লন্ডনে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী বাংলা নাট্যোৎসব
লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসে শুরু হয়েছে ‘এ সিজন অব বাংলা ড্রামা’। ৩১ অক্টোবর ব্রাডি আটর্টস সেন্টারে উদ্ধোধন হলো এ নাট্য উৎসব। ১ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত মাসব্যাপী এই নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ হবে ১২টি নাট্যপ্রযোজনা। সঙ্গে থাকছে ৩০টিরও বেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উদ্ধোধনী সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয়েছে ‘ন্যারেটিভ অব টাইম এনথোলজি’। মঞ্চস্থ করেছে আর্টস উইদাউট বর্ডার‘এর নাট্য শিল্পীবৃন্দ। ১ নভেম্বর রোববার মেটিনি শো বিকাল ৪টায় ব্রাডি আর্টস সেন্টারে দ্বিতীয় মঞ্চায়ন হবে এ নাটকটি। উদ্ধোধনী দিনে মঞ্চায়িত নাটকে দর্শক ছিল হল ভর্তি।
উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির কো-অডিনেটর ড. আহমদউল্লাহ।তিনি বাংলা নাট্য উৎসবের ইতিহাস বর্ণনাসহ প্রতিপাদ্য নাটকটির মূল কাহিনি ও বাঙালির অভিবাসন এবং ব্রিটিশ সমাজে অস্থিত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। আরো বক্তব্য রাখেন কুইনমেরী ইউনির্ভাসিটির প্রফেসর আলী ক্যামবেল। মঞ্চায়ন শেষে শিল্পীদের শ্রোতা ও দর্শকদের প্রতিক্রিয়া পর্ব উপস্থাপন করেন ড. ক্যানন সালিহ। উব্ধোধনী পর্ব উপস্থাপন করেন ফ্যাস্টিভাল প্রডাকশন বর্মকর্তা কাজী রোকসানা। নাটক শেষে দর্শকদের নৈশভোজে আপ্যায়িত করা হয়।
উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ‘কৌতূহল’, ইংরেজিতে কিউরিওসিটি। এই সৃজন ভাবনায় নাট্যনির্মাতাবৃন্দ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আধুনিক জীবনের নানা বাঁকে, নানা মেজাজে নাটক উপস্থাপন করবেন।এ সৃজনশীল উপস্থাপনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি জনজীবনের গল্প, বৈচিত্র্যতা ও বিবর্তন তুলে ধরা হবে।
এবারে উৎসবের বিভিন্ন ভ্যেনুর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাডি আর্টস সেন্টার, আর্টসওয়ান, কবি নজরুল সেন্টার, রুট/২৫ এবং বিভিন্ন পাবলিক স্পেস বা জনপরিসরসহ একাধিক স্থান। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সমাজের বহুভাষিক বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিয়ে নাটক ও অন্যান্য পরিবেশনায় বাংলা, ইংরেজি, সিলেটি এবং আরও কয়েকটি ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে।
উৎসবের উল্লেখযোগ্য প্রযোজনার মধ্যে রয়েছে বাঙালি সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুর বন্ধন’-এর ‘উই ডোন্ট সে হার নেম’। ৭ নভেম্বর ব্রাডি আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা ৭টায়। বাংলা ভাষার সরাসরি সংগীত ও বিভিন্ন প্রজন্মের অভিজ্ঞতাভিত্তিক গল্প বলার সমন্বয়ে নির্মিত এই দ্বিভাষিক নাটক পারিবারিক সম্পর্ক ও স্মৃতির নানা দিক তুলে ধরবে।
৮ নভেম্বর ব্রাডি আটর্স সেন্টারে মঞ্চস্থ হবে ‘ওল্ড গেট’ নাটক। নাটকে বয়স বাড়ার অভিজ্ঞতা এবং সমাজে নিজের অবস্থান ও অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি অনুসন্ধান করা হয়েছে। আরো রয়েছে রেশাম কালেক্টিভের ‘আই হেয়ার হিউমিং ১৯ নভেম্বর ব্রাডি আর্টস সেন্টারে। ‘আই হিয়ার হামিং’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নারীদের জীবনের আড়ালে থাকা ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরবে। অন্যদিকে, ‘টু আম্মি, উইথ লাভ’ মঞ্চস্থ হবে ২৬ নভেম্বর ব্রাডি আর্টস সেন্টারে সন্ধ্যা ৭টায়। একজন অভিবাসী মায়ের জীবন, মাতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত এক আবেগঘন একক নাট্যপ্রযোজনা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র-এর প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হবে ‘বায়স্কোপ‘ ১৫ নভেম্বর, ব্রাডি আর্টস সেন্টারে সন্ধ্যায় ৭টায়।
আরো রয়েছে থিয়েটার শৈশব এর ‘এ লিটল উইন্গস অব প্যারাডাইস’ ২১ নভেম্বর ব্রাডি আর্টস সেন্টারে। ২২ নভেম্বর ‘কিউরোসিটি, লাভ এন্ড ট্রান্সফরমেশন‘ মঞ্চস্থ করে বিশামা ব্রাডি আর্টস সেন্টারে। আয়না আটর্সের ‘দি গার্ল্স হু আক্সড হোয়াই‘ মঞ্চস্থ হবে ২৮ নভেম্বর ব্রাডি আর্টস সেন্টারে সন্ধ্যা ৭টায়।
শেষ দিনে ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘পিভট’ সংগঠনের প্রযোজনায় ‘ডিয়ার ডটার্স, ডিয়ার সিসটার্স‘ সন্ধ্যা ৭টায় ব্রাডি আর্টস সেন্টারে সন্ধ্যা ৭টায়। এছাড়া ‘ছান্দসিক’ আবৃত্তি সংগঠনের আয়োজনে রয়েছে কবি নজরুল সেন্টারে‘ লাইট অব ফ্রিডম’। ২৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬ টায় অনুষ্ঠিত আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা ও গানের আসর থাকছে। আরো থাকছে ‘স্বাধীনতা ট্রাস্টের আয়োজনে বেঙ্গলি হেরিটেজ ওয়াক’। অনুষ্ঠিত হবে বেলা ২টায় আলতাব আলী পার্কে ১৯ নভেম্বর।
মূল মঞ্চের নাটকগুলোর পাশাপাশি উৎসবের বিস্তৃত আয়োজনেও দর্শকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। এসব আয়োজনের মধ্যে রয়েছে নাটক লেখা ও অভিনয়ের কর্মশালা, গল্প বলার অধিবেশন, দ্বিভাষিক কবিতা কর্মশালা, ফ্যাশন ইলাস্ট্রেশন, ঐতিহ্যবিষয়ক পদযাত্রা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, শিল্পকলা ও হস্তশিল্পের কর্মশালা, কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা, উন্মুক্ত মঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অংশগ্রহণের উপযোগী সৃজনশীল কার্যক্রম।
উৎসবের অনেক অনুষ্ঠান বিনামূল্যে উপভোগ করা যাবে। কিছু অনুষ্ঠানে দর্শকেরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দিতে পারবেন। এর মাধ্যমে আয়োজকেরা বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক পটভূমির মানুষের জন্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ সহজলভ্য রাখার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।
১ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই মাসব্যাপী আয়োজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সৃজনশীলতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলা নাটকের নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাজ উপভোগ করার সুযোগ করে দেবে।
অনুষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ সূচি, স্থান, সময় এবং টিকিট বা বুকিং-সংক্রান্ত তথ্য জানতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে রয়েছে।



















