img

তিন গোয়েন্দার স্রষ্টা রকিব হাসান আর নেই

প্রকাশিত :  ১৩:২৩, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩২, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

তিন গোয়েন্দার স্রষ্টা রকিব হাসান আর নেই

জনপ্রিয় কিশোর থ্রিলার ‘তিন গোয়েন্দা’ সিরিজের লেখক রকিব হাসান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বুধবার দুপুরের দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মহিবুল্লাহ খন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘রকিব হাসান নিয়মিত আমাদের হাসপাতালে এসে কিডনি ডায়ালিসিস করেন।

আজও তিনি এসেছিলেন। তবে ডায়ালিসিস শুরুর কিছুক্ষণ আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।’

রকিব হাসানের জন্ম ১৯৫০ সালের ১২ ডিসেম্বর; কুমিল্লায়। তবে বাবার বদলির চাকরির সুবাদে ছেলেবেলা কেটেছে ফেনীতে।

ফেনী থেকেই স্কুলজীবন শেষ করে তিনি ভর্তি হন কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজে। পড়াশোনার পাট চুকিয়ে নিয়মমতো যোগ দিয়েছিলেন চাকরিতেই। কিন্তু কোথাও মন টেকেনি বেশিদিন। তাই একে একে বদলেছেন বেশ কয়টা চাকরি।

অনেক চেষ্টার পরও অফিসের বাঁধাধরা ৯টা-৬টার ঘড়ির কাঁটায় আটকে থাকতে পারেননি। অবশেষে সব ছেড়েছুড়ে লেখালেখি শুরু করলেন একদিন। 

লেখক সত্তার সঙ্গেই নিজের অচ্ছেদ্য বন্ধন টের পেলেন। তারপর তো লেখালেখিকে বেছে নিলেন পেশা হিসেবে। হলেন পুরোদস্তুর লেখক।

আজ কয়েক প্রজন্মের পাঠকের কাছে জনপ্রিয় তিনি। লেখালেখির শুরুটা সেবা প্রকাশনীতে। নামে-বেনামে লিখেছেন চার শতাধিক বই। 

বিশ্বসেরা ক্ল্যাসিক বইয়ের অনুবাদ দিয়ে শুরু করেছিলেন তিনি। একে একে লিখেছেন টারজান, গোয়েন্দা রাজু, রেজা-সুজা সিরিজসহ অসংখ্য জনপ্রিয় বই। তার পরও শুধু তিন গোয়েন্দার স্রষ্টা হিসেবেই অসংখ্য পাঠকের হৃদয়ের মণিকোঠায় ঠাঁই পেয়েছেন এই ভীষণ প্রচারবিমুখ মানুষটি।

img

‘আমি লেখক নই, শব্দের টোকাই’— মানুষের না-বলা বেদনা নিয়েই যার পথচলা

প্রকাশিত :  ০৯:০৬, ১৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৫২, ১৪ মে ২০২৬

ড. নাজমুল ইসলাম

নিজেকে লেখক বা সাহিত্যিক পরিচয়ে পরিচিত করাতে তিনি নারাজ। বরং মানুষের ফেলে আসা কষ্ট, নীরব কান্না আর অবহেলিত জীবনের গল্প কুড়িয়ে বেড়ানো একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই নিজের পরিচয় দিতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাই নিজের ভাষায় তিনি বলেন, "আমি আসলে একজন শব্দের টোকাই।"

তাঁর মতে, সাহিত্য কেবল কল্পনার রঙিন জগৎ নয়; বরং মানুষের বাস্তব জীবনের ক্ষত, না-বলা বেদনা আর নীরব দীর্ঘশ্বাস থেকেই সত্যিকারের লেখনীর জন্ম হয়। শহরের ক্লান্ত ফুটপাত, গ্রামের ধুলোমাখা পথ, হাসপাতালের করিডোরে কান্নায় ভেঙে পড়া কোনো মা কিংবা শেষ ট্রেন মিস করা মানুষের নিঃসঙ্গ প্রতীক্ষা — এসব দৃশ্যই তাঁর শব্দের মূল উৎস।

তিনি বলেন, "আমি গল্প লিখি না, মানুষর ভেতরে জমে থাকা কষ্টের ভাষা খুঁজে বেড়াই।" সারাদিন রিকশা চালিয়ে রাতে সন্তানকে আধপেটা খাইয়ে ঘুম পাড়ানো বাবার চাপা দীর্ঘশ্বাস কিংবা প্রতিদিন হাসির অভিনয় করা কোনো মেয়ের অন্তর্বেদনা — এসব অনুভূতিই তাঁর লেখার প্রধান উপজীব্য।

তাঁর লেখার টেবিলে জমা থাকে ভাঙা স্মৃতি, নির্ঘুম রাত আর অসমাপ্ত স্বপ্নের আখ্যান। তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজ যাদের কথা মনে রাখে না এবং ইতিহাস যাদের পাশ কাটিয়ে যায়, তারাই আসলে সবচেয়ে গভীর গল্পের মানুষ।

মানুষের চোখের জলকে তিনি সবচেয়ে 'সত্যিকারের ভাষা' বলে মনে করেন। তাঁর ভাষায়, "কান্না শুকিয়ে যাওয়ার পর যে দাগটি থেকে যায়, আমি শুধু সেই দাগের ভাষা পড়ার চেষ্টা করি।"

গভীর রাতে মানুষের যাতনা তাঁকে নির্ঘুম রাখে। কোনো অবহেলিত মানুষের ভাঙা স্বপ্ন বা নীরব দীর্ঘশ্বাস যখন তাঁর সত্তায় শব্দ হয়ে প্রতিধ্বনিত হয়, তখনই তিনি কলম ধরেন। নিজের পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি আবারও বিনয়ের সঙ্গে বলেন, "আমি লেখক নই; আমি কেবল মানুষের ফেলে যাওয়া ব্যথা কুড়িয়ে বেড়ানো এক শব্দের টোকাই।"