img

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী আগুন পোহানোর উৎস

প্রকাশিত :  ০৯:৩১, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী আগুন পোহানোর উৎস

প্রতিনিধি: শ্রীমঙ্গল: পৌষ মাস এলেই এক সময় শ্রীমঙ্গলে শুরু হতো এক বিশেষ ব্যস্ততা। সংক্রান্তির কিছু দিন আগে থেকেই পরিবারগুলো ভেড়াভেড়ির ঘর তৈরির প্রস্তুতি শুরু করত। হাওর থেকে খড়, বাজার থেকে মুলি বাঁশ ও রশি সংগ্রহ করা হতো, আর বিশেষ দিনটির জন্য সংরক্ষণ করা হতো যত্নসহকারে।

সংক্রান্তির আগের রাতে খড়, বাঁশ ও রশি দিয়ে ভেড়াভেরির ঘর বানানো হতো। রাতের খাবার সেই ঘরেই রান্না করে সবাই মিলে খেতো, আর ভোরে স্নানের পর ঘরে আগুন জ্বালিয়ে আগুন পোহানো হতো।

সকালের উৎসবকালীন নগর কীর্ত্তনে থাকত বাতাসা, কদমা, কমলা, আপেল, আনারস, নারকেল, কলা, খিড়া, তিলের নাড়ু, মিষ্টি ও নানা ফলসহ পূজার নৈবেদ্য। ঘোরাঘুরি, হাসি-আড্ডা আর উৎসবের আনন্দ মিলিয়ে এক অনাবিল শৈশবের ছবি গড়ে উঠত।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক প্রাচীন রীতি বিলুপ্তির পথে। এখনও কিছু পরিবার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। তারা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে একত্রিত হয়ে রান্না করে, স্মৃতির আলোয় পুরোনো দিনগুলোকে ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি)ও শ্রীমঙ্গলের এক পরিবার একত্রিত হয়ে রান্না ও আগুন পোহানোর মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যটি আবার জীবন্ত রাখার চেষ্টা করবে। সময়কে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে ঐতিহ্য ও স্মৃতির উষ্ণতা সংরক্ষণ করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এখনও কিছু পরিবার এই উৎসব পালন করলেও, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি এখন প্রায় অবলুপ্তির পথে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বন্যার কবলে অর্ধলক্ষাধিক লোক

প্রকাশিত :  ১৬:৫৮, ১১ জুলাই ২০২৬

এক টানা বৃষ্টির ফলে উজানের ঢলে নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২২টি ইউনিয়ন এখনো প্লাবিত হয়ে আছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১১ হাজারের বেশি পরিবার। এতে অর্ধ লক্ষাধিক লোক বন্যার কবলে পড়েছেন।

এই দুই জেলায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয় সংকট।

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর দুটি স্থানে পানি প্রবেশ করায় সদর, বানিয়াচং ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে কালিগঞ্জ-চরহামুয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে এবং রাধাপুর এলাকায় নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে। এতে নোয়াবাদ, চরহামুয়া, কালিগঞ্জ, যাদবপুর, বনগাঁওসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ছয় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। পানি বৃদ্ধির কারণে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, খোয়াই নদীর দুটি স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। প্রবল স্রোতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ওয়ারল্যাস অপারেটর মো. নুর উদ্দিন বলেন, জেলার তিনটি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ৬ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা আক্রান্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও এক হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় এক হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজারেও মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে জেলা সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মনু নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙনকবলিত অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।

বন্যা পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজারের রাজনগরে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরফ মিয়া শুক্রবার বিকেলে বন্যার পানিতে আটকা পড়ে মারা যান। পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেলেও তিনি ঘরে থেকে যান।

মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকতা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এ পর্যন্ত চারটি উপজেলার ৪ হাজার ১৭৫টি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। পানি কমলে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যাবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর