img

ইলফোর্ডে ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির উদ্যোগে কার্বন কর্মশালা সম্পন্ন

প্রকাশিত :  ১১:০২, ০৮ জুলাই ২০২৫

ইলফোর্ডে ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির উদ্যোগে কার্বন কর্মশালা সম্পন্ন

ইস্টহ্যান্ডস ইন্টারন্যাশনাল চ্যারিটি সংস্থার উদ্যোগে গত বুধবার (২ জুলাই ২০২৫) লন্ডন ব্যুরো অফ রেডব্রিজের ইলফোর্ডের কিংডম সলিসিটর অফিস হলে কার্বন রিডাকশন ফুটপ্রিন্ট কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

পরিবেশ শিক্ষার মাধ্যমে স্থানীয় বয়স্ক বাসিন্দাদের জন্য কার্বন রিডাকশন ফুটপ্রিন্ট কর্মশালা (ওয়ার্কশপ) সিটি ব্রিজ ফাউন্ডেশনের প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত এই দ্বিতীয় কর্মশালাটি পরিচালনা করেন খ্যাতনামা পরিবেশবীদ, বৃটেনের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল এস এর সংবাদ পাঠক ডাঃ জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার।

তিনি কার্বনের ব্যবহার কমানো, রিসাইক্লিং, এনারজি সাশ্রয় ও স্বাস্থ্য সম্মত জীবন পরিচালনা প্রভৃতি বিষয়ের উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রাখেন। কর্মশালাটি সিটি ব্রিজ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত একটি বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য বাসিন্দাদের কার্বন নিঃসরণ কমাতে জ্ঞান ও ব্যবহারিক পদক্ষেপে উদ্বুদ্ধ করা। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—পরিবেশগত টেকসইতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারার প্রচার।

উক্ত কর্মশালায় ৩০ জনেরও বেশি স্থানীয় বয়স্ক নাগরিক অংশগ্রহণ করেন, যারা এক প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক সেশনের মাধ্যমে পরিবেশগত সমস্যা ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য-সচেতনতা সম্পর্কে গভীরতর ধারণা লাভ করেন।

প্রকল্পের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “বাসিন্দাদের মাঝে পরিবেশ সম্পর্কে গভীরতর বোঝাপড়া গড়ে তোলা, কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাসের উপায় জানা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।”

ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটি প্রতিবছর চারটি কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, প্রতিটি কর্মশালা চলবে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। 

সেশনের বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকবে: বিদ্যুৎ সাশ্রয়, টেকসই পরিবহন, বর্জ্য কমানো, জ্বালানি-দক্ষ গৃহব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা, বাগান চর্চা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পুনর্ব্যবহার।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন প্রকল্প ইন-চার্জ আহাদ চৌধুরী বাবু। শুভ সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন ইস্টহ্যান্ডস-এর ট্রাস্টি বাবলুল হক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী। সহায়তায় ছিলেন ইস্টহ্যান্ডস-এর স্বেচ্ছাসেবক কিনু মিয়া এবং তৌহিদ চৌধুরী।

দ্বিতীয় কর্মশালাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা ভবিষ্যতের সেশনের জন্য ইতিবাচক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। অংশগ্রহণকারীরা কর্মশালার শেষে ঘরে ফিরে পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখার এবং নিজের সুস্থতা বৃদ্ধির বিষয়ে অধিকতর সচেতন হবেন।

অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র প্রদান করেন ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, ডা. জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার এবং আহাদ চৌধুরী বাবু। এই কর্মশালাটি সহায়তা করেছে আকিলা নূর ফাউন্ডেশন এবং কিংডম সলিসিটর।

ইস্টহ্যান্ডস-এর চেয়ার নবাব উদ্দিন বলেন, “প্রত্যেক মানুষের উচিত নিজের কার্বন নিঃসরণ কমানো, আর একটি চ্যারেটি সংস্থা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করা। আমরা সিটি ব্রিজ ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা এই মহৎ উদ্যোগে আমাদের সহায়তা করছেন এবং পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। আমি বিশ্বাস করি, এই কর্মশালাগুলো অংশগ্রহণকারীদের কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাসে বাস্তব উপকার দেবে।

ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটি সমাজে শিক্ষা এবং ব্যবহারিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও সুস্থ জীবনযাত্রা প্রচারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উদার অর্থদাতাদের সহায়তায়, যেমন City Bridge Foundation, ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করে যাচ্ছে। 



কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ইতালিতে নয়ন খুনের নেপথ্যে বড় ভাইয়ের পরকীয়া

প্রকাশিত :  ১৬:৪০, ০১ মে ২০২৬

শোকের মাতম থামছেই না মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামে। ইতালির লেইজ শহরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরের হাতে ছোট ভাই নয়ন ফকির খুনের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। বিদেশের মাটিতে এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বড় ভাইয়ের পরকীয়া, দ্বিতীয় বিয়ে এবং আর্থিক দ্বন্দ্বের এক জটিল সমীকরণ।

জানা যায়, ঘাতক হুমায়ুন ফকিরের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন থাকলেও, তিনি তায়েবার (চাচাতো বোন) সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন।

তিন বছর আগে টেলিফোনে আমেনাকে (প্রথম স্ত্রী) বিয়ে করলেও, হুমায়ুন দুই বছর আগে ছুটিতে দেশে এসে গোপনে চাচাতো বোন তায়েবাকে (দ্বিতীয় স্ত্রী) বিয়ে করেন। এই দ্বিতীয় বিয়েটি হুমায়ুনের মা-বাবা এবং পরিবার মেনে নেয়নি। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল।

পরে হুমায়ুনের দ্বিতীয় স্ত্রী তায়েবাকে বাড়িতে তোলার খবর শুনে তার বাবা দেলোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 এ কারণে নিজের মা-বাবা ও ছোট ভাই নয়নের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন হুমায়ুন। প্রথম স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি সমঝোতাও করেছিলেন হুমায়ুন।

এ ছাড়া বড় ভাই হুমায়ুন ছোট ভাই নয়নকে ১৩ লাখ টাকা খরচ করে ইতালি নিলেও, নয়ন তাকে বিভিন্ন সময়ে ২০ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি হুমায়ুন তার মা-বাবার ভরণপোষণ বাবদ খরচ করা ১৬ লাখ টাকার অর্ধেক, অর্থাৎ ৮ লাখ টাকা নয়নের কাছে দাবি করেন।

নয়ন সেই টাকা দিতে রাজি হওয়া সত্ত্বেও হুমায়ুন পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে পরিবারের অভিযোগ।

নিহত নয়ন ও ঘাতক হুমায়ুনের একমাত্র বোন দিলারা আক্তার তার বড় ভাইয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করেছেন। অন্যদিকে, প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন অভিযোগ করেছেন যে, হুমায়ুন তাকে নিয়মিত মানসিক নির্যাতন করতেন এবং ভরণপোষণ দিতেন না। অভিযুক্ত হুমায়ুন বর্তমানে ইতালি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইতালির সময় বিকেল ৫টায় নয়ন তার বড় ভাই হুমায়ুনের বাড়ির নিচে বৈদ্যুতিক সাইকেল চার্জ দিতে যান।

নয়ন যখন প্লাগ লাগাতে নিচু হন, তখন ওত পেতে থাকা হুমায়ুন পেছন থেকে ছুরি দিয়ে নয়নের পিঠে ও মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর ভিডিও কলের মাধ্যমে মরদেহ দেশে থাকা মা-বাবাকে দেখান হুমায়ুন।

কমিউনিটি এর আরও খবর