img

বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের আওতায় আসবে ৬৪ জেলা

প্রকাশিত :  ০৫:২২, ২৫ আগষ্ট ২০২১

বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের আওতায় আসবে ৬৪ জেলা

জনমত ডেস্ক: গ্রামে রান্নার কাজে আর কাঠ বা লাকড়ি নয়। শহরের মতোই গ্যাসেই রান্নার কাজ চলবে গ্রামে। এ জন্য সরকার দেশের ৬৪ জেলার সকল উপজেলায় বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমেই বর্তমান সরকারের ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’  শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক শহরের মতো এই গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান হবে বিশাল জনগোষ্ঠির। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ‘দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তি নির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে বায়োগ্যাস ব্যবহারের মধ্য দিয়ে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে দেশের ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ১ লাখ ২৮ হাজার যুবকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে,  প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব এবং জনমুখী। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ৬৪টি জেলার ৪৯২টি উপজেলায় বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে রান্না ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমিবে, এর ফলে দেশের ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন সম্ভব হবে। তাছাড়া, ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে খামার এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের ফলে গ্রামীণ যুবদের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। 

পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করা এবং একনেক বৈঠকে উপস্থাপন করা প্রকল্প প্রস্তাবে জানা গেছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় যুব উন্নয়ন অধিদফতর ‘দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এটি বাস্তবায়িত হবে। এর জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ সম্পূর্ণ ২০৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগামী ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

যুব মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আধুনিক নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশের ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন এবং যুবদের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য।

সূত্র জানায়, ৬৪ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হবে। এর জন্য গবাদি পশুর খামার স্থাপনের মাধ্যমে প্রতি খামারে কমপক্ষে ২ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এক লাখ ২৮ হাজার যুবকের। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ জন যুবকের। প্রকল্পের অনুকূলে রিভলভিং ক্রেডিট ফান্ড পরিচালনা বাবদ রাখা হবে ১২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় যানবাহন ও যন্ত্রপাতিও কেনা হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যুবসমাজকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে যুবসম্পদে পরিণত করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান এবং আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যার সঙ্গে প্রকল্পটি সংগতিপূর্ণ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরিশাল বিভাগের আওতাধীন পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার ২নং সোহাগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের বিষয়ে ইউএনও অফিসে ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। উপজেলার কোথায় কোথায় এইসব প্লান্ট স্থাপিত হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে বিষয়টি মাথায় রেখে সুবিধাজনক স্থান নির্বাচন করে রাখার জন্য আমাদেরকে বলা হয়েছে। আমরা সেই মাফিক ইউনিয়নের মধ্যে বিভিন্ন স্থান খোঁজার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম জানিয়েছেন, প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। গ্রামে শহরের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই নেওয়া হয়েছে ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ শীর্ষক কর্মসূচি। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে কর্মস্থান নিশ্চিত হবে অন্যদিকে ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন হবে। রান্নাঘরে বিরাজ করবে শহরের আমেজ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

ফেসবুক-ইউটিউবের আয় থেকে কর কাটা হবে না, আসছে ঘোষণা

প্রকাশিত :  ০৬:১৪, ০৭ জুন ২০২৬

ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে স্বাধীন পেশাজীবী ও বিষয়বস্তু নির্মাতারা যে বৈদেশিক আয় দেশে নিয়ে আসেন, আগামী অর্থবছর থেকে সেই আয়ের ওপর উৎসে কোনো কর কাটা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ বিষয়ে আয়কর আইনে সংশোধন আনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এর ঘোষণা দেবেন। তবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দেশে অন্য খাতের আয়ের ওপর নিয়মিত করদাতাদের মতো নির্ধারিত হারে আয়কর দিতে হবে। দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিদ্যমান আয়কর অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি দেশে অবস্থান করে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে সেবা ও পণ্যের বিনিময়ে উপার্জিত অর্থ দেশে আনেন, তবে সেই আয়কে রেমিট্যান্স হিসাবে গণ্য করা হয় না। এ কারণে ব্যাংকগুলো আয়কর আইন অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আনা অর্থের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখত।

তবে প্রবাসে অবস্থান করে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা যে অর্থ পাঠিয়ে থাকেন, সেটিকে রেমিট্যান্স হিসাবে গণ্য করা হয়। রেমিট্যান্সের ওপর উৎসে কর কাটা হয় না।

১ জুন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ ‘চিত্ত মিডিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানা বৈঠক করেন। বৈঠকে জুয়েল রানা ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কর আরোপের বিষয়টি নজরে আনেন। প্রধানমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

এনবিআর সূত্র জানায়, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ও প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার পর ফ্রিল্যান্সার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দেশে আনা অর্থের ওপর উৎসে কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। আগামী বাজেটে এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। আয়কর আইনে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সংজ্ঞা যোগ করা হবে। অবশ্য দেশে ব্র্যান্ড প্রমোশন বা স্পনসরশিপের মাধ্যমে তারা অর্থ আয় করেন, তার বিপরীতে সাধারণ নিয়মিত করদাতাদের মতো নির্ধারিত হারে আয়কর দিতে হবে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার কারণে দেশের আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং খাত আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হচ্ছে, এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। যারা বিভিন্ন ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যবহুল, শিক্ষণীয় বা বিনোদনমূলক ছবি, অডিও-ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করেন, তাদেরই ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ বলা হয়। তারা ইউটিউব অ্যাডসেন্স বা ফেসবুক মনিটাইজেশন, ব্র্যান্ড প্রমোশন বা স্পনসরশিপের মাধ্যমে অর্থ আয় করেন।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সাইবার নিরাপত্তা, এআইসহ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) পাঁচটি খাতে দুই লাখ ও ফ্রিল্যান্সিং/কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে আট লাখ নতুন কর্মসংস্থানের ঘোষণা ছিল। একই সঙ্গে শক্তিশালী নীতিমালা প্রণয়ন, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র স্থাপন, ই-ওয়ালেট চালু ও ১০ বছরের কর সুবিধা ও উদ্যোক্তাদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ ও স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ডাচ্-বাংলা ব্যাংক নিজেদের ফেসবুকের অফিশিয়াল পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে, ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর উৎসে কর কর্তন স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকটি জানিয়েছে, যেসব ফ্রিল্যান্সারের হিসাব থেকে আগে কর কেটে নেওয়া হয়েছে, সেই অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও জনস্বার্থে তা বাতিল করেছে সরকার। এছাড়া মোটরসাইকেল-অটোরিকশার কর বাতিল, সম্পদ কর ও উত্তরাধিকার করের উদ্যোগ বাতিল, রপ্তানি প্রণোদনার ওপর বাড়তি কর আরোপ থেকে ইউটার্ন নিয়ে অর্ধেক করা, আবগারি শুল্কের হার তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর