img

আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করার অনুরোধ বিএসইসির চেয়ারম্যানের

প্রকাশিত :  ১৮:১৪, ০৭ মার্চ ২০২২

আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করার অনুরোধ বিএসইসির চেয়ারম্যানের

অর্থনীতি ডেস্ক: রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে দেশের শেয়ারবাজারে যে পতনের হিড়িক লেগেছে এর পেছনে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই দায়ী। কারণ তারা যুদ্ধের খবরে আতঙ্কিত। কিন্তু ওই যুদ্ধের সঙ্গে আমাদের দেশের তেমন কোন সম্পর্কই নেই। তাই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করার জন্য অনুরোধ করেছেন শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান শিবলী-রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে আমরা বিএসইসির পক্ষ থেকে বাজার মনিটর করে দেখেছি, বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করছেন না। ছোট বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন; আর সেই বিক্রির চাপেই বাজারে প্রভাব পড়েছে।

সপ্তাহের তৃতীয় কাযদিবস সোমবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে বড় পতন হয়েছে। দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ১৮২ পয়েন্ট। এমন কাপন ধরানো পতনের পরেই বিনিয়োগকারীদের উদ্দ্যেশ্যে এমন অনুরোধ জানিয়েছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান। আজ ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৭৯টি কোম্পানির মধ্যে ৩৬৪টি প্রতিষ্ঠানেরই শেয়ার দর কমেছে। বেড়েছে মাত্র ৭টি কোম্পানির শেয়ার দর। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৮টি কোম্পানির শেয়ার দর।

বাজারের এমন কাপন ধরানো পতনের বিষয়ে শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, কিছুদিন ধরেই শেয়ারবাজার নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামারিক অভিযানের কারণে নিম্নমুখী ধারা আরও বেগবান হয়েছে। আসলে আমাদের বিনিয়োগকারীরা হুজুগে বিনিয়োগ করেন। এই যুদ্ধের কোনো প্রভাব আমাদের দেশে পড়ার কথা নয়।

তিনি বলেন, দশ-বারো বছর ধরেই শেয়ারবাজারে ধীরগতি ছিলো। এর মধ্যে হঠাৎ করে সাড়ে পাঁচ হাজার পয়েন্ট থেকে সূচক সাড়ে সাত হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি চলে যায়। এটা কখনো স্থিতিশীল হয়নি। বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থার হয়তো অভাব ছিল।

শেয়ারবাজারের এই বিশ্লেষক ধারণা করছেন, বিভিন্নভাবে সূচকটা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই বাজারে পেনিক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে করেন, বাজার অতিমূল্যায়িত হয়নি এবং এভাবে দরপতনের যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ডিএসই পরিচালক ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিনিয়োগকারীদের মাঝে। আরও কমতে পারে-এই ভয়ে সবাই শেয়ার বিক্রি করে দিতে চাইছে বিনিয়োগকারীরা।

বিক্রির চাপ কমাতে লোকসানে শেয়ার বিক্রি না করার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিয়েছেন শাকিল রিজভী। বিক্রয়চাপ কমলেই ধীরে ধীরে আতঙ্ক কাটবে।

এই বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারে সূচকের হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়টি স্বাভাবিক। কিন্তু একটানা সূচকের বড় দরপতন কারো কাম্য নয়। তেমনি একটানা দরবৃদ্ধি স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ নয়।

কিন্তু আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা সহজে বিচলিত হন। ফলে পেনিক সেল বেড়ে যায়। তাই পতন নেমে আসে। কোনো কারণে বাজারে পতন নেমে এলে ভীত হয়ে শেয়ার ছেড়ে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং এই সময় তাদের ধৈর্য্যরে পরিচয় দেয়া উচিত। কারণ এখন বিক্রয়ের সময় নয় বরং ক্রয়ের সময়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ও ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলছি, যুদ্ধের সঙ্গে আমাদের শেয়ারবাজারের কোনো যোগাযোগ নেই। অযথাই এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর সে কারণে বিক্রির চাপে বাজারে বড় পতন হচ্ছে।’

তিনি মনে করেন, শেয়ারবাজারে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটিরও প্রভাব থাকতে পারে এই পতনে। বাজারে একটা সমস্যা হয়েছে, সেটা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, আট-দশ দিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারবাজার নিয়ে একটা গাইডলাইন দিয়েছে; সেই গাইডলাইন মানতে গিয়ে অনেক মার্চেন্ট ব্যাংক ও সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের বাজারে সাপোর্ট দেয়ার ক্ষমতা কমে গেছে।

আহমেদ লালী বলেন, বিএসইসির সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপ না করেই এই নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দ্রুত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসি বসে ওই গাইডলাইনের সংশোধনী আনা উচিত।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাব বাজারে পড়েছে ঠিক। কিন্তু এর বাইরে কোনো কারসাজি করে বাজার অস্থিতিশীল করা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে বিএসইসিকে। যদি অন্য কোনো কারণে বাজারে অব্যাহত পতন হয়, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা দিতে হবে।’ ‘আমাদের দুর্ভাগ্য ৫০ বছরের বাংলাদেশেও একটি স্থিতিশীল শেয়ারবাজার পেলাম না বলে দু:খ প্রকাশ করেন তিনি।

সোমবারের পতনে শেয়ারবাজার নেমে গেছে সাত মাসের আগের অবস্থানে। গত বছরের ২৯ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন সূচক এখন শেয়ারবাজারে। সেদিন ডিএসইএক্সের অবস্থান ছিল ৬ হাজার ৪২৫ পয়েন্ট। তবে সে সময় বিনিয়োগকারীরা ছিলেন উৎফুল্ল।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

ইপিএস প্রকাশ করবে আরো ৮ কোম্পানি

প্রকাশিত :  ০৯:০৯, ১১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:২৫, ১১ মে ২০২৬

বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা করেছে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরো ৮ কোম্পানি। কোম্পানিগুলো তাদের পর্ষদ সভায় ইপিএস ও ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে। ডিএসই সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।ঢাকা স্টক তথ্য

কোম্পানিগুলো হলো- ইস্টার্ন ব্যাংক, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, বিএটিবিসি, প্রগতী ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, ওয়ান ব্যাংক এবং রূপালী ইন্স্যুরেন্স।

কোম্পানিগুলো ৩১ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকের অনিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

কোম্পানিগুলোর বোর্ড সভার তারিখ নিম্নে দেয়া হলো-

১৩ মে

ইস্টার্ন ব্যাংক- দুপুর ২:৩০ টায়,

রূপালী ইন্স্যুরেন্স- বিকাল ৩:০০ টায়,

প্রাইম ইন্স্যুরেন্স- বিকাল ৩:৩০ টায়,

ইউনাইটেড ফাইন্যান্স : বিকাল ৪:০০ টায়,

বিএটিবিসি- বিকাল ৫:০০ টায়।

১৪ মে

ওয়ান ব্যাংক- বিকাল ৩:০০ টায়,

রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স- বিকাল ৩:০০ টায়,

প্রগতী ইন্স্যুরেন্স- বিকাল ৩:০০ টায়।

অর্থনীতি এর আরও খবর