img

বৃটেনের কার্ডিফে যথাযোগ্য মর্যাদায় আর ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদ উল আযহা উদযাপিত,

প্রকাশিত :  ০৯:০০, ১২ জুন ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৪, ১২ জুন ২০২৫

বৃটেনের কার্ডিফে যথাযোগ্য মর্যাদায় আর ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদ উল আযহা উদযাপিত,

বৃটেনের কার্ডিফে আত্মত্যাগ ও বিসর্জনের মহান বার্তাকে বুকে লালন করে মুসলিম কমিউনিটি বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় আর ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে হাজারো লোকের সমাগমে পবিত্র ঈদ উল আদ্বহা উদযাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ জুন) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের শাহ্‌ জালাল (রহ.) মসজিদ এন্ড ইসলামিক কালচারেল সেন্টারে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত ১ম জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের ঈমাম ও খতীব মাওলানা কাজী ফয়জুর রহমান এবং সকাল সাড়ে ৯টায় দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন হাফিজ মাওলানা মিফতাউর রহমান কামিল।

অপরদিকে রিভারসাইড জালালিয়া মসজিদ এন্ড ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত ১ম জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের খতীব মাওলানা আব্দুল মোক্তাদির ও সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত ২য় জামাতের নামাজে ঈমামতি করেন হাফিজ মাওলানা জালাল উদ্দিন।

খুৎবাপূর্ব আলোচনায় ইমামগণ পবিত্র ঈদ উল আদ্বহা আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর উল্লেখ করে বলেন, কুরবানি মূলত মহান আল্লাহু রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি হাসিলের উদ্দেশ্যে আত্মকুরবান করার চেতনা জাগ্রত করে।

শাহ জালাল (রহ.) মসজিদ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাসকুর আহমেদ চৌধুরী টুটুল, জালালিয়া মসজিদের চেয়ারম্যান লিলু মিয়া ও সেক্রেটারি মুহিবুর ইসলাম মায়া সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সবাইকে ঈদ এর শুভেচ্ছা জানিয়ে উভয় মসজিদ প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজোবধি যারা অর্থ, সময় ও শ্রম দিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, যাদের কারণে মুসল্লীরা এত সুন্দর মসজিদ পেয়েছেন, আজ অনেকেই আর আমাদের মাঝে নেই। তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও মহান আল্লাহ্‌ যেনো তাদেরকে জান্নাতবাসী করেন এবং যারা জীবিত আছেন তাদের সুস্বাস্থ্য ও দীঘায়ু কামনা করে সবার নিকট দোয়া চেয়েছেন। উভয় মসজিদের ইমাম ও খতীবগণ দোয়ার মাধ্যমে মুসলিম উম্মার সূখ শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা সহ বাংলাদেশের শান্তি কামনা করেন।

এদিকে ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান ও গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় ফাউন্ডার্স কনভেনর, কমিউনিটি লিডার ও সিনিয়র সাংবাদিক মকিস মনসুর সহ অন্যান্য কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ঈদুল আদ্বহা মানুষকে শান্তি, ত্যাগ ও সাম্য শেখায়। মুসলমানরা কুরবানিকৃত পশুর মাংস গরিব আত্মীয়স্বজন ও দুঃস্থদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে সবাইকে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করার মানসে এর ত্যাগের মহিমা আমাদেরকে আরও উদার ও মানবিক হতে শিক্ষা দিবে। ঈদ-উল-আদ্বহার ত্যাগ ও উৎসর্গের মধ্য দিয়ে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করবো এবং পরস্পরের নৈকট্যে আসবো বলে প্রত্যাশা সহ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি ছড়িয়ে পড়ুক-এ কামনা করেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ইতালিতে নয়ন খুনের নেপথ্যে বড় ভাইয়ের পরকীয়া

প্রকাশিত :  ১৬:৪০, ০১ মে ২০২৬

শোকের মাতম থামছেই না মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামে। ইতালির লেইজ শহরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরের হাতে ছোট ভাই নয়ন ফকির খুনের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। বিদেশের মাটিতে এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বড় ভাইয়ের পরকীয়া, দ্বিতীয় বিয়ে এবং আর্থিক দ্বন্দ্বের এক জটিল সমীকরণ।

জানা যায়, ঘাতক হুমায়ুন ফকিরের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন থাকলেও, তিনি তায়েবার (চাচাতো বোন) সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন।

তিন বছর আগে টেলিফোনে আমেনাকে (প্রথম স্ত্রী) বিয়ে করলেও, হুমায়ুন দুই বছর আগে ছুটিতে দেশে এসে গোপনে চাচাতো বোন তায়েবাকে (দ্বিতীয় স্ত্রী) বিয়ে করেন। এই দ্বিতীয় বিয়েটি হুমায়ুনের মা-বাবা এবং পরিবার মেনে নেয়নি। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল।

পরে হুমায়ুনের দ্বিতীয় স্ত্রী তায়েবাকে বাড়িতে তোলার খবর শুনে তার বাবা দেলোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 এ কারণে নিজের মা-বাবা ও ছোট ভাই নয়নের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন হুমায়ুন। প্রথম স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি সমঝোতাও করেছিলেন হুমায়ুন।

এ ছাড়া বড় ভাই হুমায়ুন ছোট ভাই নয়নকে ১৩ লাখ টাকা খরচ করে ইতালি নিলেও, নয়ন তাকে বিভিন্ন সময়ে ২০ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি হুমায়ুন তার মা-বাবার ভরণপোষণ বাবদ খরচ করা ১৬ লাখ টাকার অর্ধেক, অর্থাৎ ৮ লাখ টাকা নয়নের কাছে দাবি করেন।

নয়ন সেই টাকা দিতে রাজি হওয়া সত্ত্বেও হুমায়ুন পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে পরিবারের অভিযোগ।

নিহত নয়ন ও ঘাতক হুমায়ুনের একমাত্র বোন দিলারা আক্তার তার বড় ভাইয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করেছেন। অন্যদিকে, প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন অভিযোগ করেছেন যে, হুমায়ুন তাকে নিয়মিত মানসিক নির্যাতন করতেন এবং ভরণপোষণ দিতেন না। অভিযুক্ত হুমায়ুন বর্তমানে ইতালি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইতালির সময় বিকেল ৫টায় নয়ন তার বড় ভাই হুমায়ুনের বাড়ির নিচে বৈদ্যুতিক সাইকেল চার্জ দিতে যান।

নয়ন যখন প্লাগ লাগাতে নিচু হন, তখন ওত পেতে থাকা হুমায়ুন পেছন থেকে ছুরি দিয়ে নয়নের পিঠে ও মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর ভিডিও কলের মাধ্যমে মরদেহ দেশে থাকা মা-বাবাকে দেখান হুমায়ুন।

কমিউনিটি এর আরও খবর