img

কাতারের উদেইদ ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ১২:২০, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

কাতারের উদেইদ ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যের কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ সেনা ঘাঁটি ছেড়ে যাওয়ার জন্য সেখানকার মার্কিন সেনা সদস্যদের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ওই ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার সেনা রয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যার মাঝে মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে বলে কূটনীতিকদের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বার্তা সংস্থাটি তিনজন মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা জানিয়েছেন, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে—ওয়াশিংটনের এমন সতর্কবার্তার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দোহায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও রয়টার্সকে সাড়া দেয়নি।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা শুরু করার এক সপ্তাহেরও বেশি আগে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে কিছু কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নিয়েছিল। জুনে যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার পর কাতারে অবস্থিত ঘাঁটিটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানলে হরমুজ বন্ধ, আলোচনাতেও ‘না’ ইরানের

প্রকাশিত :  ০৬:১৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১৮, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্র শর্ত পূরণ না করলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না এবং দেশটির সঙ্গে আগের আলোচনার কাঠামোতেও ফিরবে না ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ কথা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তার এই বক্তব্য সামনে এলো।

এএনআই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গালিবাফ জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের দাবিগুলো জানানো হয়েছে। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তেহরান অবস্থান পরিবর্তন করবে না। তিনি বলেন, ইরানের জনগণের অধিকার স্বীকার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করাসহ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

এর আগে এসব শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের আলোচনার কাঠামোয় ফেরার সুযোগ নেই। একই কারণে হরমুজ প্রণালিও খোলার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই পথে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কমে গেলে বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

গালিবাফের বক্তব্যের আগে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সামরিক অভিযান না চালানোর সতর্কতা দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান চালালে এর জবাব দেওয়া হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে পুরো অঞ্চলে থাকা দেশটির সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।

ইরানি সামরিক কমান্ড এই হামলাকে ‘অবিরাম, কার্যকর ও বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেছে। ইরান একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে সহায়তা না করার জন্য সতর্ক করেছে। তেহরান বলেছে, কোনো দেশ যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে সেই দেশকেও অভিযানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করার অংশ হিসেবে ১০৯টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড। কেন্দ্রীয় কমান্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী এসব জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজের প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করার অভিযান আবার শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত ১৪ জুলাই থেকে এই কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পক্ষ। ইরান তাদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড পরিবর্তন না করলে দেশটিকে বড় ধরনের পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়ে তিনি আগ্রহী হতে পারেন। এতে একদিকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

এর আগে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই জানিয়েছিলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় সংঘাত বন্ধের জন্য তেহরানের শর্তগুলো জানানো হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড় করা এবং ইরানের ওপর নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। তবে এসব শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সমঝোতার কথা জানানো হয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। এই সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ এবং সামরিক হামলার পাল্টা হুমকিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ বা বৈঠক হয় কি না, সেদিকেও এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর