img

উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য সিলেটের সাথে সম্পর্ক সম্প্রসারণ করল ইন্ডিয়ান হাসপাতাল

প্রকাশিত :  ২০:১১, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ২০:৫৯, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য সিলেটের সাথে সম্পর্ক সম্প্রসারণ করল ইন্ডিয়ান হাসপাতাল

সিলেটের বাসিন্দাদের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে, ভারতের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি হাসপাতাল অমৃতা হাসপাতাল ফরিদাবাদ ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে একটি তথ্যমূলক অংশীদারদের সভা আয়োজন করে। সিলেট মেডিকেয়ারের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের জন্য উপলব্ধ ব্যাপক চিকিৎসা ও আর্থিক সুবিধাগুলি তুলে ধরা।

অমৃতা হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার জনাব পঙ্কজ কুমার অধিবেশনের নেতৃত্ব দেন। তিনি সুস্পষ্ট করেন যে, হাসপাতালটি ৮১টি বিশেষায়িত চিকিৎসার সুবিশাল পরিসর প্রদান করে, যা হাসপাতালটিকে জটিল এবং উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে । তিনি বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণকারী বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী মূল্যের করার জন্য পরিকল্পিত বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা এবং চিকিৎসা সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সিলেট মেডিকেয়ারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জনাব রেধা মঈন রেজা এবং তার দল এই অনুষ্ঠান আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যা বাংলাদেশ ও ভারতের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার উপর জোর দেয়। এই অংশীদারিত্ব সিলেটের রোগীদের মধ্যে যাদের বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন এবং যাদের চিকিৎসা স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য নয় এমন চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

সভায় বেশ কয়েকজন স্থানীয় চিকিৎসা পেশাদার, এইচসিএফ এবং অংশীদাররা উপস্থিত ছিলেন, যারা রোগীদের যত্নের পথ উন্নত করা এবং চিকিৎসার জন্য অমৃতা হাসপাতালে ভ্রমণকারীদের জন্য একটি সহজ স্থানান্তর ও যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। এই উদ্যোগটি আন্তঃসীমান্ত স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা জোরদার করার এবং এই অঞ্চলের রোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবায় অফুরন্ত সুযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

বরিশালে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, আক্রান্তদের বড় অংশ সমকামী

প্রকাশিত :  ০৬:১১, ৩১ মে ২০২৬

বরিশালে এইচআইভি সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে তরুণ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ এই সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২০ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন শিক্ষার্থী।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ২০৪ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

এসব রোগীর বেশির ভাগই পুরুষের সঙ্গে পুরুষের যৌনসম্পর্কে যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। একইসঙ্গে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রীর শরীরেও সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের চিকিৎসক জসিম উদ্দিন বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে যাদের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে, তাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই পুরুষের সঙ্গে পুরুষের যৌনসম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মাশরুর বিন আজাদ বলেন, আগে এই অঞ্চলে এইচআইভি সংক্রমণের হার তুলনামূলক কম ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে।

এসময় ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চিকিৎসা গ্রহণের সময় রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশের বয়স ১৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তবে সমকামী ব্যক্তির সংখ্যা বা এ সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সরকারিভাবে নেই বলেও উল্লেখ করেন ডা. মাশরুর।

এদিকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য বলছে, বরিশালে ৫ থেকে সাড়ে ৭ হাজারের মত মানুষ সমাজ নিষিদ্ধ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত। এইডস প্রতিরোধে সরকারি কর্মসূচি চললেও তা নিয়ন্ত্রণে কতটুকু ভূমিকা রাখছে এ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। গত এক বছরে দেশে প্রায় দুই হাজার এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, এইচআইভি সংক্রমণ হঠাৎ করে বাড়ে না, এটি দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তার লাভ করে। শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।

এদিকে পারিবারিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়া আর সামাজিক অবক্ষয় তরুণদের এইডসের দিকে ঠেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়াও সচেতনতা ছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব নয় বলে দাবি করছেন চিকিৎসকরা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর