img

সিলেটে চাচাকে হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে শিশুসন্তানসহ স্বামী-স্ত্রী ও বোন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৮:২১, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:২৩, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

 সিলেটে চাচাকে হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে শিশুসন্তানসহ স্বামী-স্ত্রী ও বোন গ্রেপ্তার

সিলেটের বালাগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে চাচাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এসআরবি-৯ (সিলেট) ও এসআরবি-৭ (চট্টগ্রাম)-এর যৌথ দল চট্টগ্রামের বন্দর থানাধীন ব্রিকফিল্ড রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব মুসলিমাবাদ এলাকার মৃত মির্জা ফরিদের ছেলে মির্জা টিটু (৩৫), টিটুর স্ত্রী সালমা বেগম (২৫) ও বোন মির্জা জেনি (৩৮)।

গ্রেপ্তারের সময় টিটু ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ছিল তাদের শিশু সন্তান। মা-বাবা দুজনই হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়ায় শিশুটির পরবর্তী দায়িত্ব কে নেবেন আদালত তা নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন এসআরবি কর্মকর্তা।

এসআরবি জানায়, গত ২৫ অক্টোবর সিলেটের বালাগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় খুন হন মির্জা আব্দুল লতিফ আবুল (৬৫)। ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী লতিফ ও তার পরিবারের সদস্যরা পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লতিফকে মৃত ঘোষণা করেন। ​এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বালাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে এসআরবি-৯ (সিলেট) ও এসআরবি-৭ (চট্টগ্রাম)-এর যৌথ দল চট্টগ্রামের বন্দর থানাধীন ব্রিকফিল্ড রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

এসআরবি-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, এসআরবি-৭ ও এসআরবি-৯-এর যৌথ অভিযানে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় টিটু দম্পতির সঙ্গে তাদের শিশু সন্তানও ছিল। শিশুটির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবেন।

বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ তদফদার জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর এসআরবি-৭-এর সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে দুই ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের সিলেটে নিয়ে আসতে বালাগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সিলেটে আনার পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

শিশুটির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে শিশুটি সঙ্গে থাকলে তাকে দেখভালের জন্য পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের কাছে দেয়া হবে কি না এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৃত আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিল পুলিশ

প্রকাশিত :  ১৫:০৪, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:০৬, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলায় মৃত্যুর তিনমাস পর এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

গত ২৯ এপ্রিল ওই নেতার মৃত্যু হলেও ৩১ জুলাই আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে তাকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার তদন্তের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ওই নেতার নাম আবুল খয়ের ইসরাইল। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর দাওরাই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এ মামলায় তিনি ৫৬ নম্বর আসামি। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুন নূর মীরপুর বাজারে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে জগন্নাথপুর থানায় মামলা করেন। এতে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানসহ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৯ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, মীরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লালন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিক পাল ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে আবুল খয়ের ইসরাইলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮ ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। অথচ অভিযোগপত্র দাখিলের তিনমাস আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ১৭ নভেম্বর রাতে মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানের হুকুম ও প্ররোচনা ছিল। তার সবুজ সংকেত ও প্ররোচনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ওই কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে মোট ৭৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি এম এ মান্নানসহ ২৫ জন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অনিক পাল বলেন, বাদীর এজাহার, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আবুল খয়ের ইসরাইলের মৃত্যুর বিষয়টি তার জানা নেই। মৃত্যুসনদ পেলে বিষয়টি আদালতকে জানানো হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর