img

প্রযুক্তির কিছু খারাপ দিক ও এগুলো থেকে ফিরে আশার পদ্ধতি

প্রকাশিত :  ০৯:১০, ০৪ জানুয়ারী ২০২০

প্রযুক্তির কিছু খারাপ দিক ও এগুলো থেকে ফিরে আশার পদ্ধতি

জনমত ডেস্ক: প্রযুক্তি ছাড়া বর্তমানে আমাদের জীবনের অনেক কিছুর কল্পনাই করা সম্ভব না। পৃথিবীর আজকের সভ্যতার যে এতো উন্নত তার বেশির ভাগই প্রযুক্তির কল্যাণে। তথ্য প্রযুক্তির এই বিপ্লবের মাধ্যমে সময়ের এগিয়ে যাচ্ছে আজকের বিশ্ব। 


তবে বিশ্ব যেমন এগিয়ে যাচ্ছে তাতে মানব সভ্যতার জন্য কিছু খারাপ বা নেতিবাচক দিকও সৃষ্টি হচ্ছে। প্রযুক্তির যেমন আলোর দিক রয়েছে তেমনি অন্ধকারের দিকও রয়েছে। এমন কিছু নেতিবাচক দিক নিয়ে এবারের আয়োজন।


বিপর্যয়ে সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতা:

দেশের বিরাট এক জনগোষ্ঠী ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির আসক্তির মধ্যে রয়েছে। ফলে দেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতা এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন (এসব ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ মাত্রায় নেতিবাচক পরিবর্তন এসেছে)। আর এর মূল ভুক্তভোগী হচ্ছে প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।


তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা তরুণদের মাঝে ফেসবুকের নেতিবাচক ব্যবহার প্রমাণ করে। প্রযুক্তির বন্ধুত্বের সূত্রে পরিবারের অসম্মতিতে পালিয়ে বিয়ে করা, পারিবারিক কলহ, অনৈতিক সম্পর্ক সাময়িক আবেগনির্ভর এ ধরনের সম্পর্কের অশুভ পরিণতি সামাজিক জীবনে নানা ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে। কারো সংসার ভাঙছে, কেউবা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে এবং কারো কারো জীবনটাই বিপন্ন হয়ে পড়ছে। আর এভাবেই বাংলাদেশের সামাজিক মূল্যবোধের দ্রুত অবক্ষয় হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সামাজিক অবক্ষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে।


নৈতিক স্খলন:

মুঠোফোনের অযৌক্তিক ব্যবহার তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা, যৌনহয়রানিসহ বিভিন্নসামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি করছে। এক জরিপে দেখা গেছে, ইন্টারনেট, ইউটিউব, পর্ণগ্রাফি আসক্তিতে উন্নত দেশগুলোর প্রায় ৬৫% যুবসমাজ (১২-১৮ বছর) যৌন হয়রানি ও ধর্ষণসহ বড় বড় অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। যা সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ এমনকি পর্ণ আসক্তিতে প্রতি বছর আমেরিকার স্কুল পড়ুয়া ২,৮০,০০০ শিক্ষার্থী গর্ভবতী হচ্ছে যা পুরো সমাজ ও একটি রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।


প্রযুক্তি কাড়ছে শিশুর মনোযোগ:

প্রযুক্তি কেড়ে নিচ্ছে শিশু-কিশোরদের মনোযোগ। দিন দিন তারা অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে পাঠ্যবইকেন্দ্রিক পড়ালেখার প্রতি। তাদের তীব্র আকর্ষণ মোবাইলের প্রতি। কোলের শিশু থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী সবাই কমবেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে মোবাইলসহ প্রযুক্তির বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারের প্রতি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তা আর অস্থিরতা বিরাজ করছে অভিভাবকদের মাঝে। 


কানে ইয়ারফোন দিয়ে গান শোনা দুর্ঘটনার কারণ:

প্রায়ই দেখা যায় আজকালকার তরুণরা কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে রাস্তায় চলাফেরা করছে। কানে ইয়ারফোন থাকায় অনেক সময় রাস্তার সতর্ক সংকেত বা গাড়ি, সাইকেলের শব্দ শুনতে পায় না তারা। ফলে ঘটে দুর্ঘটনা। এ কথা জানান জার্মান হাসপাতালগুলোর জরুরি বা ‘এমারজেন্সি’ বিভাগের ‘ট্রমা সার্জারি’-র প্রফেসার রাইনহার্ড হফমান।


ডিসপ্লে থেকে জীবাণু শরীরে যায়:

স্মার্টফোন, ট্যাবলেট কিংবা আইফোন ছাড়া যেন আজকাল করোর চলেই না। যদিও এ সবে অসংখ্য জীবাণু, ছত্রাক আর ব্যাকটেরিয়া লুকিয়ে থাকে। এই জীবাণু থেকে কিন্তু আপনি অসুস্থ হতে পারেন। বিশেষ করে যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য এই ঝুঁকি আরো বেশি। তাই এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি।


ইন্টারেনেটে বই পড়া:

বই হাতে নিয়ে পড়াটা যেন আজকাল উঠেই যাচ্ছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। আসলে আজকাল যে ইন্টারনেটে মুহূর্তের মধ্যেই সব রকম তথ্য পাওয়া যায়। অবশ্য আরাম করে বই হাতে নিয়ে পড়ার থেকে ইন্টারনেটে পড়লে যে বেশি ক্লান্ত বোধ হয়, তা অনেকেই হয়ত স্বীকার করবেন। আর এ কথাটিই প্রমাণ করেছেন জার্মানির ট্যুবিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।


কফি মেশিনে জীবাণু!

আজকাল নানা ধরনের কফি মেশিন পাওয়া যায় আর খুব সহজেই নানা স্বাদের কফি তৈরি করা যায়। একেক মেশিনের একেকটি বোতামে টিপ দিলে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের কফি বেরিয়ে আসে। দেখলেই অবাক লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মেশিনই নিয়মিত পরিষ্কার না রাখলে রয়েছে জীবাণুর ভয়। তাই সাবধান! 


এখনই আমাদের এই ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত।একটি সঠিক ধর্মীয় আদর্শ ধারণ করা উচিত যার মাধ্যমে আমাদের যুবসমাজ তাদের জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন হবে এবং তারা হয়ে উঠবে এক একজন, মানবতার কল্যাণে-দেশের কল্যাণে, নিবেদিত প্রাণ। প্রকৃত ধর্মের শিক্ষার পাশাপাশি সঠিক প্রযুক্তির শিক্ষা আমাদের দেশ ও জাতিকে সম্বৃদ্ধি করে তুলবে। ইন্টারনেট ও অনন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।



বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

মহাকাশ, জিওস্পেশাল বা ভূ-অবস্থানভিত্তিক সমস্যা ও সম্ভাবনার তথ্য গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচণে অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়-এডাস্টে অত্যাধুনিক গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন

প্রকাশিত :  ১৯:৩০, ২৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৫০, ২৭ মে ২০২৬

উদ্ধোধন হলো অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূ-অবস্থানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ, গ্রহবিজ্ঞান এবং মহাকাশ প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র। “এডাস্ট সেন্টার ফর জিওস্পেশাল ইন্টেলিজেন্স, প্ল্যানেটারি সায়েন্স অ্যান্ড স্পেস সিস্টেমস” গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন সাবেক বিজ্ঞান ও তথ্য-যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রী ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, এমপি। 

অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মঈন খান বলেন, দেশের প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্যোগ প্রথম নিয়েছে বলে মনে হয়। এর মাধ্যমে নানা সংকট ও সম্ভাবনা দ্রুত গবেষণার মাধ্যমে সমাধান করার পথ উন্মুক্ত হবে। বন্যা বা দুর্যোগ প্রবণ বাংলাদেশে এর অঞ্চল ভিত্তিক প্রভাব যাচাই করে বা অপরাধপ্রবণ এলাকার ডেটা ম্যাপিং করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে এ ধরণের গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে। 

নবনির্মিত ‘এডাস্ট সেন্টার ফর জিওস্পেশাল ইন্টেলিজেন্স’ মূলত স্যাটেলাইট ডেটা ও ভৌগোলিক ম্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের দুর্যোগ পূর্বাভাস, স্মার্ট নগর পরিকল্পনা, আধুনিক কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করবে।   

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমাদুর রহমান। তিনি জিওস্পেশাল প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট ডেটা এবং মহাকাশভিত্তিক গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস-এর পরিচালক ড. মার্টিন ভ্যান ক্রানেনডক, উপ-পরিচালক ড. ক্যাটারিনা মিলকোভিক এবং পরিচালক (গবেষণা) ড. আশরাফ দেওয়ান। তারা আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং উচ্চশিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এম শামসুল আলম লিটন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামুখী কার্যক্রম সম্প্রসারণে এ কেন্দ্রের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় ও অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যলয়ের মধ্যে সহযোগিতা দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সচিব জনাব মোঃ কামরুজ্জামান লিটু ও সদস্য জনাব কামরুন নেহার।

আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের এডভাইজর, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, গবেষক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর