img

দুপুরে পর্দা উঠছে একুশে বইমেলার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৪:৪৯, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুপুরে পর্দা উঠছে একুশে বইমেলার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রথমবারের মতো বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান ও বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা।

সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

\r\n\r\n\r\n

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী মোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৫৪৯টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি। মেলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের অবস্থান থাকছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া শিশুচত্বরে মোট প্রতিষ্ঠান ৬৩টি। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিন মেলা শুরু হবে বেলা ১১টায় এবং চলবে যথারীতি রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে, রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না।

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ জানায়, প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মেলার মূলমঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসাবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে।

বরাবরের মতো এবারও বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে বলেও জানিয়েছে বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ।

মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব ড. সেলিম রেজা জানান, বিগত বছরের মতো এবারও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর রমজান উপলক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মেলায় আগত মুসল্লিদের জন্য সুরা তারাবি নামাজের ব্যবস্থা থাকছে। বরাবরের মতো এবারের মেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য মেলায় ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।

মেলায় পুরস্কার : মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০২৫ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এছাড়া ২০২৫ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য ১টি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং এ-বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এবারের বইমেলায় প্রবর্তিত হচ্ছে ‘সরদার জয়েনউদদীন স্মৃতি পুরস্কার’ শিরোনামে একটি নতুন পুরস্কার। মেলায় নতুন অংশগ্রহণকারীদের (যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন প্রকাশক হিসাবে এবারই প্রথম বা ২০২৪ বা ২০২৫ সালে মেলায় প্রথম অংশগ্রহণ করেছে) মধ্য থেকে ‘গুণগতমান বিচার’-এ সর্বাধিক সংখ্যক বইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ (১ম, ২য়, ৩য়) দেওয়া হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার বলেছেন, বইমেলায় এবার মবের কোনো আশঙ্কা নেই। তবে মব মোকাবিলায় পুলিশের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি থাকবে। বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলার নিরাপত্তা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মেলায় আগত নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার, ব্রেস্টফিডিং সেন্টার বা কর্নার এবং শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। অসুস্থদের জন্য পর্যাপ্ত প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা এবং অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধর্ম অবমাননা অথবা উসকানিমূলক বই মেলায় এলে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি করবে, যাতে এমন বই মেলায় না আসে।

ট্রাফিক নির্দেশনা ও পার্কিং প্রসঙ্গে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, মেলা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ ডাইভারশন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মেলা চলাকালীন ঢাবি এলাকায় কোনো ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তাটি জনসমাগম বিবেচনায় সময়ে সময়ে খোলা বা বন্ধ রাখা হবে। 

ডিএমপির পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন মেলা গেট পর্যন্ত যানবাহনের জন্য অপেক্ষা না করে কিছুটা আগে নেমে হেঁটে মেলায় প্রবেশ করেন। এতে প্রবেশপথগুলোতে যানজট কম হবে এবং অন্যদের চলাচল সহজ হবে।


সাহিত্য-সংস্কৃতি এর আরও খবর

img

গাজার দিনলিপি, মানবতার ভাষ্য

প্রকাশিত :  ১৮:২৮, ০৫ মার্চ ২০২৬

‘দ্য ডেইজ অব গাজা’ নিয়ে মুখোমুখি রেজুয়ান আহম্মেদ

ড. নাজমুল ইসলাম 

যুদ্ধের খবর প্রতিদিনই আসে—সংখ্যায়, পরিসংখ্যানে, কূটনৈতিক বিবৃতিতে। কিন্তু সেই সব সংখ্যার আড়ালে যে মানুষ, যে শিশু, যে মা—তাদের গল্প কতটা শোনা যায়? এই প্রশ্ন থেকেই কথাসাহিত্যিক রেজুয়ান আহম্মেদের সাম্প্রতিক গ্রন্থ ‘দ্য ডেইজ অব গাজা’-এর জন্ম। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বইটির প্রেরণা, নির্মাণপ্রক্রিয়া ও বার্তা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

বইটি লেখার পেছনের কারণ জানতে চাইলে রেজুয়ান আহম্মেদ বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক অবস্থান থেকে লেখা নয়। “গাজার শিশুদের চোখে যে আতঙ্ক, মায়েদের চোখে যে অপেক্ষা, আর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেও বেঁচে থাকার যে অদম্য ইচ্ছা—সেই মানবিক গল্পগুলো আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। আমি চেয়েছি যুদ্ধের পরিসংখ্যান নয়, মানুষের অনুভূতির ইতিহাস লিখতে।”

লেখকের ভাষায়, সংবাদ তাৎক্ষণিক; কিন্তু সাহিত্য দীর্ঘস্থায়ী। সংবাদ জানায় কী ঘটেছে, সাহিত্য অনুভব করায় কেন তা আমাদের ভাবায়।

‘দ্য ডেইজ অব গাজা’—নামের ভেতরেই যেন এক দীর্ঘ সময়ের সঞ্চিত বেদনা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “‘ডেইজ’ মানে দিনগুলো। কিন্তু এখানে প্রতিটি দিন এক-একটি দীর্ঘ ইতিহাস। প্রতিটি সকাল অনিশ্চয়তার, প্রতিটি রাত বেঁচে থাকার সংগ্রামের। গাজার দিনগুলো কেবল সংবাদ শিরোনাম নয়; এগুলো মানুষের জীবন, স্বপ্ন আর অশ্রুর দিনলিপি।” এই বক্তব্যেই বোঝা যায়, বইটি ঘটনাপঞ্জি নয়; বরং এক মানবিক দলিল।

বইটি পুরোপুরি বাস্তব ঘটনার ওপর নির্ভরশীল কিনা—এ প্রশ্নে রেজুয়ান আহম্মেদ জানান, এটি গবেষণা, সংবাদ ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনার সঙ্গে সাহিত্যিক কল্পনার মিশ্রণে তৈরি। “সাহিত্যের কাজ কেবল তথ্য দেওয়া নয়, অনুভব করানো,”—বলেছেন তিনি। বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়েই তিনি চরিত্র নির্মাণ করেছেন, যাতে পাঠক কেবল পড়েন না, ভেতরে ভেতরে অংশ হয়ে ওঠেন।

লিখতে গিয়ে আবেগের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। “অনেক সময় লিখতে গিয়ে থেমে যেতে হয়েছে। কিছু অধ্যায় লেখার সময় চোখ ভিজে গেছে। কিন্তু আমি থামিনি। কারণ কেউ না কেউ তো এই গল্পগুলো বলবেই। যদি আমার কলম সেই কণ্ঠ হতে পারে, সেটাই আমার সার্থকতা।” এই স্বীকারোক্তি বইটির আবেগঘন ভেতরকার সুরকে স্পষ্ট করে।

বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশে লেখকের বার্তা—“মানবতা কখনো পরাজিত হয় না। পৃথিবীর যে প্রান্তেই অন্যায় হোক না কেন, আমাদের বিবেককে জাগ্রত রাখতে হবে। সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ এবং ভালোবাসাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।” দ্রুত তথ্যপ্রবাহের যুগে ঘটনাকে দ্রুত ভুলে যাওয়ার প্রবণতার বিপরীতে সাহিত্যকে তিনি দেখেন স্মৃতি ও বিবেকের ধারক হিসেবে।

সাক্ষাৎকারের শেষপ্রান্তে রেজুয়ান আহম্মেদ বলেন, “বইটি পড়ুন খোলা হৃদয়ে। এটি কোনো পক্ষ নেওয়ার বই নয়; এটি মানুষকে অনুভব করার বই। যদি পাঠক একটি মুহূর্তের জন্যও গাজার কোনো শিশুর চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখতে পারেন, তবে আমার লেখা সফল।”

সমাপনী বক্তব্যে তিনি যোগ করেন, “সাহিত্যের শক্তি বন্দুকের চেয়ে বড়। শব্দের শক্তি ধ্বংস নয়, সৃষ্টি করে। ‘দ্য ডেইজ অব গাজা’ সেই সৃষ্টির একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা—মানবতার পক্ষে, জীবনের পক্ষে।”

যুদ্ধের কোলাহলের ভেতরেও মানবতার যে ক্ষীণ কিন্তু স্থায়ী সুর, এই বই যেন সেই সুরকেই শব্দে রূপ দেওয়ার চেষ্টা।