img

২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

প্রকাশিত :  ০৬:৪০, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হচ্ছে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’। বইমেলা পেছানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলা একাডেমি

\r\n

এর আগে প্রকাশকদের একটি অংশ পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা আয়োজনের দাবি জানালেও সেই দাবিতে সাড়া দেয়নি একাডেমি। ফলে নির্ধারিত তারিখেই অমর একুশে বইমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সেলিম রেজা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিম রেজা বলেন, “সামগ্রিক বাস্তবতার আলোকে আগামী ২০শে ফেব্রুয়ারিতেই বইমেলা শুরু হবে। আমরা এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মেলার সময় নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশকারী সম্মানিত প্রকাশকদের অনুরোধ করছি কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও বইমেলায় অংশ নিতে এগিয়ে আসার জন্য।”

এর আগে গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) এবং সাধারণ প্রকাশকদের একটি বড় অংশ মেলা পেছানোর দাবি জানিয়েছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে রমজান ও সামনে ঈদ থাকায় মানুষের মনোযোগ ও ব্যয় মূলত খাদ্য ও পোশাকে সীমাবদ্ধ থাকবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রধান ক্রেতা শিক্ষার্থীরা ঢাকায় থাকবে না, ফলে মেলা ‘পাঠকশূন্য’ হওয়ার ব্যবসায়িক ঝুঁকি রয়েছে। প্রকাশকরা মেলাটি ঈদুল ফিতরের পর আয়োজনের জোর দাবি তুলেছিলেন।

বাংলা একাডেমি সূত্রে জানানো হয়েছে, এপ্রিল মাসে মেলা আয়োজন করা হলে তীব্র তাপপ্রবাহ, ধুলোবালি এবং কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবল আশঙ্কা থাকে, যা খোলা জায়গায় মাসব্যাপী মেলার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া মেলার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং স্টল নির্মাণের কাজও চলমান। এসব দিক বিবেচনা করেই ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত মেলার সময়সূচি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সাহিত্য-সংস্কৃতি এর আরও খবর

img

গাজার দিনলিপি, মানবতার ভাষ্য

প্রকাশিত :  ১৮:২৮, ০৫ মার্চ ২০২৬

‘দ্য ডেইজ অব গাজা’ নিয়ে মুখোমুখি রেজুয়ান আহম্মেদ

ড. নাজমুল ইসলাম 

যুদ্ধের খবর প্রতিদিনই আসে—সংখ্যায়, পরিসংখ্যানে, কূটনৈতিক বিবৃতিতে। কিন্তু সেই সব সংখ্যার আড়ালে যে মানুষ, যে শিশু, যে মা—তাদের গল্প কতটা শোনা যায়? এই প্রশ্ন থেকেই কথাসাহিত্যিক রেজুয়ান আহম্মেদের সাম্প্রতিক গ্রন্থ ‘দ্য ডেইজ অব গাজা’-এর জন্ম। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বইটির প্রেরণা, নির্মাণপ্রক্রিয়া ও বার্তা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

বইটি লেখার পেছনের কারণ জানতে চাইলে রেজুয়ান আহম্মেদ বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক অবস্থান থেকে লেখা নয়। “গাজার শিশুদের চোখে যে আতঙ্ক, মায়েদের চোখে যে অপেক্ষা, আর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেও বেঁচে থাকার যে অদম্য ইচ্ছা—সেই মানবিক গল্পগুলো আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। আমি চেয়েছি যুদ্ধের পরিসংখ্যান নয়, মানুষের অনুভূতির ইতিহাস লিখতে।”

লেখকের ভাষায়, সংবাদ তাৎক্ষণিক; কিন্তু সাহিত্য দীর্ঘস্থায়ী। সংবাদ জানায় কী ঘটেছে, সাহিত্য অনুভব করায় কেন তা আমাদের ভাবায়।

‘দ্য ডেইজ অব গাজা’—নামের ভেতরেই যেন এক দীর্ঘ সময়ের সঞ্চিত বেদনা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “‘ডেইজ’ মানে দিনগুলো। কিন্তু এখানে প্রতিটি দিন এক-একটি দীর্ঘ ইতিহাস। প্রতিটি সকাল অনিশ্চয়তার, প্রতিটি রাত বেঁচে থাকার সংগ্রামের। গাজার দিনগুলো কেবল সংবাদ শিরোনাম নয়; এগুলো মানুষের জীবন, স্বপ্ন আর অশ্রুর দিনলিপি।” এই বক্তব্যেই বোঝা যায়, বইটি ঘটনাপঞ্জি নয়; বরং এক মানবিক দলিল।

বইটি পুরোপুরি বাস্তব ঘটনার ওপর নির্ভরশীল কিনা—এ প্রশ্নে রেজুয়ান আহম্মেদ জানান, এটি গবেষণা, সংবাদ ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনার সঙ্গে সাহিত্যিক কল্পনার মিশ্রণে তৈরি। “সাহিত্যের কাজ কেবল তথ্য দেওয়া নয়, অনুভব করানো,”—বলেছেন তিনি। বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়েই তিনি চরিত্র নির্মাণ করেছেন, যাতে পাঠক কেবল পড়েন না, ভেতরে ভেতরে অংশ হয়ে ওঠেন।

লিখতে গিয়ে আবেগের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। “অনেক সময় লিখতে গিয়ে থেমে যেতে হয়েছে। কিছু অধ্যায় লেখার সময় চোখ ভিজে গেছে। কিন্তু আমি থামিনি। কারণ কেউ না কেউ তো এই গল্পগুলো বলবেই। যদি আমার কলম সেই কণ্ঠ হতে পারে, সেটাই আমার সার্থকতা।” এই স্বীকারোক্তি বইটির আবেগঘন ভেতরকার সুরকে স্পষ্ট করে।

বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশে লেখকের বার্তা—“মানবতা কখনো পরাজিত হয় না। পৃথিবীর যে প্রান্তেই অন্যায় হোক না কেন, আমাদের বিবেককে জাগ্রত রাখতে হবে। সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ এবং ভালোবাসাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।” দ্রুত তথ্যপ্রবাহের যুগে ঘটনাকে দ্রুত ভুলে যাওয়ার প্রবণতার বিপরীতে সাহিত্যকে তিনি দেখেন স্মৃতি ও বিবেকের ধারক হিসেবে।

সাক্ষাৎকারের শেষপ্রান্তে রেজুয়ান আহম্মেদ বলেন, “বইটি পড়ুন খোলা হৃদয়ে। এটি কোনো পক্ষ নেওয়ার বই নয়; এটি মানুষকে অনুভব করার বই। যদি পাঠক একটি মুহূর্তের জন্যও গাজার কোনো শিশুর চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখতে পারেন, তবে আমার লেখা সফল।”

সমাপনী বক্তব্যে তিনি যোগ করেন, “সাহিত্যের শক্তি বন্দুকের চেয়ে বড়। শব্দের শক্তি ধ্বংস নয়, সৃষ্টি করে। ‘দ্য ডেইজ অব গাজা’ সেই সৃষ্টির একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা—মানবতার পক্ষে, জীবনের পক্ষে।”

যুদ্ধের কোলাহলের ভেতরেও মানবতার যে ক্ষীণ কিন্তু স্থায়ী সুর, এই বই যেন সেই সুরকেই শব্দে রূপ দেওয়ার চেষ্টা।