img

সবুজে ফেরা সূচক, আস্থার হাওয়া কি টেকসই হবে?

প্রকাশিত :  ১১:৫৪, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সবুজে ফেরা সূচক, আস্থার হাওয়া কি টেকসই হবে?

✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ

টানা দোলাচলের পর আজ দেশের পুঁজিবাজারে যেন একটুখানি স্বস্তির নিঃশ্বাস। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (DSEX) দিনশেষে দাঁড়িয়েছে ৫৫৫৩.০৮ পয়েন্টে—উর্ধ্বমুখী ৮৫.২৩ পয়েন্ট বা ১.৫৬ শতাংশ। সঙ্গে ডিএসইএস (DSES) বেড়েছে ১.০৮ শতাংশ এবং ডিএসথার্টি (DS30) লাফিয়েছে ১.৫৮ শতাংশ। সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়; এর ভেতর লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের ক্লান্ত বিনিয়োগকারীদের কিছুটা ফিরে পাওয়া আত্মবিশ্বাসের গল্প।

লেনদেন ও বাজারের প্রস্থ: সবুজের প্রাধান্য

দিনজুড়ে লেনদেন হয়েছে ৭১৮.৫৭ কোটি টাকা; মোট লেনদেন হয়েছে ১,৫৭,২০৫টি। অগ্রগামী কোম্পানি ৩৪৬টি, বিপরীতে পতন মাত্র ১৮টিতে—যা বাজারের প্রস্থ (মার্কেট ব্রেডথ) স্পষ্টভাবেই ইতিবাচক বলে ইঙ্গিত করে। এত বড় ব্যবধানে অগ্রগতির সংখ্যা সাধারণত নির্দেশ করে যে উত্থানটি কেবল কয়েকটি বড় শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এতে বিস্তৃত অংশগ্রহণ রয়েছে।

চার্টে দেখা যায়, সকাল দশটার পর থেকে সূচক দ্রুত উপরে উঠেছে। মাঝদুপুরে সামান্য সংশোধন হলেও শেষ ঘণ্টায় আবার ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে। দিনশেষে উচ্চতার কাছাকাছি বন্ধ হওয়াকে টেকনিক্যাল বিশ্লেষণে শক্তিশালী ক্লোজিং হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ, বিক্রেতাদের চেয়ে ক্রেতাদের মনোবল ছিল বেশি।

কোন খাতে জোয়ার?

খাতভিত্তিক চিত্রে টেক্সটাইল, ইন্স্যুরেন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস ও ব্যাংকিং—এই কয়েকটি খাতেই সবুজের আধিপত্য বেশি। বিশেষ করে ব্যাংকিং ও ওষুধ খাতে লেনদেনের অংশ ছিল উল্লেখযোগ্য। বাজার মানচিত্রে (মার্কেট ম্যাপ) অধিকাংশ ঘরই সবুজ—যা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ব্যাপ্তি নির্দেশ করে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—উত্থানটি যদি ব্যাংকিং ও ব্লু-চিপ শেয়ারের সমর্থনে হয়, তাহলে তা তুলনামূলকভাবে টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আজকের চিত্র সে দিকেই ইঙ্গিত দেয়।

টেকনিক্যাল পাঠ: ৫৫৫০–৫৫৬০ অঞ্চলে পরীক্ষা

৫৫০০ পয়েন্টের মানসিক বাধা অতিক্রম করে সূচক ৫৫৫০–৫৫৬০ অঞ্চলে স্থির হয়েছে। এই অঞ্চলটি সম্প্রতি রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে কাজ করছিল। আগামীকাল যদি সূচক ৫৫৬০–৫৬০০ অঞ্চলের ওপরে টিকে থাকতে পারে, তাহলে স্বল্পমেয়াদে ৫৭০০ পয়েন্টের দিকে অগ্রযাত্রার পথ খুলতে পারে।

তবে সতর্ক থাকার জায়গাও আছে। টানা একদিনের শক্ত উত্থানের পর অনেক সময় মুনাফা তুলে নেওয়ার (প্রফিট টেকিং) প্রবণতা দেখা যায়। বিশেষ করে গত কয়েক দিনে যেসব শেয়ার দ্রুত বেড়েছে, সেগুলোর ওপর সাময়িক চাপ আসতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্ব: ভয়ের প্রাচীর ভাঙার শুরু?

গত কয়েক সপ্তাহের লাল প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মনে যে আতঙ্ক তৈরি করেছিল, আজকের উত্থান তা কিছুটা প্রশমিত করেছে। ৩৪৬টি শেয়ারের অগ্রগতি—এটি কেবল সংখ্যার খেলা নয়, বরং বাজারে \'ভয় থেকে লোভে\' (ফিয়ার টু গ্রিড) যাওয়ার মনস্তত্ত্বের সূক্ষ্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

তবে মনে রাখতে হবে, টেকসই বুলরান গড়ে উঠতে হলে ধারাবাহিকভাবে লেনদেন বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।

আগামীকাল কেমন যেতে পারে বাজার?

বর্তমান চার্ট ও বাজারের প্রস্থ বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য তিনটি দৃশ্যপট তুলে ধরা যেতে পারে—

১. ইতিবাচক ধারাবাহিকতা (সম্ভাবনা বেশি)

যদি ব্যাংকিং ও বড় মূলধনী শেয়ারগুলোতে ক্রয়চাপ অব্যাহত থাকে, তাহলে সূচক ৫৫৬০–৫৬০০ পয়েন্টের দিকে এগোতে পারে। লেনদেন ৭০০ কোটির ওপরে থাকলে এই গতি টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

 ২. সীমিত সংশোধন (স্বাভাবিক পরিস্থিতি)

সকালে কিছু মুনাফা তোলার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। সূচক ৫৫২০–৫৫৩০ অঞ্চলে নেমে এলে সেটি স্বাভাবিক টেকনিক্যাল পুলব্যাক হতে পারে। এই অঞ্চলে শক্ত সমর্থন থাকলে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

 ৩. হঠাৎ চাপ (সম্ভাবনা কম)

যদি লেনদেন কমে যায় এবং অগ্রগামী শেয়ারের সংখ্যা হ্রাস পায়, তাহলে সূচক আবার ৫৫০০-এর নিচে নেমে যেতে পারে। তবে বর্তমান বাজারপ্রস্থ (ব্রেডথ) অনুযায়ী এই সম্ভাবনা আপাতত কম।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা

এই মুহূর্তে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি অযথা আতঙ্কও অপ্রয়োজনীয়। ধাপে ধাপে বিনিয়োগ, মৌলভিত্তি শক্ত এমন কোম্পানি বাছাই এবং লেনদেনের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ—এগুলিই হতে পারে বুদ্ধিমানের কৌশল।

সব মিলিয়ে, আজকের সবুজ দিনটি হয়তো বড় উত্থানের সূচনা নয়, কিন্তু দীর্ঘ অন্ধকারের পর একটুখানি আলোর রেখা। এখন দেখার পালা—এই আলো কি আগামীকালও জ্বলবে, নাকি আবারও লাল ছায়ায় ঢেকে যাবে সূচক?

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ৫ কোম্পানি

প্রকাশিত :  ১৯:২৭, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২০:০৬, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোট ৫টি কোম্পানি তাদের পরিচালনা পর্ষদের সভার (বোর্ড সভা) তারিখ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিগুলো হলো- কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, শাহজীবাজার পাওয়ার কোম্পানি, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, ইউনিলিভার কনজুমার এবং এস্কোয়ার নিট কম্পোজিট।
কোম্পানিগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স এবং পিপলস ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরের নিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে।
একই সভায় পিপলস ইন্স্যুরেন্স ও ইউনিলিভার কনজুমার ৩১ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকের অনিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
এছাড়া, শাহজীবাজার পাওয়ার ও এস্কোয়ার নিট কম্পোজিট ৩১ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এই তথ্য প্রকাশ করে।

কোম্পানিগুলোর সভার তারিখ ও সময়

২০ এপ্রিল, ২০২৬ (সোমবার):
শাহজীবাজার পাওয়ার কোম্পানি: বিকেল ৩:০০ টায়
ইউনিলিভার কনজুমার: বিকেল ৪:০০ টায়

২৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার)
পিপলস ইন্স্যুরেন্স: বিকাল ৩:০০ টায়
কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স: বিকাল ৪:০০ টায়

২৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার)
এস্কোয়ার নিট কম্পোজিট: বিকেল ৩:০০ টায়