img

‘বেটার নেইবারহুডস’ কর্মসূচিতে ৪৬টি কাউন্সিল বাড়ি-ঘরের উন্নয়ন, ২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে নতুন রূপ পেল ৯৯ ওল্ড ফোর্ড রোড

প্রকাশিত :  ০৫:৫০, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

‘বেটার নেইবারহুডস’ কর্মসূচিতে ৪৬টি কাউন্সিল বাড়ি-ঘরের উন্নয়ন, ২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে নতুন রূপ পেল ৯৯ ওল্ড ফোর্ড রোড

টাওয়ার হ্যামলেটসে কাউন্সিলের ‘বেটার নেইবারহুডস’ কর্মসূচির আওতায় ৯৯ ওল্ড ফোর্ড রোডের একটি ঐতিহ্যবাহী আবাসিক ভবনের ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে বাড়িটির নিরাপত্তা, সৌন্দর্য, জ্বালানি দক্ষতা এবং বাসযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কাউন্সিলের দীর্ঘমেয়াদি আবাসন উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিচালিত এই প্রকল্পটি এলাকার বিদ্যমান কাউন্সিল বাড়িগুলোর মান উন্নয়নে নেওয়া বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ।

৯৯ ওল্ড ফোর্ড রোডে সম্পন্ন হওয়া কাজের মধ্যে রয়েছে নতুন ছাদ নির্মাণ, লফট ইনসুলেশন স্থাপন, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রতিস্থাপন, নতুন জানালা ও দরজা সংযোজন, ফেন্স বা সীমানার বেড়া পরিবর্তন, ইটের গাঁথুনি ও কংক্রিট মেরামত এবং ভবনের বাইরের অংশের সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন। নতুন ইনসুলেশন ব্যবস্থা শীতকালে ঘর উষ্ণ রাখতে সহায়তা করবে এবং জ্বালানি ব্যয় কমাতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নতুন জানালা ও দরজা নিরাপত্তা ও আরাম বাড়ানোর পাশাপাশি তাপ সংরক্ষণেও কার্যকর হবে।

কর্মসূচির আওতায় মোট ৪৬টি প্রপার্টি বা আবাসনের উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি ভবন লিস্টেড বা তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী ভবন অথবা সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত। এই উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড।

গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন ক্যাবিনেট মেম্বার ফর হোমবিল্ডিং এন্ড এনহ্যান্সিং কাউন্সিল হোমস্ এন্ড নেইবারহুডস, কাউন্সিলর সাঈদ আহমেদ।

পরিদর্শনকালে টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “আজ আমরা ৯৯ ওল্ড ফোর্ড রোডে এসেছি আমাদের ‘বেটার নেইবারহুডস’ কর্মসূচির আওতায় সম্পন্ন হওয়া বড় ধরনের উন্নয়ন কাজের ফলাফল দেখতে।এই উন্নয়ন কাজের মধ্যে রয়েছে নতুন ছাদ স্থাপন, ইনসুলেশন, নতুন জানালা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মেরামত, যা আগামী বহু বছর ধরে এই বাড়িটিকে নিরাপদ, উষ্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে।

এটি টাওয়ার হ্যামলেটস জুড়ে বিদ্যমান কাউন্সিল আবাসনগুলোতে আমাদের চলমান বিনিয়োগের অংশ। আমরা জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, আবাসন সম্পদের সুরক্ষা এবং বাসিন্দাদের জন্য এমন বাড়ি নিশ্চিত করতে কাজ করছি, যেগুলো নিয়ে তারা গর্ববোধ করতে পারেন।

‘বেটার নেইবারহুডস’ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা পুরো বারাজুড়ে বাড়ি ও আশপাশের এলাকার মানোন্নয়নে বাস্তব পরিবর্তন আনছি। এর ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাসিন্দাদের জন্য আরও নিরাপদ, আরামদায়ক এবং টেকসই বসবাসের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।”

ক্যাবিনেট মেম্বার ফর হোমবিল্ডিং অ্যান্ড এনহ্যান্সিং কাউন্সিল হোমস অ্যান্ড নেইবারহুডস, কাউন্সিলর সাঈদ আহমেদ বলেন, “৯৯ ওল্ড ফোর্ড রোডে সম্পন্ন হওয়া এই প্রকল্পটি এটাই দেখায় যে আমরা শুধু কাউন্সিলের আবাসন সম্পদ সংরক্ষণ করছি না, বরং বাসিন্দাদের জন্য আরও উন্নত, নিরাপদ ও জ্বালানি-দক্ষ বাসস্থান নিশ্চিত করছি। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী ও সংরক্ষিত ভবনগুলোর ক্ষেত্রে আধুনিক মানের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। ‘বেটার নেইবারহুডস’ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা আমাদের আবাসিক এলাকাগুলোকে আরও আকর্ষণীয়, টেকসই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপযোগী করে তুলতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখছি।”

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

রবীন্দ্রনাথের ইউরোপ ভ্রমণের শতবর্ষে লন্ডনে গীতবীণার বিশেষ গীতি-আলেখ্য

প্রকাশিত :  ০৬:০৬, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইউরোপ ভ্রমণের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে লন্ডনের গীতবীণা, স্বাধীনতা ট্রাস্ট এবং কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে গত ৩১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের পিন্টার স্টুডিওতে পরিবেশিত হয় এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের সূচনায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গীতবীণার প্রধান উপদেষ্টা বাতিরুল হক সরদার। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন স্বাধীনতা ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ও কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক অ্যালেস্টার ওয়েনস। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক সুনীতা চৌধুরী ও রুমী হক যথাক্রমে বাংলা ও ইংরেজিতে গীতবীণার বিশেষ গীতি-আলেখ্য ‘গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে’ পরিবেশনার ঘোষণা দেন। মূল সাংস্কৃতিক পর্বের প্রারম্ভে স্বাধীনতা ট্রাস্টের সহসভাপতি ভ্যালেন্টাইন হার্ডিং কবিগুরুর রচনা থেকে পাঠ করে শোনান।

গীতবীণার বিশেষ নিবেদন ‘গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে’ গীতি-আলেখ্যের সূচনায় ড. শ্যামল চৌধুরী গীতবীণার একান্ত শুভাকাঙ্ক্ষী, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জনাব অরিজিৎ চৌধুরীর আকস্মিক ও অকালপ্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং গীতবীণার প্রতি তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

রবীন্দ্র-গবেষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব পীতম সেনগুপ্তের ধারাবর্ণনা এবং গীতবীণার সদস্য রুমী হকের ইংরেজি অনুবাদ পাঠের মধ্য দিয়ে গীতি-আলেখ্যটি এগিয়ে চলে। এর সঙ্গে সংগতি রেখে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথের ইউরোপ ভ্রমণকালে রচিত একাধিক গান। সমবেত ও দ্বৈত কণ্ঠে মনোমুগ্ধকর এই পরিবেশনায় অংশ নেন রুমী হক, মিতালী বনোয়ারি ও সুনীতা চৌধুরী। রবীন্দ্রসংগীতভিত্তিক নির্ধারিত রাগাংশ পরিবেশন করেন স্বাধীনতা ট্রাস্টের সদস্য বুধাদিত্য ভট্টাচার্য। সব গানের সঙ্গে তবলা সংগত করেন সন্দীপ চক্রবর্তী। শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও আলোক প্রক্ষেপণের দায়িত্বে ছিলেন কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলস।

গীতি-আলেখ্যটির মূল ভাবনা, গবেষণা ও ধারাবর্ণনায় ছিলেন ভারতের বিশিষ্ট রবীন্দ্র-গবেষক, লেখক ও প্রাবন্ধিক এবং এই প্রতিবেদক। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ১৯২৬ সালে ইউরোপ সফরকালে রবীন্দ্রনাথ যতসংখ্যক গান রচনা করেছিলেন, তাঁর অন্য কোনো বিদেশ সফরে তেমনটি ঘটেনি। ৬৫ বছরে পদার্পণের পর ১৯২৬ সালের ১২ মে শান্তিনিকেতন থেকে নবমবারের মতো সপরিবারে বিদেশ সফরে যাত্রা করেন কবি। দীর্ঘ সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইতালি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, জার্মানি, চেকোস্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, ক্রোয়েশিয়া, যুগোস্লাভিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া ও গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। কবির এই দীর্ঘ সফর শুধু ভৌগোলিক পরিসরেই বিস্তৃত ছিল না; তাঁর সৃজনশীল জীবনেও তা এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সফরকালে রচিত গানগুলোর মধ্য দিয়ে সেই সময়ের অনুভব, অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতার পরিচয় তুলে ধরাই ছিল এই গীতি-আলেখ্যের অন্যতম উদ্দেশ্য।

গীতি-আলেখ্যের পর্ব শেষ হলে স্বাধীনতা ট্রাস্টের পরিচালক ড. আনসার আহমেদ উল্লাহ অনুষ্ঠানের আয়োজক, শিল্পীবৃন্দ, কলাকুশলী, সাংবাদিক এবং উপস্থিত দর্শকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনে সবার স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার জন্য তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গীতবীণার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয় স্বাধীনতা ট্রাস্টের সভাপতি জনাব জামিল ইকবাল, সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক ড. শ্যামল চৌধুরী এবং পীতম সেনগুপ্তকে। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতা ও মিলনায়তন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জনাব সাদেক আহমেদ চৌধুরী, মৃন্ময় রায় চৌধুরী, মোজাম্মেল হোসেন ও আফরিন।

কমিউনিটি এর আরও খবর