img

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাইডলাইনে ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ: শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৫:০৩, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাইডলাইনে ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ: শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম সম্মেলনের সাইডলাইনে ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ: শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার নিউ ইয়র্কের একটি হোটেলে সেন্টার ফর এনআরবির উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি-এনআরবি’র চেয়ারপার্সন এম এস সেকিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জাতিসংঘে যোগদানকারী বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদলের রাজনৈতিক প্রতিনিধি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিবৃন্দ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা দেশের অগ্রগতির স্বার্থে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যাবলী তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে প্রবাসীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহবান তারা। এজন্য আমেরিকায় ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্র ও সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর তাগিদ দেন আমেরিকান বাংলাদেশিরা। আমেরিকায় বিমান সেবা চালু ও সিলেটের সড়ক পথের কাজ দ্রুত সম্পন্নকরনের দাবী জানান প্রবাসীরা।

আগামী নির্বাচন ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বিষয়ে উপস্থিত আলোচকরা বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন ও দেশের উন্নতির জন্য স্থায়ীভাবে টেকসই সুষ্টু গণতান্ত্রিক নির্বাচনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বলেন, আমাদের অর্থনীতির ভিতকে শক্তিশালী করতে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। প্রবাসীরা বিদেশে বাংলাদেশের দূতের কাজ করছেন।

বক্তারা প্রবাসীদের ভোটাধিকার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। তবে প্রবাসীদের অধিক হারে ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে পোস্টাল ব্যালট যথেষ্ট কার্যকর নয়, এব্যাপারে অনলাইন ভোট বা আগাম ভোট অথবা আরো কার্যকর কোন পদ্ধতি নির্ধারণের আহ্বান জানান।

আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্রান্ডিং করতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির। বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে নিজের ও দলের করণীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর কোনো গোলামী চলবে না, ৫ই আগস্টে এটাই আমাদের শিক্ষা।তিনি বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে আমরা সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনা ও তরুণদের ব‍্যাপক অংশগ্রহন নিশ্চিত করবো । তিনি বৈদেশিক নীতির ব্যাপারে ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতি গ্রহণে তার দলের অবস্থান তুলে ধরেন ।

সভাপতির বক্তব্যে এম এস সেকিল চৌধুরী বলেন, এনআরবি সেন্টারের উদ্যোগে এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্ধ শতাধিক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স হয়েছে। কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের পজিটিভ ইমেজ বহির্বিশ্বে তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। প্রবাসীদের প্রার্থীতার বিষয়ে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রবাসীরা টাকা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল করছেন। কিন্তু দেশের সংসদ ভোটে প্রার্থী হতে পারেন না। প্রবাসীদের ভোটপ্রয়োগ ও প্রার্থীতা বিষয়ে তিনি সকল অস্পটতা দুরীকরণে সরকার প্রতি আহ্বান জানান। তবে আশার কথা হলো- প্রধান উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই বিষয়টা সমাধান তারা করবেন। যদি সমাধান করতে নাও পারেন অন্তত শুরু করে যাবেন। তিনি বলেন, দেশে বিদেশে সকল বাংলাদেশী ও বাংলাদেশী রাজনৈতিক দল ও দল নিরপেক্ষ সকলে মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে এক যোগে কাজ করতে হবে।

সেকিল চৌধুরী আরো বলেন, পরবর্তীতে যারাই ক্ষমতায় আসবেন তারা সবাইকে নিয়ে কাজ করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা এবং এটিই আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার রক্ষাকবচ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনআরবি সেন্টার আমেরিকার সাপোর্ট গ্রুপের সদস‍্য প্রবাসী সানওয়ার চৌধুরী। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির অন‍্যতম নেতা মাফ মিসবাহ উদ্দিন, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক শওকত আলী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মহসিন পাটওয়ারী, চিকিৎসক ডক্টর জন্নুন চৌধুরী, মহিলা উদ্যোক্তা তহুরা চৌধুরী, তরুণ নেতা রাসেল, ব‍্যবসায়ী এম এ হোসেন, পুলিশ কর্মকর্তা কারাম চৌধুরী, চেম্বার নেতা লিটন আহমদ, কমিউনিটি নেতা সাবুল উদ্দিন, ব‍্যাংকার ওয়াসেক চৌধুরী, ব‍্যবসায়ী ও সমাজকর্মী ফখরুল ইসলাম দেলওয়ার, কমিউনিটি নেতা ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম, কমিউনিটি নেতা জসির উদ্দিন, হাসান আলী, ইসলামী চিন্তাবিদ ইমাম শামসী আলী ও ইমাম কারী কাইয়ুম প্রমুখ।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

লন্ডন মহানগর জমিয়তের উদ্যোগে শায়খ ইমদাদুল্লাহ রহ.-এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

প্রকাশিত :  ১৯:৩০, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে, লন্ডন মহানগর শাখার উদ্যোগে শায়খে কাতিয়া রহ.-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র, হযরত ফেদায়ে মিল্লাত রহ.-এর খলিফা, জগন্নাথপুর উপজেলা জমিয়তের সাবেক সহ-সভাপতি এবং কাতিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফিজ মাওলানা শায়খ ইমদাদুল্লাহ রহ.-এর জীবন, ইলমি ও দ্বীনি খেদমত এবং বহুমুখী কর্মময় জীবন নিয়ে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে, লন্ডন মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা আশফাকুর রহমান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন লন্ডন মহানগর জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রিয়াজ আহমদ।

আলোচনা সভায় বক্তারা মরহুম হাফিজ মাওলানা শায়খ ইমদাদুল্লাহ রহ.-এর বর্ণাঢ্য জীবন, ইলমি মেহনত, দ্বীনি খেদমত, আখলাক, আমল, বিনয়, ইখলাস এবং মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, হাফিজ মাওলানা শায়খ ইমদাদুল্লাহ রহ. ছিলেন পদ-পদবির প্রতি সম্পূর্ণ অনাসক্ত, অত্যন্ত মুখলিস, পরহেজগার ও আল্লাহওয়ালা একজন বুযুর্গ। ইলম ও আমলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তাঁর জীবন ছিল সুন্নাতের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও পাবন্দির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি তাঁর পিতা, আশিকে মাদানি রহ. মাওলানা আমিন উদ্দীন শায়খে কাতিয়া রহ.-এর সুন্নতি আমল, আদর্শ ও দ্বীনি মেজাজকে নিজের জীবনে ধারণ করেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

বক্তারা আরও বলেন, শায়খ ইমদাদুল্লাহ রহ.-এর জীবন ছিল নীরব দ্বীনি খেদমত, ইখলাস ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি মাদরাসা, তালিম-তরবিয়ত ও দ্বীনি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় মানুষের মাঝে দ্বীনের খেদমত করে গেছেন। তাঁর ইন্তেকালে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, ছাত্র-শিষ্য এবং বৃহত্তর উলামায়ে কেরাম ও জমিয়তের অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন—জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ইউকে জমিয়তের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা শায়খ আসগর হোসাইন; জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া আরজাবাদ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া; কেন্দ্রীয় জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের সভাপতি ড. মাওলানা শুয়াইব আহমদ; শায়খে কাতিয়া রহ.-এর সুযোগ্য উত্তরসূরি মাওলানা ইউসুফ আমিনী; জগন্নাথপুর উপজেলা জমিয়তের সভাপতি মাওলানা সৈয়দ মাসরুর আহমদ ক্বাসেমী; কেন্দ্রীয় জমিয়তের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ; ইউকে জমিয়তের সহ-সভাপতি হাফিজ হোসাইন আহমদ বিশ্বনাথী; ইউকে জমিয়তের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদ; জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ওমান শাখার সভাপতি মাওলানা রশীদ আহমদ; সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালীম সাতবাকী এবং সেক্রেটারি মাওলানা জাহেদ নাসির।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন মহানগর জমিয়তের উপদেষ্টা মাস্টার আব্দুর রউফ, সহ-সভাপতি হাফিজ জিয়াউদ্দীন, সহ-সভাপতি হাফিজ রশীদ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নাজমুল হাসান, তাফসিরুল কুরআন বিষয়ক সম্পাদক মুফতি ওলিউর রহমান, প্রচার সম্পাদক হাফিজ মাওলানা আব্দুল হাই, সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাবির হুসাইন, ওয়েলফেয়ার সম্পাদক মাওলানা দিলওয়ার হোসাইন, সৈয়দ আল আমীন, হাফিজ মাওলানা সৈয়দ সোহাইল, মাওলানা আমিনুল ইসলাম রাজু, শায়খে কাতিয়ার সুযোগ্য নাতি মাওলানা নোমান আহমদ, মরহুম হাফিজ মাওলানা শায়খ ইমদাদুল্লাহ রহ.-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র মাওলানা মুবাশ্বির আহমদ ও মেঝো পুত্র মাওলানা মুদ্দাসসির আহমদসহ জমিয়তের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, উলামায়ে কেরাম ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মরহুম হাফিজ মাওলানা শায়খ ইমদাদুল্লাহ রহ.-এর রূহের মাগফিরাত, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাঁর সকল দ্বীনি খেদমত কবুলের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়স্বজন, ছাত্র-শিষ্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্যও সবর ও উত্তম প্রতিদানের দোয়া করা হয়।


কমিউনিটি এর আরও খবর