে শুরু হতো এক বিশেষ ব্যস্ততা। সংক্রান্তির কিছু দিন আগে থেকেই পরিবারগুলো ভেড়াভেড়ির ঘর তৈরির প্রস্তুতি শুরু করত। হাওর থেকে খড়, বাজার থেকে মুলি বাঁশ ও রশি সংগ্রহ করা হতো, আর বিশেষ দিনটির জন্য সংরক্ষণ করা হতো যত্নসহকারে।
সংক্রান্তির আগের রাতে খড়, বাঁশ ও রশি দিয়ে ভেড়াভেরির ঘর বানানো হতো। রাতের খাবার সেই ঘরেই রান্না করে সবাই মিলে খেতো, আর ভোরে স্নানের পর ঘরে আগুন জ্বালিয়ে আগুন পোহানো হতো।
সকালের উৎসবকালীন নগর কীর্ত্তনে থাকত বাতাসা, কদমা, কমলা, আপেল, আনারস, নারকেল, কলা, খিড়া, তিলের নাড়ু, মিষ্টি ও নানা ফলসহ পূজার নৈবেদ্য। ঘোরাঘুরি, হাসি-আড্ডা আর উৎসবের আনন্দ মিলিয়ে এক অনাবিল শৈশবের ছবি গড়ে উঠত।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক প্রাচীন রীতি বিলুপ্তির পথে। এখনও কিছু পরিবার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। তারা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে একত্রিত হয়ে রান্না করে, স্মৃতির আলোয় পুরোনো দিনগুলোকে ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি)ও শ্রীমঙ্গলের এক পরিবার একত্রিত হয়ে রান্না ও আগুন পোহানোর মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যটি আবার জীবন্ত রাখার চেষ্টা করবে। সময়কে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে ঐতিহ্য ও স্মৃতির উষ্ণতা সংরক্ষণ করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এখনও কিছু পরিবার এই উৎসব পালন করলেও, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি এখন প্রায় অবলুপ্তির পথে।



















