img

সীমানা পেরিয়ে সাহিত্যের নীরব যাত্রা: বিশ্বায়নের যুগে এক প্রচারবিমুখ কথাসাহিত্যিকের মনন ও সৃজনবীক্ষা

প্রকাশিত :  ১৮:৫৮, ১৮ জুলাই ২০২৬

সীমানা পেরিয়ে সাহিত্যের নীরব যাত্রা: বিশ্বায়নের যুগে এক প্রচারবিমুখ কথাসাহিত্যিকের মনন ও সৃজনবীক্ষা

ড. অরুণ রায় চৌধুরী 

সাহিত্যের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এমন কিছু কালজয়ী স্রষ্টার দেখা মেলে, যাঁদের নাম প্রথমে লোকমুখে উচ্চারিত হয় না; বরং তাঁদের কালজয়ী সৃষ্টিই একসময় প্রদীপ্ত হয়ে আত্মপ্রকাশ করে। তাঁরা কখনো প্রচারের আলো খোঁজেন না; বরং আলোই এক মোহময় আকর্ষণের মাধ্যমে তাঁদের খুঁজে নেয়। বাংলা সাহিত্যের সুদীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যে এই ঘরানার নিভৃতচারী লেখকের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিভৃত জীবন, জীবনানন্দ দাশের ঘোরলাগা আত্মমগ্নতা কিংবা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের পরিমিত ও সংযত সাহিত্যচর্চা আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় স্থায়ী সাহিত্যিক ভিত্তি শেষ পর্যন্ত প্রচারের করতালিতে নয়, বরং সৃষ্টির অতল গভীরতায় নির্মিত হয়।

তবে বর্তমান ডিজিটাল যুগে এসে সেই চিরন্তন বাস্তবতার রূপান্তর ঘটেছে। আধুনিক বিপণনব্যবস্থায় একজন লেখকের বই প্রকাশের সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় প্রচারণার ঝড়। অনেক সময় পাঠক মূল বইটি পড়ার আগেই লেখকের বহুল প্রচারিত পরিচিতির মুখোমুখি হন। বাজার, করপোরেট বিপণন এবং যান্ত্রিক অ্যালগরিদমের এই সময়ে সাহিত্যও যেন পণ্যের মতো দৃশ্যমানতার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই বাস্তবতার মধ্যেও যদি কোনো কথাসাহিত্যিক দীর্ঘ সময় ধরে নিভৃত সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন এবং তাঁর রচনা দেশীয় গণ্ডি অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পাঠকমহলে আলোচিত হতে শুরু করে, তবে তা নিঃসন্দেহে গভীর সাহিত্যিক আলোচনার দাবি রাখে।

ডিজিটাল বাস্তবতায় বিশ্বায়ন ও নন্দনতত্ত্বের দ্বান্দ্বিকতা

ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই রেজুয়ান আহম্মেদের সাহিত্যযাত্রা এক গভীর ও মৌলিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। তিনি কি সমকালীন বাংলা কথাসাহিত্যের কোনো নতুন ও প্রগতিশীল ধারার প্রতিনিধিত্ব করছেন, নাকি কেবল ডিজিটাল প্রকাশনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্ববাজারে প্রবেশের একটি উদাহরণ? এই প্রশ্নের উত্তর এতটা সরল নয়। কারণ, একজন লেখকের সামগ্রিক সাহিত্যিক গুরুত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁর বইয়ের বিক্রি বা বৈশ্বিক বিপণনই শেষ কথা নয়; বরং তাঁর রচনার অন্তর্নিহিত নন্দনতত্ত্ব, ভাষার বুনন, মানবিক গভীরতা এবং সময়কে ধারণ করার ক্ষমতাই প্রকৃত কষ্টিপাথর।

তবু এটুকু অনস্বীকার্য যে, বাংলা ভাষায় লিখে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ও বৈশ্বিক বিতরণব্যবস্থায় প্রবেশের এই প্রচেষ্টা নিজেই একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। বহু দশক ধরে বাংলা সাহিত্য বিশ্বের নানা ভাষায় অনূদিত হলেও সমকালীন লেখকদের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রকাশনা সেই দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতায় কিছুটা হলেও পরিবর্তনের সূচনা করেছে। আজ পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে একজন লেখকের বই সংগ্রহ করা সম্ভব। কিন্তু সেই প্রযুক্তিগত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একজন স্রষ্টা আদৌ পাঠকের অন্তরের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারছেন কি না সেটিই আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাস আমাদের এই শাশ্বত শিক্ষাই দেয় সাহিত্য কখনো কেবল ভাষার মাধ্যমেই বিশ্বজনীন হয় না; বরং মানুষের মৌলিক অভিজ্ঞতার গভীরতায় তা বিশ্বজনীন হয়ে ওঠে। ভাষা তার নান্দনিক বাহন, কিন্তু অকৃত্রিম মানবিকতাই তার প্রকৃত পরিচয়।

শিকড়ের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক সংকটের আখ্যান

রেজুয়ান আহম্মেদের সাহিত্যচর্চার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি চেনা লোকজ বাস্তবতার ভেতর থেকে বৈশ্বিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেন। তাঁর আলোচিত উপন্যাসগুলোর বিষয়বস্তু লক্ষ করলে দেখা যায় যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট, নৈতিক দোলাচল এবং শান্তির আকাঙ্ক্ষা বারবার ফিরে আসে। সাহিত্য যখন কেবল ইতিহাসের ঘটনাবিবরণ নয়, বরং মানুষের অন্তর্গত ভাঙন ও রক্তক্ষরণকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করে, তখনই তা ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানা অতিক্রম করার সক্ষমতা অর্জন করে। কারণ, যুদ্ধের ভাষা দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু স্বজন হারানোর শোকের ভাষা পৃথিবীর সর্বত্র এক।

সমকালীন বিশ্ব আজ এক অস্থির সময় অতিক্রম করছে। গণমাধ্যম প্রতিদিন আমাদের সামনে যুদ্ধ, উদ্বাস্তু সংকট, ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানবিক বিপর্যয়ের অসংখ্য চিত্র তুলে ধরছে। কিন্তু সংবাদ যেখানে কেবল ঘটনার বিবরণ দেয়, সাহিত্য সেখানে মানুষের নীরব অভিজ্ঞতাকে ধারণ করে। একজন প্রকৃত কথাসাহিত্যিকের কাজ কোনো রাজনৈতিক পক্ষের মুখপাত্র হওয়া নয়; তাঁর দায়িত্ব মানুষের অন্তর্গত সত্যকে শিল্পে রূপ দেওয়া। কোনো লেখক যদি সেই মানবিক ও নান্দনিক ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেন, তবে তাঁর সৃষ্টি ভাষা ও সংস্কৃতির সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বপাঠকের কাছেও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

এই কারণেই রেজুয়ান আহম্মেদের সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করতে হলে কেবল তাঁর প্রকাশনার আন্তর্জাতিক পরিসর নয়, বরং তাঁর বিষয় নির্বাচনের দিকেও গভীর দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। যুদ্ধকে তিনি যদি কেবল ভূরাজনৈতিক সংঘাত হিসেবে না দেখে মানুষের অস্তিত্বসংকট হিসেবে তুলে ধরেন, তবে তা বাংলা সাহিত্যের মানবিক ধারার একটি তাৎপর্যপূর্ণ সম্প্রসারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

দ্বিভাষিক প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন

রেজুয়ান আহম্মেদের সাহিত্যযাত্রার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাঁর দ্বিভাষিক প্রকাশনার প্রচেষ্টা। বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্য যখন ইংরেজির মাধ্যমে নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছে যায়, তখন তা কেবল অনুবাদ থাকে না; বরং একটি সাংস্কৃতিক সংলাপে রূপ নেয়। বিশেষ করে, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বহু বাঙালি মাতৃভাষায় পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ না হলেও নিজেদের শিকড় ও ঐতিহ্যকে জানতে আগ্রহী। তাঁদের কাছে বাংলা সমাজ, পারিবারিক মনস্তত্ত্ব, ইতিহাস এবং বাঙালি মানসের পরিচয় পৌঁছে দিতে দ্বিভাষিক সাহিত্য একটি কার্যকর সাংস্কৃতিক সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে।

অবশ্য এই অগ্রযাত্রার পাশাপাশি একটি সতর্কতাও জরুরি। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা কিংবা বৈশ্বিক বিপণন একজন লেখককে দৃশ্যমান করে তুলতে পারে, কিন্তু তা তাঁকে রাতারাতি বড় সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে না। প্রকৃত সাহিত্যিক মর্যাদা অর্জনের জন্য প্রয়োজন সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। এর জন্য অপরিহার্য পাঠকের পুনঃপাঠ, সমালোচকের বিশ্লেষণ এবং গবেষকের মনোযোগ। ইতিহাসে বহু জনপ্রিয় বই বিস্মৃত হয়েছে, আবার বহু অবহেলিত রচনা সময়ের প্রবাহে ক্লাসিক হয়ে উঠেছে। তাই সমকালীন যেকোনো লেখকের মূল্যায়নে সংযম ও ভারসাম্য বজায় রাখাই শ্রেয়।

মহাকালের আদালতে সাহিত্যের প্রকৃত বিচার

একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবীকে যদি একটি শব্দে সংজ্ঞায়িত করতে হয়, তবে সেই শব্দটি হবে অনিশ্চয়তা। আধুনিক প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু যুদ্ধ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য মানবসভ্যতাকে এক গভীর সংকটের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে। এই সময়ে সাহিত্য কি কেবল বিনোদনের মাধ্যম হয়ে থাকবে, নাকি তারও একটি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে?

বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মহান সাহিত্য সব সময় তার সময়ের সঙ্গে সংলাপে লিপ্ত থাকে। হোমারের ইলিয়াড থেকে শুরু করে এরিখ মারিয়া রেমার্কের অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট, আর্নেস্ট হেমিংওয়ের এ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস কিংবা স্বেতলানা আলেক্সিয়েভিচের যুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য রচনাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস কেবল রাষ্ট্রের দলিলে লেখা থাকে না; তা মানুষের স্মৃতিতে, চোখের জলে এবং সাহিত্যের পাতায় সংরক্ষিত থাকে।

রেজুয়ান আহম্মেদের সাহিত্যিক পথচলা আজ সেই দীর্ঘ ও কঠিন পরীক্ষার সূচনালগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর সামনে যেমন সম্ভাবনার বিস্তৃত দিগন্ত, তেমনি রয়েছে সাহিত্যিক দায়বদ্ধতার গভীর আহ্বান। সেই আহ্বানের প্রতি তিনি যত বেশি নিষ্ঠার সঙ্গে সাড়া দেবেন, তাঁর সৃষ্টিও তত বেশি সময়ের কঠিন পরীক্ষায় নিজের স্থায়ী অবস্থান গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। প্রচারণার কোলাহল অতিক্রম করে, করতালির মোহ থেকে মুক্ত হয়ে, মানুষের প্রতি গভীর আস্থা এবং সৃষ্টির প্রতি অকৃত্রিম নিষ্ঠাই শেষ পর্যন্ত একজন কথাসাহিত্যিককে মহাকালের দরবারে বাঁচিয়ে রাখে।

img

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন

প্রকাশিত :  ১২:৩৪, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। সাহিত্যে তার সাহসী ও নতুন ধরনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।

অ্যান কার্সন ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে তিনি ক্লাসিকস বিষয়ে ‘ওদি এত আমো এরগো সুম’ নামে ডক্টরাল থিসিস প্রকাশ করেন। এই ল্যাটিন বাক্যাংশটির শাব্দিক অর্থ, ‘আমি ঘৃণা করি এবং আমি ভালোবাসি, সুতরাং আমি আছি’।

তিনি কবিতা লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বই অনুবাদ করেছেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। অ্যান কার্সনের বেশিরভাগ সাহিত্যকর্মে ভাষা ও শব্দের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেয়েছে। নতুন অর্থ ও ভাবনা তৈরির জন্য তিনি শব্দের উৎস ও ব্যুৎপত্তি নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। তার অনেক লেখার শুরুই শব্দের ব্যুৎপত্তি থেকে।

অ্যান কার্সন তার পুরো সাহিত্যজীবনে লেখার নতুন নতুন ধরন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। প্রচলিত সাহিত্যিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে লেখার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। এর একটি উদাহরণ ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’। বইটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা ২২টি ছোট রচনা রয়েছে। এগুলো যেকোনো ক্রমে পড়া যায়।

এ ছাড়া দৃশ্যশিল্পী, নৃত্য পরিচালক, অপেরা ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গে অ্যান কার্সনের যৌথ কাজ তার ভিন্নধর্মী চিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়। তিনি প্রচলিত সাহিত্যিক নিয়মের বাইরে গিয়ে নতুনভাবে কাজ করতে পছন্দ করেন। ১৯৯০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিক শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনে তার কাজ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। 

২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নর্মা’তেও কার্সনের এই বৈচিত্র্যময় লেখার ধরন দেখা যায়। বইটিতে বিভিন্ন ধরনের রচনা রয়েছে এবং এতে অভিনয় ও মঞ্চ পরিবেশনার উপাদানও রয়েছে। একই সঙ্গে সাহিত্য, শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রের নানা বিষয় তিনি এতে তুলে ধরেছেন।

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য থেকে তার করা অনুবাদগুলোও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতার বিভিন্ন খণ্ডাংশ নিয়ে কাজ এবং ২০০২ সালে প্রকাশিত ‘ইফ নট, উইন্টার’ উল্লেখযোগ্য। তিনি গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিসের ‘ইলেক্ট্রা’ ও ‘অ্যান্টিগোন’ এবং ইউরিপিডিসের ‘বাক্কাই’ নাটকও অনুবাদ করেছেন। এসব অনুবাদ যথাক্রমে ২০০১ ও ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়।

১৯৯০-এর দশকে অ্যান কার্সন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘গ্লাস, আয়রনি অ্যান্ড গড’ কাব্যগ্রন্থের ‘দ্য গ্লাস এসে’। এই দীর্ঘ কবিতায় কবিতা, প্রবন্ধসহ বিভিন্ন সাহিত্যধারার মিশেল দেখা যায়। এর মাধ্যমে কার্সন দীর্ঘ কবিতার একটি নতুন ধরনের রূপ তুলে ধরেছেন, যেখানে বিভিন্ন সাহিত্যধারার সীমারেখা স্পষ্ট থাকে না।

১৯৯০-এর দশকে অ্যান কার্সনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশিত হয়, ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড : আ নভেল ইন ভার্স’। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত এই বইটিকে তার অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে ধরা হয়। বইটিতে কার্সন প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে আধুনিক জীবন ও ভাষার সঙ্গে মিলিয়েছেন। এর মূল চরিত্র গেরিয়ন—ডানাওয়ালা এক লাল দানব।

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর গ্রিক কবি স্টেসিখোরোসের গেরিয়নকে নিয়ে লেখা একটি কবিতার খণ্ডাংশ থেকেই কার্সন এই বইয়ের ভাবনা নিয়েছেন। প্রাচীন এই গল্পকে আধুনিক ভাষা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে কার্সন বইটিতে একটি নতুন ধরনের সাহিত্যিক রূপ তৈরি করেছেন।