img

একুশে পদক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৬:৪৪, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একুশে পদক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই পদক প্রদান করেন। 

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত গুণীজনদের হাতে সম্মাননা পদক, সনদ ও নির্দিষ্ট অর্থ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বছর শিল্পকলা ও সমাজ জীবনের বিভিন্ন শাখায় অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী যাদের হাতে পদক তুলে দিয়েছেন, তাদের মধ্যে অভিনয়ে বিশেষ অবদানের জন্য পেয়েছেন ফরিদা আক্তার ববিতা। চারুকলায় পদক পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার এবং স্থাপত্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়। এ ছাড়াও নৃত্যে অর্থী আহমেদ এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী পালাগানে বিশেষ অবদানের জন্য ইসলাম উদ্দিন পালাকারকে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।

অন্যান্য ক্ষেত্রের মধ্যে সাংবাদিকতায় আজীবন সাহসিকতার জন্য শফিক রেহমানকে এই পদক প্রদান করা হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার জসকে একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। 

এ বছর প্রথমবারের মতো কোনো ব্যান্ড হিসেবে সংগীতাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘ওয়ারফেজ’ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে একুশে পদক গ্রহণ করে। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মনোনীতদের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল।

একুশে পদক বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা যা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রদান করা হচ্ছে। সাধারণত ভাষা আন্দোলন, শিল্প-সংস্কৃতি, শিক্ষা, গবেষণা ও সমাজসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক দেওয়া হয়। 

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে, এই গুণীজনদের কাজের স্বীকৃতি আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও সৃজনশীলতায় উদ্বুদ্ধ করবে। অনুষ্ঠান শেষ করে বিকেলেই প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে কথা রয়েছে।


img

ইউনেস্কো উদ্যোগে শ্রীমঙ্গলে জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ

প্রকাশিত :  ১৫:১৪, ২৩ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:১৭, ২৩ মে ২০২৬

ইউনেস্কো, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (CRIHAP) ও অনুবাদের সহযোগিতায় শ্রীমঙ্গলে পাঁচ দিনের কর্মশালার আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।

১৭–২১ মে পর্যন্ত ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় সিলেট বিভাগের তিনটি সম্প্রদায় — বিষ্ণুপ্রিয়া, মেইতেই এবং চা-জনগোষ্ঠী — থেকে ১৫ জন আদিবাসী তরুণ অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালার মাধ্যমে তারা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কমিউনিটি-ভিত্তিক তালিকাকরণে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করেন। এর মধ্যে রয়েছে মৌখিক ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক চর্চা, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং আদিবাসী জ্ঞানব্যবস্থার নথিভুক্তকরণ।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন ইউনেস্কো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞ ড. আলেকজান্দ্রা ডেনেস।

কর্মশালার উদ্বোধনীতে ইউনেস্কোর বাংলাদেশ অফিস প্রধান ও প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইস বলেন, “তরুণরা শুধুমাত্র ভবিষ্যতের ঐতিহ্যের রক্ষকের ভূমিকা পালন করবে এমন নয়, বরং বর্তমানেও তারা সক্রিয় সংস্কৃতির অংশীদার। এই কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা কমিউনিটি ভিত্তিক তালিকাকরণে ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা অর্জন করবে, যা সাক্ষাৎকার গ্রহণ, অডিওভিজুয়াল ডকুমেন্টেশন, নৈতিক গবেষণা পদ্ধতি এবং সঠিক অনুমোদন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত। এই পুরো প্রক্রিয়ার সময় কমিউনিটির ভূমিকা সর্বদাই কেন্দ্রীয় হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন: “সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তরুণরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। কমিউনিটি-ভিত্তিক তালিকাকরণ ও নথিভুক্তকরণে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই কর্মশালা আদিবাসী তরুণদের নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সক্রিয় রক্ষক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”

কমলগঞ্জের বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকারী তৃষা সিনহা বলেন: “নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ শুরু করার পর এই কর্মশালাটি আমার জন্য অনেক অর্থবহ হয়ে উঠেছে। ছোটবেলায় শুধু বইয়ে ইউনেস্কো সম্পর্কে পড়েছি, কিন্তু এই প্রথমবার তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ কার্যক্রমকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেলাম। গত কয়েক দিনে আমি অনেক নতুন বিষয় শিখেছি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নতুন বন্ধু পেয়েছি এবং আমাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি।”

শমসেরনগর, কমলগঞ্জের চা-জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকারী জিয়ানা মাদ্রাজি বলেন: “আমি সত্যি এখানকার কর্মশালার অংশ হতে পেরে খুবই আনন্দিত এবং গর্বিত। ইউনেস্কো ও CRIHAP দ্বারা আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে আমি আমাদের চা-জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। বিশেষত, আমাদের দল "পাটিচকা" ঐতিহ্য নিয়ে আমাদের গবেষণার মাধ্যমে এই কর্মশালা আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারার কথা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং ভবিষ্যতে চা-জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

সাহিত্য-সংস্কৃতি এর আরও খবর