img

হবিগঞ্জে গণ অধিকারের সভাপতিসহ ৩০০ নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান

প্রকাশিত :  ০৭:০১, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:০৪, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 হবিগঞ্জে গণ অধিকারের সভাপতিসহ ৩০০ নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান

হবিগঞ্জে জেলা গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি চৌধুরী আশরাফুল বারী (নোমান) প্রায় ৩০০ নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

সোমবার রাতে হবিগঞ্জ পৌর এলাকার অনন্তপুরে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমদের নির্বাচনী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁরা জামায়াতে যোগদান করেন।

চৌধুরী আশরাফুল বারী পেশায় আইনজীবী। তিনি হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে ও বিএনপির সঙ্গে জোটগত কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

গত রোববার গণ অধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন চৌধুরী আশরাফুল বারী। তখন তিনি বলেছিলেন, নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া ও দলের বর্তমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন করে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর পদত্যাগের পরই তিনি জামায়াতে যোগদান করছেন—এমন গুঞ্জন ছিল। এরপর গতকাল রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি জামায়াতে যোগ দেন। জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমান গণ অধিকার পরিষদের আশরাফুল বারীসহ নেতা-কর্মীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় জামায়াতের জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ বলেন, আশরাফুল বারী একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ নেতা-কর্মী জামায়াতে যোগদান করেছেন। এতে হবিগঞ্জে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে। আগামী দিনের রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মসূচিতে এ যোগদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

যোগদানকারীদের পক্ষ থেকে চৌধুরী আশরাফুল বারী বলেন, আদর্শভিত্তিক রাজনীতি ও দেশ গঠনের লক্ষ্যে তাঁরা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে খাটের নিচে ১৬ ফুটের বিশাল অজগর

প্রকাশিত :  ০৭:২৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৩৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: রাত তখন প্রায় ১২টা ১০ মিনিট। ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। হঠাৎ শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে ভেসে আসে অস্বাভাবিক শব্দ। কৌতূহল থেকে নিচে তাকাতেই চোখে পড়ে বিশাল আকৃতির একটি অজগর। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িতে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুর এলাকায় মিতালি ডেকোরেটার্সের মালিক মৃত হারুন মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা গিয়ে খাটের নিচ থেকে অজগরটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘুমাতে যাওয়ার সময় খাটের নিচ থেকে শব্দ শুনে তাঁরা প্রথমে বিষয়টি টের পান। পরে আলো জ্বালিয়ে নিচে তাকিয়ে বড় আকারের সাপটি দেখতে পান। বিষয়টি জানানো হয় চিকিৎসক প্রলাদ বাবুকে। রাত বেশি হওয়ায় তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাপটি উদ্ধারের অনুরোধ করেন।

খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। তখন তাঁরা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বাড়িতে পৌঁছে সতর্কতার সঙ্গে খাটের নিচ থেকে অজগরটি উদ্ধার করেন। পরে সেটি নিয়ে যাওয়া হয় শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ ফুট এবং ওজন প্রায় ২৬ কেজি।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গলের শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় লোকালয়ে একের পর এক সাপের উপস্থিতি দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন বাড়ি থেকে বিষধর সাপের পাশাপাশি বড় আকৃতির অজগরও উদ্ধার করা হয়েছে। কখনো খাটের নিচে, কখনো শোবার ঘরের সিলিংয়ে, আবার কখনো বসতবাড়ির বিভিন্ন স্থানে এসব সাপের সন্ধান মিলেছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে বড় আকারের অজগরসহ মোট ১৭টি বিষধর সাপ উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে বিষধর শঙ্খিনী ও পদ্ম গোখরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ছিল।

এভাবে বনাঞ্চল থেকে সাপ লোকালয়ে চলে আসার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। বিশেষ করে বসতঘরের ভেতরে কিংবা শোবার ঘরের মতো স্থানে বড় সাপের উপস্থিতি তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাড়ির আশপাশে সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে মারার চেষ্টা না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন বা সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর