শ্রীমঙ্গলে গোয়ালঘরে ঢুকে মুরগি খাওয়া বিশাল অজগর উদ্ধার
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তি কোয়ার্টারের একটি বাসার গোয়ালঘর থেকে বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা সাপটি উদ্ধার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিনের বাসার গোয়ালঘরে অজগরটি ঢুকে পড়ে। এ সময় সাপটি সেখানে থাকা চার দিন বয়সী একটি মুরগির মাকে খেয়ে ফেলে। অজগরটি দেখতে পেয়ে বাড়ির লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা অজগরটিকে কোনো ধরনের ক্ষতি না করে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
উদ্ধার করা অজগরটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন লোকালয়ে বনাঞ্চল থেকে বড় আকারের অজগর, বিষধর শঙ্খিনীসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ চলে আসার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্কও বাড়ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করছেন, যাতে সেগুলোকে নিরাপদে বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা যায়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন কুমার দেব সজল বলেন, একশ্রেণীর সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী গোষ্ঠী বনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ একর ভূমি দখল করে জনবসতি, রিসোর্ট ও বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণের কারণে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ও খাদ্যের সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বন্যপ্রাণী বিশেষ করে সাপ লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।
স্বপন কুমার দেব সজল বলেন, ‘প্রতিদিনই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ফোন করে বিভিন্ন জায়গায় সাপ আসার খবর দিচ্ছেন। আমরা খবর পেয়ে সেগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করছি, যাতে সাপগুলোকে আবার বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা যায়।’
তিনি আরও বলেন, সাপ দেখলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে না মেরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সাপসহ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।



















