img

‘আমি লেখক নই, শব্দের টোকাই’— মানুষের না-বলা বেদনা নিয়েই যার পথচলা

প্রকাশিত :  ০৯:০৬, ১৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৫২, ১৪ মে ২০২৬

‘আমি লেখক নই, শব্দের টোকাই’— মানুষের না-বলা বেদনা নিয়েই যার পথচলা

ড. নাজমুল ইসলাম

নিজেকে লেখক বা সাহিত্যিক পরিচয়ে পরিচিত করাতে তিনি নারাজ। বরং মানুষের ফেলে আসা কষ্ট, নীরব কান্না আর অবহেলিত জীবনের গল্প কুড়িয়ে বেড়ানো একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই নিজের পরিচয় দিতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাই নিজের ভাষায় তিনি বলেন, "আমি আসলে একজন শব্দের টোকাই।"

তাঁর মতে, সাহিত্য কেবল কল্পনার রঙিন জগৎ নয়; বরং মানুষের বাস্তব জীবনের ক্ষত, না-বলা বেদনা আর নীরব দীর্ঘশ্বাস থেকেই সত্যিকারের লেখনীর জন্ম হয়। শহরের ক্লান্ত ফুটপাত, গ্রামের ধুলোমাখা পথ, হাসপাতালের করিডোরে কান্নায় ভেঙে পড়া কোনো মা কিংবা শেষ ট্রেন মিস করা মানুষের নিঃসঙ্গ প্রতীক্ষা — এসব দৃশ্যই তাঁর শব্দের মূল উৎস।

তিনি বলেন, "আমি গল্প লিখি না, মানুষর ভেতরে জমে থাকা কষ্টের ভাষা খুঁজে বেড়াই।" সারাদিন রিকশা চালিয়ে রাতে সন্তানকে আধপেটা খাইয়ে ঘুম পাড়ানো বাবার চাপা দীর্ঘশ্বাস কিংবা প্রতিদিন হাসির অভিনয় করা কোনো মেয়ের অন্তর্বেদনা — এসব অনুভূতিই তাঁর লেখার প্রধান উপজীব্য।

তাঁর লেখার টেবিলে জমা থাকে ভাঙা স্মৃতি, নির্ঘুম রাত আর অসমাপ্ত স্বপ্নের আখ্যান। তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজ যাদের কথা মনে রাখে না এবং ইতিহাস যাদের পাশ কাটিয়ে যায়, তারাই আসলে সবচেয়ে গভীর গল্পের মানুষ।

মানুষের চোখের জলকে তিনি সবচেয়ে 'সত্যিকারের ভাষা' বলে মনে করেন। তাঁর ভাষায়, "কান্না শুকিয়ে যাওয়ার পর যে দাগটি থেকে যায়, আমি শুধু সেই দাগের ভাষা পড়ার চেষ্টা করি।"

গভীর রাতে মানুষের যাতনা তাঁকে নির্ঘুম রাখে। কোনো অবহেলিত মানুষের ভাঙা স্বপ্ন বা নীরব দীর্ঘশ্বাস যখন তাঁর সত্তায় শব্দ হয়ে প্রতিধ্বনিত হয়, তখনই তিনি কলম ধরেন। নিজের পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি আবারও বিনয়ের সঙ্গে বলেন, "আমি লেখক নই; আমি কেবল মানুষের ফেলে যাওয়া ব্যথা কুড়িয়ে বেড়ানো এক শব্দের টোকাই।"

img

???? তুমি আছো বলে

প্রকাশিত :  ১৯:৩১, ১৪ আগষ্ট ২০২৬

হুম... আহা... হুম...

তুমি আছো বলে, এ মন আজও

বসন্তের গান গায়,

শুকনো পাতার মর্মরেও

তোমার নূপুর বাজে হায়।


তুমি আছো বলে আঁধার জীবন

জোছনায় ভরে যায়,

অন্ধ রাতের তারারাও যেন

তোমার কথাই গায়।

---

দখিনা বাতাস এলে পরে

চমকে ওঠে মন,

তোমার চুলের গন্ধ মেখে

ফিরে আসে মধুক্ষণ।


বকুলতলায় সন্ধ্যা নামে,

শিউলি ঝরে পথে,

তোমার নামে চিঠি লিখি

জোছনা-ভেজা রাতে।


রাধার মতো বিরহ জাগে,

কৃষ্ণের বাঁশির তান,

দুজনার পরশে আসে

মথুরার বৃন্দাবন।

-----

তুমি আছো বলে, চাঁদ আজও

জানালাতে আলো ঢালে,

তুমি আছো বলে, পাখি ডাকে

নতুন কোনো ভোরের কূলে।


তুমি আছো বলে, হৃদয় আমার

হার মানে না হায়,

তোমার প্রেমে এই জীবন যে

স্বপ্ন হয়ে যায়।


-----


পদ্মপাতায় শিশির হয়ে

তোমার স্মৃতি নামে,

নদীর জলে ঢেউ তোলে সে

অচিন কোনো গানে।


কখনো তুমি মেঘের আড়ে,

কখনো জোছনা হয়ে,

কখনো বা দূর কাশবনে

শরতের হাওয়া বয়ে।


সাবিত্রী যেন সত্যবানের

প্রাণের কাছে রয়,

তেমনি করে তোমার প্রেমে

আমার পৃথিবী হয়।

-----

যদি একদিন সময় এসে

জড়ো করে সব রং,

তবু তোমার হাতটি ধরে

গাইব ভালোবাসার গান।


যদি ফুরায় নদীর জলও,

যদি থামে পথচলা,

তোমার চোখে রেখে যাব 

আমার শেষ কথামালা।


তুমি আছো বলে, আমার আকাশ

আজও রয় নীল হয়ে,

তুমি আছো বলে, হারানো দিন

ফিরে আসে নির্ভয়ে।


তুমি আছো বলে, এই হৃদয়

এখনো প্রেমে ভাসে,

জীবন যদি শেষও হয়ে যায়—

তুমি থেকো ভালোবাসায়।


হুম... আহা... হুম...

তুমি আছো বলে...

তুমি আছো বলে... ।