img

ইরানের কাছে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ১৮:৩১, ০৬ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৩২, ০৬ মার্চ ২০২৬

ইরানের কাছে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি ট্রাম্পের

চলমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না-শুধু নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ।’

পোস্টে তিনি আরও বলেন, ইরানে এমন নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন যাকে তিনি ‘গ্রহণযোগ্য’ মনে করেন। তার মতে, বর্তমান নেতৃত্ব সরে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দেশটির পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে।

ট্রাম্প একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও বিশেষ বাহিনী আইআরজিসি সদস্যদের অস্ত্র ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তারা আত্মসমর্পণ করলে ‘পূর্ণ নিরাপত্তা বা দায়মুক্তি’ দেওয়া হতে পারে; অন্যথায় তাদের জন্য ‘নিশ্চিত মৃত্যু’ অপেক্ষা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সূত্র: আল-জাজিরা


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের আকাশে আবারও রহস্যময় আলো, ৫০ বছর আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি?

প্রকাশিত :  ০৭:০৯, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 ইরানের রাজধানী তেহরান প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে বিশ্বজুড়ে আলোচিত এক ইউএফও দর্শনের ঘটনা দিয়ে আলোচনায় এসেছিল। সেই ঘটনার প্রায় পাঁচ দশক পর আবারও রাতের আকাশে রহস্যময় এক বস্তু দেখা গেছে তেহরানে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উজ্জ্বল আলোকিত একটি বস্তু তেহরানের আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে অথবা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।

এই ভিডিও ঘিরে পরিচিত এক প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে—এটা কি ইউএফও, ড্রোন, বিমান, নাকি আরও সাধারণ কিছু? এখন পর্যন্ত এর কোনো স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ভিডিওতে ধারণ করা বস্তুটি আসলে কী, তা এখনো প্রকাশ্যে জানায়নি ইরানের কর্তৃপক্ষ।

তেহরানের ১৯৭৬ সালের ইউএফও রহস্য

সময়টা এই রহস্যকে আরও গভীর করে তুলেছে। ১৯৭৬ সালেও এই সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ তারিখই তেহরানের আকাশে এক আকাশযান সংক্রান্ত ঘটনা ঘটে। সেটি পরে নথিভুক্তও হয়েছে। তার প্রায় পঞ্চাশ বছর পর সামনে এলো এই নতুন ফুটেজ।

সেই ঘটনার শুরু হয়েছিল শেমিরান এলাকার বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য থেকে। তারা জানিয়েছিলেন আকাশে অদ্ভুত এক উজ্জ্বল বস্তু দেখেছেন তারা।

পরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি গোপনীয়তামুক্ত প্রতিবেদনে ইম্পেরিয়াল ইরানিয়ান বিমানবাহিনী এবং দুটি এফ-৪ ফ্যান্টম যুদ্ধবিমানের প্রতিক্রিয়ার বিবরণ নথিভুক্ত করা হয়।

সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম এফ-৪ বিমানটি বস্তুটির কাছাকাছি পৌঁছালে এর যন্ত্রপাতি এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ে। জানা যায়, পাইলট বিমানটি ঘুরিয়ে নেওয়ার পর এসব সিস্টেম আবার কাজ করা শুরু করে। এরপর তদন্তের জন্য পাঠানো হয় দ্বিতীয় একটি এফ-৪ বিমান। রাডারে বস্তুটি শনাক্তও করে সেই বিমান।

দ্বিতীয় বিমানের ক্রুরা আরেকটি অস্বাভাবিক ঘটনার কথা জানান। তাদের মতে, মূল বস্তুটি থেকে একটি ছোট অংশ আলাদা হয়ে যায়। পাইলট সেটির মোকাবিলা করার চেষ্টা করলে ঠিক সেই মুহূর্তে বিমানের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে বলে জানা যায়।

১৯৭৬ সালের এই ঘটনা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নথিতে লিপিবদ্ধ হয়। সামরিক বিমান জড়িত ইউএফও সংক্রান্ত ইতিহাসের সবচেয়ে পরিচিত ঘটনাগুলোর একটি হিসেবেই এখনো বিবেচিত হয় এটি।

সামাজিক মাধ্যমে নানা মত

সামাজিক মাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারীর দাবি, এই আলো একটি সামরিক ড্রোন অথবা একসঙ্গে ওড়া একাধিক ড্রোনের হতে পারে। আবার অনেকের ধারণা, এটি কোনো বিমান অথবা ইউএফও হতে পারে। তবে এসব দাবির কোনোটিই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

এই ফুটেজ ঘিরে নেটদুনিয়ায় দেখা গেছে নানা মজার প্রতিক্রিয়াও। কেউ বলছেন এটি আলাদিনের উড়ন্ত গালিচা, আবার কেউ বলছেন এটি চীনের এলইডি বাতি।

একজন লিখেছেন, ‘এই ইউএফওর রংগুলো দেখে মনে হচ্ছে এটা নিশ্চয়ই কোনো নারী এলিয়েনের উড়ন্ত যান। দেখুন তো, কত সুন্দরভাবে রঙিন আলো দিয়ে নিজের নভোযানটি সাজিয়েছে সে’।

আরেকজন মজা করে লিখেছেন, ‘ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা করাতেই বুঝি এসেছে এলিয়েনরা’।

তৃতীয় একজনের প্রশ্ন ছিল আরও বাস্তবসম্মত, ‘এলিয়েনরা এত সস্তা আরজিবি লাইট কেন ব্যবহার করছে?’


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর