img

রেজুয়ান আহম্মেদসহ ১০ কবি-লেখক পাচ্ছেন এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার

প্রকাশিত :  ১৮:২৬, ০২ মে ২০২৬

 রেজুয়ান আহম্মেদসহ ১০ কবি-লেখক পাচ্ছেন এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার

বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সোনার বাংলা সাহিত্য পরিষদ’ আয়োজিত ‘এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’-এ মনোনীত হয়েছেন রেজুয়ান আহম্মেদসহ মোট ১০ জন কবি ও লেখক। এই স্বীকৃতি সমকালীন বাংলা সাহিত্যচর্চায় তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

রেজুয়ান আহম্মেদকে সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক নিভৃতচারী ও গভীর সংবেদনশীল শব্দশিল্পী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর লেখালেখির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—সাধারণ জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুভূতিগুলোকে নান্দনিক ও অর্থবহ অভিব্যক্তিতে রূপান্তরিত করার অসাধারণ ক্ষমতা। তাঁর গদ্য ও গল্পে ব্যক্তি ও সমাজ, সময় ও স্মৃতি এবং মানবমনস্তত্ত্বের সূক্ষ্ম স্তরগুলো পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্য-ভুবন সৃষ্টি করে।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তাঁর সাহিত্যচর্চার সূচনা হলেও প্রথম উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক পদক্ষেপ হিসেবে ধরা যায় ১৯৯১ সালে কলেজজীবনে লেখা ‘অভাগী’ গল্পটিকে। এই গল্পটিকে অনেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ সাহিত্যযাত্রার ইঙ্গিতবহ সূচনা হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে তিনি সৃজনশীল লেখালেখির পাশাপাশি দৃশ্যমাধ্যমেও যুক্ত হন। চিত্রনাট্য রচনার মাধ্যমে তাঁর পেশাদার লেখকজীবনের সূচনা ঘটে, যেখানে ‘মেরিজ স্টেশন’-এর মতো নাটক তাঁকে দ্রুত টেলিভিশন নাট্যকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

একইসঙ্গে তিনি দীর্ঘকাল ধরে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সক্রিয় থাকলেও তাঁর সাহিত্যচর্চা কখনো থেমে থাকে নি। জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত তাঁর ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও কলামগুলি পাঠকমহলে আলাদা গুরুত্ব অর্জন করে, যা তাঁর চিন্তাশীল লেখকসত্তাকে আরও সুদৃঢ় করে।

রেজুয়ান আহম্মেদের সৃজনশীলতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর গীতিকবিতা। গান রচনায় তিনি এমন এক সংবেদনশীল ভাষা ব্যবহার করেন, যাতে সুর ও শব্দ মিলেমিশে এক আবেগঘন অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করে। এই বহুমাত্রিক সাহিত্যচর্চার জন্য তিনি ইতিমধ্যে একাধিক জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

গল্প, উপন্যাস, কবিতা, নাটক, গান ও প্রবন্ধ—সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ তাঁকে একটি স্বতন্ত্র সাহিত্যভাষা নির্মাণে সহায়তা করেছে। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘এক মুঠো গল্প’, ‘সন্দেহের ছায়া’, ‘মায়াবী মুহূর্ত’, ‘শঙ্খের শপথ’, ‘শব্দে তুমি’, ‘আলোকচ্ছায়া’, ‘স্বপ্নের চাকরি’, ‘শেষ সূর্যের আলো’, ‘দ্য ডেজ অব গাজা’, ‘লাভ অব দ্য ফরেস্ট বার্ড’, ‘অপেক্ষার মায়া’ এবং ‘অ-জল নির্বাসন’সহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রন্থ। এসব গ্রন্থে মানবজীবনের বহুমাত্রিক বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে।

সমালোচকদের মতে, রেজুয়ান আহম্মেদের সাহিত্যিক শক্তি তাঁর অতিরঞ্জনহীন ভাষা, মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা এবং নীরব পর্যবেক্ষণের ভেতর দিয়ে জীবনের সত্যকে তুলে ধরার ক্ষমতার মধ্যে নিহিত। তাঁর লেখায় প্রচারের চেয়ে নীরব সাধনার এক শক্তিশালী উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা বাংলা সাহিত্যে তাঁকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান দিয়েছে।



img

এসবিএসপি সাহিত্য সম্মাননা ও পুরস্কার পাচ্ছেন যাঁরা

প্রকাশিত :  ১৮:১৬, ০১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২০:৪৪, ০১ মে ২০২৬

বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ‌‘সোনার বাংলা সাহিত্য পরিষদ (এসবিএসপি) সাহিত্য সম্মাননা ও পুরস্কার -২০২৫’ পাচ্ছেন ১০ কবি ও লেখক।

আবহমান বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ‘এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ পাচ্ছেন-

১. কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য মতিন বৈরাগী,

২ কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য দুখু বাঙাল,

৩. কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য মজিদ মাহমুদ,

৪. শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য হাসনাত আমজাদ,

৫. কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সমীর আহমেদ,

৬. কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য রেজুয়ান আহম্মেদ,

৭, কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য একেএম সুলতান মাহামুদ,

৮. কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য ড. হাফিজ রহমান,

৯. কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য শাহানাজ ইয়াসমিন, 

১০. কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য নুসরাত সুলতানা।

কথাসাহিত্যিক ও গল্পকার রেজুয়ান আহম্মেদের প্রতিক্রিয়া

এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা প্রপ্তদের তালিকায় নিজের নাম ঘোষিত হওয়ার অব্যবহিত পরে জনমতকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও গল্পকার রেজুয়ান আহম্মেদ বলেন,

“আমি লেখক নই—এই স্বীকারোক্তিটি দীর্ঘকাল ধরে নীরবে লালন করছি। নিজেকে ‘কবি’ বলে পরিচয় দেওয়ার সাহসও হয় না; কারণ এই শব্দের অন্তর্নিহিত যে দায় ও দীপ্তি, তার সঙ্গে নিজেকে ঠিক মেলাতে পারি না। তাই নিজের জন্য এক বিচিত্র পরিচয় বেছে নিয়েছি—‘লেখার ফেরিওয়ালা’। শহরের ব্যস্ত মোড়ে কেউ যেমন পুরোনো বই সাজিয়ে বসে, কেউবা বিক্রি করে স্বপ্নের টুকরো, আমিও তেমনি মানুষের না-বলা কথাগুলো কুড়িয়ে আনি। ধুলো ঝেড়ে সেগুলোকে সাজাই, আর একসময় সেই কথাগুলোই কাগজের বুকে গল্প হয়ে জেগে ওঠে।

আমি মূলত শব্দের একজন টোকাই। পথের ধারে পড়ে থাকা ভাঙা বাক্য, চায়ের কাপে ভেসে ওঠা ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাস কিংবা গোধূলির আলোয় ঝিমিয়ে পড়া কোনো বিষণ্ণ মুখ—এসবের মাঝেই আমি আমার রচনার উপাদান খুঁজি। যে মানুষগুলো নিজের যাতনাকে ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না, তাদের নীরবতা আমি ধার করি এবং তা বাক্যে বুনে দিই। তাদের হাসি-কান্না আর অপূর্ণতার ক্ষীণ প্রতিধ্বনিগুলো আমার কলমে আশ্রয় খোঁজে। আমি কেবল একজন বাহক মাত্র; প্রকৃত গল্পকার তো সেই মানুষগুলোই, যাদের জীবন নিঃশব্দে বয়ে চলে।

গল্পগুলোকে সযতনে গুছিয়ে আমি ফেরিওয়ালার মতোই প্রকাশকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াই। কেউ হয়তো দু-দণ্ড সময় দেয়, কেউবা নিঃসঙ্কোচে ফিরিয়ে দেয়। এর মাঝে যে কয়টি গল্প আলোর মুখ দেখে, তা থেকে অর্জিত যৎসামান্য প্রাপ্তিতেই আমি সন্তুষ্ট। বড় কোনো স্বপ্নের বিলাস কিংবা নাম-যশের মোহ আমার নেই; এ কেবল টিকে থাকার এক শান্ত ও অনাড়ম্বর লড়াই।

তবুও মাঝে মাঝে মনে হয়, এই নামহীন ফেরিওয়ালা সত্তাই আমার সবচেয়ে বড় সত্য। কারণ আমি কেবল গল্প কেনাবেচা করি না; আমি একজনের অদেখা সত্য আর অশ্রুত কণ্ঠস্বর পৌঁছে দিই অন্যজনের কাছে। মানুষের হৃদয়ের মাঝে সেই অদৃশ্য সেতুবন্ধন তৈরির মাধ্যমেই হয়তো আমার অস্তিত্ব প্রকৃত অর্থে সার্থক হয়।”

উল্লেখ্য, সোনার বাংলা সাহিত্য পরিষদ (এসবিএসপি) গত ১০ বছর ধরে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য কবি-লেখকদের পুরস্কৃত করে আসছে। প্রতি বছর বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।