img

লন্ডনে জাঁকজমকপূর্ণভাবে মর্যাদাপূর্ণ বিসিএর ১৯তম বার্ষিক এওয়ার্ডস ও গালা ডিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৫:২৫, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

লন্ডনে জাঁকজমকপূর্ণভাবে মর্যাদাপূর্ণ বিসিএর ১৯তম বার্ষিক এওয়ার্ডস ও গালা ডিনার অনুষ্ঠিত

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ক্যাটারিং শিল্পের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) ১৯তম বার্ষিক অ্যাওয়ার্ডস ও গালা ডিনার ২০২৬ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রবিবার (১ নভেম্বর) হাজারো অতিথির উপস্থিতিতে জমকালো এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিসিএর এই আয়োজন যুক্তরাজ্যের খাদ্য ও আতিথেয়তা খাতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উদযাপন হিসেবে পরিচিত।

সৌহার্দ্যপূর্ণ, বন্ধুত্ব, সদ্ভাব, আন্তরিকতা, প্রীতি ও ভালো সম্পর্ক,মৈত্রী, সম্প্রীতি, হৃদ্যতা, প্রীতি, সদ্ভাব; পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, সকল শ্রেণী পেশায় বাঙালিয়ানা আত্মীয়তায় ভরপুর ছিলো।

টকটিভির সম্প্রচারক ইয়ান কলিন্স এবং একাধিক পুরস্কারজয়ী সংবাদ উপস্থাপক ও সাংবাদিক আনিলা ধামির প্রাণবন্ত  উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠান কারি শিল্পের এক মিলনমেলায় পরিনত হয়েছে। 

বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ওলি খাঁন এমবিইর স্বাগত বক্তব্যের  পর একে একে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহামান্য মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, সীমা মালহোত্রা এমপি, কেভিন বোনাভিয়া এমপি, রুপা হক এমপি, স্যার জেমস ক্লেভারলি এমপি, ড্যানিয়েল জেইচনার এমপি, লর্ড করণ বিলিমোরিয়া, লর্ড কোরবান হোসেন এবং লর্ড রামি রেঞ্জার সিবিই, বিসিএর সেক্রেটারি জেনারেল টিপু রহমান, বিসিএর ট্রেজারার  ফয়জুল হক, অ্যাওয়ার্ডস কমিটির আহ্বায়ক ও সেলিব্রিটি শেফ আতিক রহমান এমবিই, প্রেস ও পাবলিকেশনস সেক্রেটারি নাজ ইসলামসহ নানা শেণি পেশার বিশিষ্টজনরা বক্তব্য রাখেন এবং এওয়ার্ডস প্রাপ্তদের হাতে ক্রেষ্ট ও সাটিফিকেট তুলে দেন।

বিসিএর প্রেসিডেন্ট  ওলি খাঁন এমবিই বলেন, “রবিবার ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের এত মানুষকে একসাথে দেখতে পাওয়াটা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এই অ্যাওয়ার্ডস কেবল শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই নয়, বরং আমাদের এই শিল্পকে যারা এতটা বিশেষ করে তুলেছেন—সেইসব মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আমাদের যৌথ ঐতিহ্যকে উদযাপন করারও একটি উপলক্ষ। আমাদের সকল বিজয়ীদের অভিনন্দন, যাদের অর্জন এই খাতকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিভারই প্রমাণ দেয়।”

সেক্রেটারি জেনারেল টিপু রহমান বলেন, “আমাদের শিল্পে যারা উচ্চমান স্থাপন করছেন, সেইসব রেস্তোরাঁ এবং মানুষদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এই অ্যাওয়ার্ডস একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। রবিবারের অনুষ্ঠানটি ছিল একটি চমৎকার উদযাপন, যা সহকর্মীদের নিজেদের অর্জনগুলো ভাগ করে নিতে এবং যুক্তরাজ্য জুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটিতে বাংলাদেশি হসপিটালিটি খাতের অব্যাহত অবদানকে স্বীকৃতি দিতে একত্রিত করেছে। আমরা আশা করি এ বছরের বিজয়ীরা তাদের অর্জনের জন্য গর্ববোধ করবেন।”

ট্রেজারার  ফয়জুল হক বলেন, “প্রতিটি সফল রেস্তোরাঁর পেছনে থাকেন একজন ব্যবসায়ী এবং একটি কর্মীদল, যারা কর্মসংস্থান তৈরি করছেন, সরবরাহকারীদের সহায়তা করছেন এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে (হাই স্ট্রিট) অবদান রাখছেন। এই অ্যাওয়ার্ডস সেই কঠোর পরিশ্রম এবং আমাদের শিল্পকে সচল রাখা উদ্যোক্তা মনোভাবের ওপর আলোকপাত করে। রবিবারের গালা অনুষ্ঠানে একসাথে বসে সেই অর্জনগুলো উদযাপন করতে পারা এবং যেসব ব্যবসার অবদান কেবল ডাইনিং রুমের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, তাদের স্বীকৃতি দিতে পারাটা ছিল বিশেষভাবে আনন্দদায়ক।”

প্রেস ও পাবলিকেশনস সেক্রেটারি নাজ ইসলাম বলেন, “ব্রিটেনে বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পকে যারা গড়ে তুলেছেন, তাদের মানুষ, গল্প এবং ঐতিহ্যের এক যথার্থ উদযাপন ছিল এই সন্ধ্যাটি। প্রতিষ্ঠিত নামের পাশাপাশি উদীয়মান প্রতিভাদের একসাথে স্বীকৃতি পেতে দেখা এবং পুরো শিল্পকে একত্রিত করে এর অর্জনগুলো উদযাপন করা ছিল অত্যন্ত আনন্দের। বিসিএ ৬৬ বছর ধরে এই কমিউনিটির হয়ে কাজ করছে, আর আমাদের বিজয়ীদের সাফল্যের কথা তুলে ধরা এরই গল্প বলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস কমিটির আহ্বায়ক ও সেলিব্রিটি শেফ আতিক রহমান এমবিই  যোগ করেন, “এটি ছিল একটি চমৎকার সন্ধ্যা এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের এত মানুষকে একত্রিত করতে পারাটা সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয়। এই অ্যাওয়ার্ডস আমাদের যৌথ ঐতিহ্যকে উদযাপন করে, ব্রিটেনে আমাদের শিল্পের অসামান্য অবদানকে তুলে ধরে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে এটি সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।”

বৃটেন থেকে সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর জানান, রেস্টুরেন্ট অব দ্য ইয়ার’ ১২টি অঞ্চল থেকে ৪৮টি রেস্টুরেন্টকে এওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে । এছাড়া ব্রিটিশ বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও হসপিটালিটি খাতের উদ্যোক্তা, শেফ, ব্যবসায়ী এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভিন্ন বিভাগে এওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে । 

অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা বা ‘বিসিএ অনার্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয় এমপি কেভিন বোনাভিয়া, ব্রিক লেনের উদ্যোক্তা আবদুল জব্বার এবং মানবাধিকারকর্মী ড. নাজিয়া খানম ওবিইকে। জনসেবা, ব্যবসা এবং কমিউনিটির প্রতি তাঁদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

টিকিট সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে যাওয়া ১৯তম বার্ষিক বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) এওয়ার্ডসে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হসপিটালিটি বা আতিথেয়তা খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা একত্রিত হন। এই আয়োজনের মাধ্যমে সেইসব রেস্তোরাঁ, শেফ, উদ্যোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যারা এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে এবং কারির প্রতি ব্রিটেনের মানুষের ভালোবাসা অটুট রাখতে নিষ্টা ও নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। 

লন্ডনের পার্ক প্লাজা ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ হোটেলে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ গালা ডিনারটি ছিল রন্ধনশিল্পের উৎকর্ষ এবং এই শিল্পের পেছনের মানুষ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য উদযাপন—যে শিল্প হাজারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এই আয়োজনকে ঘিরে রাজা তৃতীয় চার্লস এবং প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম শুভেচ্ছা ও সমর্থন বার্তা পাঠিয়েছেন, যা অনুষ্ঠানের অফিশিয়াল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। বাকিংহাম প্যালেস থেকে পাঠানো বার্তায় রাজা এই অ্যাওয়ার্ডসের প্রশংসা করেন এবং অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানানো হয় এবং ব্রিটেনের অর্থনীতি ও স্থানীয় কমিউনিটিতে বাংলাদেশি হসপিটালিটি ব্যবসাগুলোর অবদানের কথা স্বীকার করা হয়।

জাঁকজমকপূর্ণভাবে মর্যাদাপূর্ণ বিসিএ\'র১৯তম বার্ষিক এওয়ার্ডস ও গালা ডিনারপার্টিতে আগতরা বাংলাদেশি কমিউনিটির এই দীর্ঘ পথচলা, অর্জন ও সাফল্য সত্যিই গর্বের বলে উল্লেখ করে বিসিএ\'র প্রেসিডেন্ট ওলি খান এমবিই, জেনারেল সেক্রেটারি টিপু রহমান এবং ট্রেজারার ফয়জুল ইসলামের গতিশীল নেতৃত্বে সংগঠনটি তার গৌরবময় ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব করে যাবে বলে এই প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেছেন। 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৬৫ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনের মূলধারায় ১২,০০০

বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও ক্যাটারিং শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও দ্বৈত নাগরিকদের ভোটে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করণসহ প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধের আহ্বান

প্রকাশিত :  ১৫:২৯, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৫৯, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকায় মন্ত্রী ও এমপিদের সাথে সম্মিলিত প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ সভাপতির বৈঠক

ঢাকা, ১লা নভেম্বর ২০২৬: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর এবং একাধিক সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে সফরত যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সম্মিলিত প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ বেলায়েত হোসাইন। পৃথক পৃথক সাক্ষাৎকালে তিনি বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসীদের নানা বিড়ম্বনতা ও সমস্যার কথা তাদের কাছে তুলে ধরেন। এসময় তিনি নবগঠিত সম্মিলিত প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের কার্যক্রম, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন। 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকায় আইনমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে পরিষদের সভাপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেইন এবং সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. এডিএম ইউনুস প্রমুখ।

অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত পৃথক সাক্ষাতে জাজ বেলায়েত হোসেইনের সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. এডিএম ইউনুস।

এ ছাড়া সফরকালে তিনি নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন।

সাক্ষাৎকালে পরিষদের সভাপতি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেড় কোটির বেশি বাংলাদেশি স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসবাস ও কর্মরত রয়েছেন। এসব প্রবাসীর মধ্যে শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িত রয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। পাশাপাশি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও মানবাধিকার সুরক্ষার আন্দোলনেও প্রবাসীদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তিনি এসময় বলেন, প্রত্যেক প্রবাসী মূলত ওইসব দেশে বাংলাদেশের অ্যাম্বেসেডর। 

প্রবাসীদের নানারকমের হয়রানির কথা উল্লেখ করে তিনি মন্ত্রিদের বলেন, দেশের অর্থনীতিতে এত বড় অবদান রাখার পরও প্রবাসীরা তাঁদের প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদা বঞ্চিত হন এবং জায়গায় জায়গায় অবহেলা ও হয়রানির শিকার হন। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি, বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে সেবা পেতে ভোগান্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহির অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জাজ বেলায়েত হোসেইন বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স নিয়ে রাষ্ট্র গর্ব করা হয়। অথচ, কোন সরকারের আমলেই প্রবাসীদের মৌলিক সমস্যা গুলোর সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায় না। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। প্রবাসীরা নিজের দেশ, সম্পদ ও আত্মীয়স্বজন রেখে বিদেশে যান। অনেকে এসে দেখতে তাদের সম্পদ বেহাত হয়ে গেছে। প্রবাসীদের সম্পদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।  

সকল প্রবাসীকে দ্রুত ভোটার তালিকাভুক্ত করে নিজ-নিজ অবস্থান থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের নির্বিঘ্নে ভোটে অংশ নেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর কোন গণতান্ত্রিক দেশে এই নিয়ম নেই যে, দ্বৈত নাগরিত্ব থাকালে ভোটে অংশ নিতে পারবে না। এ সময় তিনি কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদাহরণ দিয়ে বলেন, কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ৩টি দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। ফ্যান্সে নিজ দেশের প্রবাসীরা ভোটে অংশ নিতে পারে এবং এমন ৯জনের বেশি সংসদ সদস্য রয়েছেন যারা দ্বৈত নগারিক এবং প্রবাসী। তারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবেও দায়িতদ্ব পালন করছেন। অথচ বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর রাষ্ট্রীয় নীতিমালা, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের প্রাপ্য নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করা, দূতাবাস ও হাইকমিশনের সেবার মান বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

মন্ত্রীদ্বয় ও সংসদ সদস্যরা মনোযোগ দিয়ে তার কথা গুলো শোনেন এবং সেগুলো সমাধানে সম্ভাব্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জাজ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেইন ব্যস্ততার মধ্যেও সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া এবং আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায্য দাবি আদায় এবং তাঁদের মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে সম্প্রতি লন্ডনে গঠিত হয়েছে ‘সম্মিলিত প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ’। সংগঠনটির সভাপতি জাজ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেইন বর্তমানে সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি সরকারের নীতিনির্ধারক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সাক্ষাৎ করে প্রবাসীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরছেন।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি 

কমিউনিটি এর আরও খবর