img

চ্যারিটি বোট রেইস ‘দ্য রেইস ফর হিউম্যানিটি’র ৫ম বার্ষিকির প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত :  ০৫:০৯, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:১৫, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চ্যারিটি বোট রেইস ‘দ্য রেইস ফর হিউম্যানিটি’র ৫ম বার্ষিকির প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

লন্ডনের চ্যারিটি বোট রেইস বা নৌকা বাইচ এখন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং সামাজিক ঐক্য ও আর্তমানবতার সেবায় একটি বড় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আগামী ১৪ জুন লন্ডনের রেগাট্টা সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চ্যারিটি বোট রেইস বা নৌকা বাইচ এর ৫ম আসর। এবারের আসরটি উৎসর্গ করা হয়েছে এই আয়োজনের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা মরহুম শায়খ ফাহিমুল আনামের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে।

‘দ্য রেইস ফর হিউম্যানিটি’ বা "মানবতার কল্যাণে নৌকা বাইচ" এই স্লোগানকে সামনে রেখে পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে চ্যারিটি বোট রেইস। সোমবার পূর্ব লন্ডনের সিইজি কমিউনিটি সেন্টারে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে এবারের আসরের আনুষ্ঠানিক লোগো ও বিস্তারিত কর্মসূচি উন্মোচন করা হয়।

গিফট ফাউন্ডেশন, সিস্টার্স ফোরাম এবং নিউহ্যাম ইউথ লিঙ্কের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই ইভেন্টটি এবার আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে আশা করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় থাকছে বিশেষ ৪টি ক্যাটাগরি, যার মধ্যে রয়েছে উপজেলা চ্যালেঞ্জ, সিস্টার্স রেইস বা নারীদের জন্য পৃথক প্রতিযোগিতা, মসজিদ চ্যালেঞ্জ এবং কমিউনিটি লিডার্স কাপ।

লঞ্চিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিকন ইনস্টিটিউট ও গিফট ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি শায়েখা সেলিনা। তিনি তাঁর প্রয়াত স্বামী শায়খ ফাহিমুল আনামের রেখে যাওয়া এই মহতী উদ্যোগকে এগিয়ে নেয়ার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

 আয়োজকদের প্রতিনিধি রশিদ আলী‌ বলেন, "এটি কেবল একটি নৌকা বাইচ নয়, এটি পরিবর্তনের একটি আন্দোলন। আমাদের প্রতিটি বৈঠার টান সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবন পরিবর্তনের জন্য। আমরা চাই পুরো কমিউনিটি এই মহৎ কাজে আমাদের সাথে যুক্ত হোক।"

এবারের আয়োজনে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে রিকশা রাইড, ক্যারাম বোর্ড প্রতিযোগিতা, ঐতিহ্যবাহী লুঙ্গি দৌড় এবং ফ্যামিলি পিকনিক জোন। এছাড়াও থাকবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও খাবারের স্টল।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের পার্টনার হিসেবে থাকছে ‘মুসলিম চ্যারিটি’। যে দলগুলো চ্যারিটি প্রজেক্টের জন্য অন্তত ২ হাজার পাউন্ড তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেবে, তাদের জন্য ৬০০ পাউন্ডের এন্ট্রি ফি মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি থাকছে ফ্রি ট্রেনিং সেশন। ইতিমধ্যে উপজেলা টিম সমূহ বাংলাদেশের ইসলামপুরে অবস্থিত বস্তির শিশুদের নিয়ে পরিচালিত স্কুলের জন্য তহবিল সংগ্রহে একমত হয়েছেন। অন্যদিকে, মসজিদ চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণকারীরা তাদের নিজ নিজ মসজিদের জন্য বিশেষ ছাড়ে তহবিল সংগ্রহ করতে পারবেন। 

সুস্থ জীবনধারা এবং সমাজসেবাকে উৎসাহিত করতে আয়োজক কমিটি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিবর্গকে স্পনসর হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৪ জুন রবিবারের এই আয়োজনকে ঘিরে এখন থেকেই শুরু হয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। উদ্যোক্তার আশা করছেন আর দেরি না করে শাহী করবেন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আগামী পঞ্চম নৌকা বাইচে অংশ নিতে আর দেরি না করে এখনই রেজিস্ট্রেশন করবেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর

লন্ডনে বাংলাদেশি প্রবীণদের আবাসন বৈষম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা

img

হাউস অব লর্ডসে উন্মোচিত হলো ‘আমার বাড়ি, আমার জীবন’

প্রকাশিত :  ০৮:৪৭, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:২৯, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লন্ডন, ৫ ফেব্রুয়ারি: পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রবীণদের আবাসন বাস্তবতা নিয়ে পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদন “আমার বাড়ি, আমার জীবন” আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে লন্ডনের হাউস অব লর্ডসের চোলমন্ডেলি রুমে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লর্ড বেস্ট, OBE, DL। তিনি গবেষণাটিকে “অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, সুসংহত ও লক্ষ্যভিত্তিক” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এটি এমন একটি কাজ যা সিভিল সার্ভেন্ট ও মন্ত্রীদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, গবেষণাটি বাস্তব ও অর্থবহ পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

তিন বছরব্যাপী এই গবেষণাটি ভিভেনসা ফাউন্ডেশনের কমিশনে পরিচালিত হয় এবং এতে অংশীদার ছিল দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটি, বাংলা হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন এবং হাউজিং লার্নিং অ্যান্ড ইমপ্রুভমেন্ট নেটওয়ার্ক (Housing LIN)। গবেষণায় টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম, হ্যাকনি ও রেডব্রিজে বসবাসরত ৫০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী ৭৬ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষের পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

গবেষণাটি দেখিয়েছে, আজীবন চলমান আবাসন বৈষম্য বার্ধক্যে এসে আরও ঘনীভূত হয় এবং তা প্রবীণদের স্বাস্থ্য, সামাজিক কেয়ার, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামগ্রিক সুস্থতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। অংশগ্রহণকারী অনেক প্রবীণ এমন ঘরে বসবাস করছেন, যা তাদের বয়সজনিত শারীরিক সীমাবদ্ধতা, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা কিংবা চলাফেরার প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিশেষ করে সোশ্যাল হাউজিং ও প্রাইভেট ভাড়া বাসায় বসবাসকারীদের মধ্যে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, বাতাস চলাচলের অভাব এবং হিটিং সমস্যার বিষয়টি ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে। এসব কারণে শ্বাসকষ্ট, সংক্রমণ ও মানসিক অবসাদের ঝুঁকি বাড়ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ‘কার্যকরী অতিরিক্ত ভিড়’ বা জনাকীর্ণ বসবাস। অধিকাংশ বাসস্থান একক পরিবারের ধারণায় নির্মিত হলেও বাস্তবে অনেক বাংলাদেশি পরিবার যৌথ বা মাল্টি-জেনারেশনাল কাঠামোয় বসবাস করে। এর ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাব, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চায় বাধা তৈরি হচ্ছে।

অনেক প্রবীণ অভিযোগ করেছেন, কাউন্সিল বা বাড়িওয়ালার কাছে সহায়তা চাইলে তারা ধীর বা অনুপযুক্ত সাড়া পান। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেকেই শেষ পর্যন্ত আবেদন করা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযুক্ত পরিবেশেই তাদের বসবাস অব্যাহত থাকে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারের ওপর কেয়ারের চাপও বৃদ্ধি করে।

দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটির বার্ধক্য বিষয়ক সিনিয়র লেকচারার এবং গবেষণার প্রধান গবেষক মানিক গোপীনাথ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বয়স্ক বাংলাদেশি মানুষরা বার্ধক্য ও আবাসন–সংক্রান্ত গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে অদৃশ্য থেকেছেন। এই গবেষণা তাদের কণ্ঠকে কেন্দ্রে এনে দেখিয়েছে—বৈষম্য কেবল বিদ্যমান নয়, বরং তা প্রতিদিনের জীবনে কীভাবে অনুভূত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে আজীবন বঞ্চনার পরিণতি হিসেবে কীভাবে প্রকাশ পায়।”

বাংলা হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের সিইও বশির উদ্দিন বলেন, “গবেষণা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়। এটি একটি স্পষ্ট ‘কল টু অ্যাকশন’। বিদ্যমান ঘরগুলোকে বসবাসযোগ্য করে তুলতে প্রয়োজনীয় অভিযোজন নিশ্চিত করতে হবে এবং নতুন নির্মাণে বড় ও পরিবার–উপযোগী বাসস্থানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।”

গবেষণাটি নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কয়েকটি সুস্পষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে—জাতিগত ও বয়সভিত্তিক বিভাজিত আবাসন তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ, প্রবীণদের জন্য বাসায় বিশেষ সুবিধা সংযোজনের পথে বৈষম্যমূলক বাধা দূর করা, মাল্টি-জেনারেশনাল বসবাসকে বৈধ আবাসন পছন্দ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আবাসনকে স্বাস্থ্য ও সামাজিক কেয়ারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা।

গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে যে, ২০৫০ সালের আবাসনের প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যেই বিদ্যমান। ফলে বিদ্যমান বাসস্থানগুলোকে আরও নিরাপদ, প্রবেশগম্য ও বয়স-উপযোগী করে তোলা এখনই জরুরি। অন্যথায় আবাসন–সংক্রান্ত বৈষম্য ভবিষ্যতে জাতিগত, স্বাস্থ্য ও কেয়ার–সংক্রান্ত বৈষম্যকে আরও গভীর করবে।

সব মিলিয়ে,  ‘আমার বাড়ি, আমার জীবন’ শুধু একটি গবেষণা প্রতিবেদন নয়—এটি পূর্ব লন্ডনের প্রবীণ বাংলাদেশি কমিউনিটির জীবনসংগ্রামের এক মানবিক দলিল। গবেষণাটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে: উপযুক্ত আবাসন ছাড়া মর্যাদাপূর্ণ ও সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

কমিউনিটি এর আরও খবর