img

শেখ হাসিনার সাথে ৫ ঘন্টার বৈঠক শেষে যা বললেন যুক্তরাজ্য আ.লীগের নেতারা

প্রকাশিত :  ০৬:৪৯, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫৩, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

 শেখ হাসিনার সাথে ৫ ঘন্টার বৈঠক শেষে যা বললেন যুক্তরাজ্য আ.লীগের নেতারা

গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থান করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এমনেটে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের এক নেতা।

লন্ডন থেকে যাওয়া যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা ২১ জানুয়ারি দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ওই নেতা বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎকালে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেছি। পুরো সময়টি তিনি আমাদের দিয়েছেন।শেখ হাসিনাকে বেশ আত্মবিশ্বাসী ও প্রত্যয়ী মনে হয়েছে। শারীরিক কোনো অসুস্থতা তাঁর মধ্যে লক্ষিত হয়নি। তবে সামান্য একটু ওজন কমিয়েছেন বলে মনে হয়েছে।’

শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করা ৫ নেতা হলেন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান। ভারতে এক সপ্তাহের সফর শেষে ২৬ জানুয়ারি তারা লন্ডন ফিরেছেন।

শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসা আওয়ামী লীগ নেতাদের একজন বলেন, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। মোবাইলসহ কোনো ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর নিরাপত্তা যাচাই শেষে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের এই দলকে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে করে শেখ হাসিনার বসবাসরত বাড়িতে নেওয়া হয়।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ওই নেতা বলেন, ভারত সরকার দিল্লিতে একটি সুসজ্জিত নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে বিশাল প্রাসাদে শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে রেখেছে। শেখ হাসিনাকে সেবা ও সহায়তার জন্য সেখানে অনেকে কাজ করছেন। ওই বাসস্থানের নিরাপত্তাবলয়ও কয়েক স্তরে বিস্তৃত। শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা নিয়মিত বিরতিতে লন্ডন থেকে দিল্লিতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কিছুদিন অবস্থান করেন বলেও জানান তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি পাঠিয়ে নানা বিষয়ে তাঁর মতপ্রকাশ করেছেন। অনলাইনে বিভিন্ন মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। ২৩ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের একটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর রেকর্ড করা অডিও বক্তব্য শোনানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে কোথাও দেখা যায়নি। অনলাইন কোনো মাধ্যমে, ভিডিও কনফারেন্স বা কলেও তাঁকে দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগ যদি বাংলাদেশে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়, তাহলে শেখ হাসিনাকে আর নেতৃত্বে নাও দেখা যেতে পারে বলে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ বলেন, তাঁর মা ইতিমধ্যে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি দেশে ফিরতে চান এবং অবসর নিতে চান।

গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৫ বছরের বেশি সময় দেশ শাসন করেন। এই সময়ে দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ভিন্ন মতাবলম্বীদের কঠোরভাবে দমনের ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে। এ সময় সহিংসতায় আনুমানিক এক হাজার চারশ র বেশি মানুষ নিহত হয় বলে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওই আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া হত্যা, গুম, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অনেক মামলায় তাঁর বিচার চলছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

লন্ডনে বাংলাদেশি প্রবীণদের আবাসন বৈষম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা

img

হাউস অব লর্ডসে উন্মোচিত হলো ‘আমার বাড়ি, আমার জীবন’

প্রকাশিত :  ০৮:৪৭, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:২৯, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লন্ডন, ৫ ফেব্রুয়ারি: পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রবীণদের আবাসন বাস্তবতা নিয়ে পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদন “আমার বাড়ি, আমার জীবন” আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে লন্ডনের হাউস অব লর্ডসের চোলমন্ডেলি রুমে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লর্ড বেস্ট, OBE, DL। তিনি গবেষণাটিকে “অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, সুসংহত ও লক্ষ্যভিত্তিক” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এটি এমন একটি কাজ যা সিভিল সার্ভেন্ট ও মন্ত্রীদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, গবেষণাটি বাস্তব ও অর্থবহ পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

তিন বছরব্যাপী এই গবেষণাটি ভিভেনসা ফাউন্ডেশনের কমিশনে পরিচালিত হয় এবং এতে অংশীদার ছিল দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটি, বাংলা হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন এবং হাউজিং লার্নিং অ্যান্ড ইমপ্রুভমেন্ট নেটওয়ার্ক (Housing LIN)। গবেষণায় টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম, হ্যাকনি ও রেডব্রিজে বসবাসরত ৫০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী ৭৬ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষের পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

গবেষণাটি দেখিয়েছে, আজীবন চলমান আবাসন বৈষম্য বার্ধক্যে এসে আরও ঘনীভূত হয় এবং তা প্রবীণদের স্বাস্থ্য, সামাজিক কেয়ার, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামগ্রিক সুস্থতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। অংশগ্রহণকারী অনেক প্রবীণ এমন ঘরে বসবাস করছেন, যা তাদের বয়সজনিত শারীরিক সীমাবদ্ধতা, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা কিংবা চলাফেরার প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিশেষ করে সোশ্যাল হাউজিং ও প্রাইভেট ভাড়া বাসায় বসবাসকারীদের মধ্যে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, বাতাস চলাচলের অভাব এবং হিটিং সমস্যার বিষয়টি ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে। এসব কারণে শ্বাসকষ্ট, সংক্রমণ ও মানসিক অবসাদের ঝুঁকি বাড়ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ‘কার্যকরী অতিরিক্ত ভিড়’ বা জনাকীর্ণ বসবাস। অধিকাংশ বাসস্থান একক পরিবারের ধারণায় নির্মিত হলেও বাস্তবে অনেক বাংলাদেশি পরিবার যৌথ বা মাল্টি-জেনারেশনাল কাঠামোয় বসবাস করে। এর ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাব, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চায় বাধা তৈরি হচ্ছে।

অনেক প্রবীণ অভিযোগ করেছেন, কাউন্সিল বা বাড়িওয়ালার কাছে সহায়তা চাইলে তারা ধীর বা অনুপযুক্ত সাড়া পান। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেকেই শেষ পর্যন্ত আবেদন করা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযুক্ত পরিবেশেই তাদের বসবাস অব্যাহত থাকে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারের ওপর কেয়ারের চাপও বৃদ্ধি করে।

দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটির বার্ধক্য বিষয়ক সিনিয়র লেকচারার এবং গবেষণার প্রধান গবেষক মানিক গোপীনাথ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বয়স্ক বাংলাদেশি মানুষরা বার্ধক্য ও আবাসন–সংক্রান্ত গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে অদৃশ্য থেকেছেন। এই গবেষণা তাদের কণ্ঠকে কেন্দ্রে এনে দেখিয়েছে—বৈষম্য কেবল বিদ্যমান নয়, বরং তা প্রতিদিনের জীবনে কীভাবে অনুভূত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে আজীবন বঞ্চনার পরিণতি হিসেবে কীভাবে প্রকাশ পায়।”

বাংলা হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের সিইও বশির উদ্দিন বলেন, “গবেষণা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়। এটি একটি স্পষ্ট ‘কল টু অ্যাকশন’। বিদ্যমান ঘরগুলোকে বসবাসযোগ্য করে তুলতে প্রয়োজনীয় অভিযোজন নিশ্চিত করতে হবে এবং নতুন নির্মাণে বড় ও পরিবার–উপযোগী বাসস্থানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।”

গবেষণাটি নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কয়েকটি সুস্পষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে—জাতিগত ও বয়সভিত্তিক বিভাজিত আবাসন তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ, প্রবীণদের জন্য বাসায় বিশেষ সুবিধা সংযোজনের পথে বৈষম্যমূলক বাধা দূর করা, মাল্টি-জেনারেশনাল বসবাসকে বৈধ আবাসন পছন্দ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আবাসনকে স্বাস্থ্য ও সামাজিক কেয়ারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা।

গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে যে, ২০৫০ সালের আবাসনের প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যেই বিদ্যমান। ফলে বিদ্যমান বাসস্থানগুলোকে আরও নিরাপদ, প্রবেশগম্য ও বয়স-উপযোগী করে তোলা এখনই জরুরি। অন্যথায় আবাসন–সংক্রান্ত বৈষম্য ভবিষ্যতে জাতিগত, স্বাস্থ্য ও কেয়ার–সংক্রান্ত বৈষম্যকে আরও গভীর করবে।

সব মিলিয়ে,  ‘আমার বাড়ি, আমার জীবন’ শুধু একটি গবেষণা প্রতিবেদন নয়—এটি পূর্ব লন্ডনের প্রবীণ বাংলাদেশি কমিউনিটির জীবনসংগ্রামের এক মানবিক দলিল। গবেষণাটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে: উপযুক্ত আবাসন ছাড়া মর্যাদাপূর্ণ ও সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

কমিউনিটি এর আরও খবর