img

ইরান বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ০৪:৪৯, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৪১, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ইরান বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে সরকারবিরোধী গণআন্দোলন দমনে যদি কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর করতে শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে। মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “তারা যদি এমন কিছু করে, আমরা খুব শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাব।” বুধবার থেকে ফাঁসি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।

অনলাইনে প্রকাশিত এক ভিডিও ক্লিপে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা শুরু করেছে।

আর এখন ফাঁসির বলছে। তাহলে দেখা যাক, এর পরিণতি তাদের জন্য কেমন হয়।’ এই সাক্ষাৎকারের সময় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য মিশিগানে ছিলেন। সেখানে তিনি একটি উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেন এবং অর্থনীতি নিয়ে ভাষণ দেন।

ভাষণে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আগের বার্তার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ইরানের বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘সহায়তা আসছে’। তিনি আরো বলেন, ইরানে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা কত—তা এখনো স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি নানা সংখ্যা শুনছি। দেখুন, একটি মৃত্যুও অনেক বেশি।

কিন্তু কোথাও কম সংখ্যা শুনছি, আবার কোথাও অনেক বেশি।’

পরে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, তিনি শিগগিরই ইরান পরিস্থিতি নিয়ে একটি ব্রিফিং পাবেন। তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের মাত্রা বড় বলেই মনে হচ্ছে, তবে এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না। ২০ মিনিটের মধ্যেই জানব—এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’ এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীরা নিহত হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে—যে সীমা ইতোমধ্যেই কয়েক দিন আগে অতিক্রম করা হয়েছে।

নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) মঙ্গলবার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩৪ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করতে পারে—এমন আশঙ্কাও বেড়েছে। 

তেহরানের কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে গ্রেপ্তার কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘মোহারেবেহ’ বা ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য মামলা করা হবে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভিন্নমত দমন ও ভীতি সৃষ্টির জন্য কর্তৃপক্ষ আবারও দ্রুত বিচার ও নির্বিচার মৃত্যুদণ্ডের পথে হাঁটতে পারে—এমন উদ্বেগ বাড়ছে।’

আইএইচআর বিশেষভাবে এরফান সোলতানি (২৬) নামের এক যুবকের মামলার কথা উল্লেখ করেছে। গত সপ্তাহে তেহরানের উপশহর কারাজে গ্রেপ্তার হওয়া সোলতানিকে ইতোমধ্যেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে তার পরিবারের একটি সূত্র জানিয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, তাকে বুধবারের মধ্যেই ফাঁসি দেওয়া হতে পারে।

সূত্র : আলঅ্যারাবিয়া। 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মার্কিন রাস্তা থেকে ভারতীয়দের সরে যেতে বললেন ট্রাম্প!

প্রকাশিত :  ১০:৫৭, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন একটি প্রচারণামূলক পোস্টারে অভিবাসীদের ‘নিজেদের দেশে ফিরে যান, নতুবা পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন’—এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে অনলাইনে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সিরিজ ‘ট্রান্সফর্মার্স’-এর আদলে তৈরি ওই পোস্টারে ‘মি. সিং’ নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের নিশানা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পোস্টারটিতে সরাসরি বলা হয়েছে, ‘আমাদের রাস্তা থেকে সরে যান। মি. সিং, আপনি কীভাবে গাড়ি চালাতে হয় তা জানেন না।’ ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন নীতির সময়ে সামনে এসেছে, যা নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজস্ব অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে বিতর্কিত পোস্টারটির সমর্থনে বার্তা দিয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ স্পষ্ট করেছে, দেশে শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব নিয়ে প্রবেশকারীদের প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনে অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত একটি হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন বিষয়টিকে অন্যায্য জাতিগত প্রোফাইলিং হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং এফবিআই কর্তৃক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ফ্রাঞ্চাইজিটির পরিবেশক প্যারামাউন্ট পিকচার্সকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে।

বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে ফক্স সেভেন নিউজের সংবাদ পাঠাক অ্যালেক নোলাও এটিকে সিং পদবিধারী মানুষদের জন্য অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি তার দাদা ও প্রপিতামহের যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজীবনের ঐতিহাসিক কথা উল্লেখ করে সরকারের এ ধরনের পোস্টারকে বর্ণবাদী ও নিচু মানসিকতার পরিচয় বলে অভিহিত করেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই উদ্যোগটি মূলত তাদের ‘সিবিপি হোম’ কর্মসূচির প্রচারণার অংশ, যার অধীনে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে ইচ্ছুক অবৈধ অভিবাসীদের যাত্রা খরচ এবং অতিরিক্ত দুই হাজার ছয়শত ডলার দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: টাইমস নাউ

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর