img

রয়্যাল মিন্ট গার্ডেনস এস্টেটে নতুন প্রাণের সঞ্চারঃ শিশুদের খেলার মাঠ ও আউটডোর জিম উদ্বোধন

প্রকাশিত :  ০০:২০, ০৩ মার্চ ২০২৬

রয়্যাল মিন্ট গার্ডেনস এস্টেটে নতুন প্রাণের সঞ্চারঃ শিশুদের খেলার মাঠ ও আউটডোর জিম উদ্বোধন

টাওয়ার হিলের রয়্যাল মিন্ট গার্ডেনস এস্টেটের বাসিন্দারা স্কুলের হাফ-টার্মের ছুটির দিনে এক আনন্দঘন সময় উপভোগ করেন। শিশুদের জন্য নতুন খেলার মাঠ, আউটডোর জিমের সরঞ্জাম, নতুন বসার ব্যবস্থা এবং উন্নত ল্যান্ডস্কেপিংসহ মূলধনী উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হওয়া উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিলো বিশেষ কমিউনিটি ফান ডে অনুষ্ঠানের।


২০২৪ সালের মে মাসে কাউন্সিল বাসিন্দাদের সঙ্গে পরামর্শ করে। এস্টেটের বাসিন্দারা জানান, তারা এলাকাটিকে আরও স্বাগতপূর্ণ ও ব্যবহারবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করতে চান। তাদের চাওয়ার মধ্যে ছিল শিশুদের জন্য দোলনা, স্লাইড, ক্লাইম্বিং ফ্রেমের মতো খেলার সরঞ্জাম এবং আউটডোর জিমের যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি, নতুন স্থানটি যেন সবাই আরাম করে উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য পিকনিক বেঞ্চ ও অতিরিক্ত বসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।


এই পরিবর্তন উদযাপন করতে একটি কমিউনিটি ফান ডে আয়োজন করা হয়, যেখানে শিশুদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম, খাবার এবং নতুন সুবিধাগুলো ব্যবহার করে দেখার সুযোগ ছিল। এটি ছিল একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলারও একটি সুযোগ।


টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কালচার এন্ড লেজার বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার, কাউন্সিলর কামরুল হোসেন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই ফান ডে—তে  বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগ দেন।




এই বিনিয়োগ সম্পর্কে মন্তব্যকালে মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এই উচ্চমানের নতুন সুবিধাগুলো এস্টেটের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। খেলাধুলা, সামাজিক সংযোগ এবং শারীরিক ব্যায়াম এখন বাসিন্দাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।” তিনি বলেন, “আমরা শুধু নতুন বাড়ি নির্মাণে অগ্রাধিকার দিচ্ছি না, বরং আমাদের বিদ্যমান এস্টেট ও কাউন্সিল হাউজিং উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা চাই টাওয়ার হ্যামলেটসের সব বাসিন্দা ভালো মানের, নিরাপদ বাসভবনে থাকুন এবং তাদের দোরগোড়ায় উন্নত কমিউনিটি সুবিধা উপভোগ করুন।”




কার্টরাইট স্ট্রিটে অবস্থিত রয়্যাল মিন্ট এস্টেট ঐতিহাসিক রয়্যাল মিন্টের পেছনে অবস্থিত এবং এর শিকড় টাওয়ার অব লন্ডনের প্রাচীন মুদ্রা তৈরির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এস্টেটটি নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, যার মধ্যে ইস্ট এন্ড ডুয়েলিংস কোম্পানির নির্মিত আবাসন প্রকল্পও রয়েছে, যা কার্টরাইট স্ট্রিটকে এস্টেটের সমৃদ্ধ ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিয়েছে।


কাউন্সিলর কামরুল হোসেন বলেন, “বাসিন্দারা আমাদের জানিয়েছেন তাদের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে এস্টেটকে আরও ভালো পরিবেশে রূপান্তর করা যায়। আমরা আশা করি নতুন সুবিধাগুলো পরিবার ও ব্যক্তিদের জীবনে বাস্তব ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনে লড়ছেন ৭ বাংলাদেশি

প্রকাশিত :  ০৭:৩১, ০৫ মার্চ ২০২৬

অর্ধডজনের বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন ফ্রান্সের আসন্ন মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে ।

ফ্রান্সের আসন্ন মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে অর্ধডজনের বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৫ মার্চ এবং প্রয়োজনে দ্বিতীয় দফা হবে ২২ মার্চ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ কমিউনিটিতে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের শক্ত উপস্থিতির বার্তা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় কাউন্সিলে বাংলাদেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলে শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের বাস্তব সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরা সহজ হবে।

প্রার্থীরা কে কোথায় লড়ছেন?

রাব্বানী খান – প্যারিসের শহরতলি এস্তা পৌরসভা থেকে পুনরায় কাউন্সিলর পদে প্রার্থী। ২০২০ সালে তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি হিসেবে জয় পান। দীর্ঘদিন ধরে ফরাসি ভাষা শিক্ষা ও প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে কমিউনিটিতে পরিচিত। এবারের নির্বাচনে তিনি বর্তমান মেয়র আজেদিন তাইবি প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এনকে নয়ন – ইল-দু-ফ্রঁস অঞ্চলের ভিলনভ-সুর-সেন এলাকা থেকে ‘ভিন্যু সলিদেয়ার এ পপুলেয়ার’ প্যানেল থেকে প্রার্থী। নিজ প্রতিষ্ঠিত ‘সাফ’ সংস্থার মাধ্যমে বিনা মূল্যে কমিউনিটি সেবা দিয়ে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। ডেপুটি মেয়র পদেও তিনি প্রার্থী। নয়ন বলেন, ‘বাংলাদেশিরা এখন শুধু প্রবাসী নয়, ফ্রান্সের সক্রিয় নাগরিক হিসেবে সমাজ গঠনে অংশ নিতে প্রস্তুত।’

আকাশ বড়ুয়া – উদ্যোক্তা আকাশ বড়ুয়া লা কুরনভ শহরে স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থিত নাদিয়া ছাবুন প্যানেল থেকে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন। তিনি মনে করেন, মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করা সম্ভব।

আব্দুস সামাদ – ভিলনভ-সুর-সেন এলাকা থেকে ‘ভিন্যু সলিদেয়ার এ পপুলেয়ার’ প্যানেল থেকে প্রার্থী। নির্বাচিত হলে কমিউনিটির কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানিয়েছেন।

নাসির উদ্দীন ভুঁইয়া – লা কুরনভ এলাকায় মেয়র পদপ্রার্থী ওমারো দোকুরু প্যানেল থেকে কাউন্সিলর হিসেবে লড়ছেন। অভিবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের প্রতিনিধি হওয়ার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।      

জুবাইদ আহমেদ – ফ্রান্স ন্যাশনাল ক্রিকেট টিমের খেলোয়াড় জুবাইদ আহমেদ এভ্রি-সুর-সেন এলাকা থেকে ফ্রন্ট পপুলেয়ার দলের প্যানেলভুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তার অংশগ্রহণ নজর কাড়ছে।

সরুফ সোদিওল – ২০২০ সালের নির্বাচনে সাঁ-দেনি এলাকা থেকে আলোচনায় আসেন। এবারের নির্বাচনে তিনি বর্তমান মেয়র ম্যাথিউ হানোতিন প্যানেলভুক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, ফ্রান্সে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোট দেওয়া হয় না। ভোটাররা কোনো একক প্রার্থীর পক্ষে নয়, বরং পুরো লিস্টের পক্ষে ভোট দেন। এই লিস্ট সাধারণত একজন মেয়র প্রার্থীর নেতৃত্বে গঠিত হয় এবং এতে একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী থাকেন। প্রথম দফায় ৫০ শতাংশ ভোট পেলে সেই লিস্ট পায় অর্ধেক আসন ‘মেজরিটি বোনাস’ হিসেবে। বাকি আসনগুলো প্রপোরশনাল পদ্ধতিতে বণ্টন করা হয়। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে দ্বিতীয় দফা ভোট হয়। লিস্টের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত ও লিস্টে প্রার্থীদের ক্রম অনুযায়ী কাউন্সিলররা নির্বাচিত হন। পরে গঠিত পৌর পরিষদের সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে মেয়র হিসাবে নির্বাচন করেন। অর্থাৎ মেয়রও সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না।

কমিউনিটি এর আরও খবর