img

বৃটিশ-বাংলাদেশী হু'জহু সম্মাননায় ভূষিত হলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হারুন মিয়া

প্রকাশিত :  ০৭:০৮, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

বৃটিশ-বাংলাদেশী হু'জহু সম্মাননায় ভূষিত হলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হারুন মিয়া
যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে বিশেষ অবদান রাখায় চলতি বছরের (২০২৫) বৃটিশ-বাংলাদেশী হু\'জহু প্রকাশনায় অন্তর্ভূক্ত হয়ে বিশেষ সম্মাননায় ভুষিত হয়েছেন  লন্ডনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ হারুন মিয়া। গত ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার লন্ডনের অভিজাত মেরিডিয়ান গ্র্যান্ড হলে ১৬তম ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশী হুজহু’র প্রকাশনা ও অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে তিনি এই সম্মাননায় ভূষিত হন
জাঁকজমক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পীকার কাউন্সিলার সুলক আহমদ।
বাংলাদেশে বৈধ চ‍্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারি এনআরবি বাংলাদেশি ক‍্যাটাগরিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল‍্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের জন‍্য হারুন মিয়া সিআইপি (কমার্শিয়ালী ইম্পর্টেন্ট পার্সন) নির্বাচিত হোন । ২০২৫ সালের ২৯ মে বাংলাদেশ সরকারের এক গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেয়া হয় ।

হারুন মিয়া বাংলাদেশের শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক এবং ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল এবং ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । তিনি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডেরও পরিচালক । রাজধানী ঢাকার প্রীতম হোটেলের ডিরেক্টর এবং বর্তমান চেয়ারম্যান । তিনি সিলেট এয়ারপোর্ট রোডের উইন্ডসর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড ডাইরেক্টর এন্ড ভাইস চেয়ারম্যান ও সিলেট শহরের বালুচর আরামবাগ এলাকায় অবস্থিত সিলডন হাসপাতালের পরিচালক ।
হারুন মিয়া কুশিয়ারা নামে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারি । এগুলো হলো- কুশিয়ারা ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, কুশিয়ারা ট্রাভেলস লিমিটেড, কুশিয়ারা ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি, বাংলাদেশে কুশিয়ারা ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস । এছাড়াও তিনি বাংলা ফ্রোজেন ফুড লিমিটেড ইউকের ডাইরেক্টর।  

হারুন মিয়া শুধু একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ীই নয়, প্রতিষ্ঠিত সমাজকর্মীও। সমাজসেবায় হারুন মিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও সমাজকল্যাণমূলক সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত । তিনি বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনের অন্যতম ট্রাস্টি, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে\'র সদস্য, গোলাপগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের সদস্য, আল এমদাদ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, আল-এমদাদ ডিগ্রী কলেজ ট্রাস্ট ইউকে\'র চেয়ারম্যান, ইউকে বাংলাদেশ ক্যাটালিস্টস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ইউকেবিসিসিআই) পরিচালক, সিলেট ক্লাব লিমিটেডের স্থায়ী সদস্য, ব্রিটিশ চেক ক্যাশার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ইউকেএমটিএ-র সদস্য।
তিনি আল এমদাদ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকাকালিন আল-এমদাদ হাইস্কুল এন্ড কলেজে ব্যক্তিগতভাবে এবং দানশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে ১ লাখ পাউণ্ডের বেশি অনুদান দিয়েছেন । তিনি অতি সম্প্রতি সুইডেনের উপসালা শহরের স্টেনহেগেন মসজিদের জন্য যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন ফান্ডরেইজিং কর্মসূচির মাধ্যমে ৬শ\' হাজার পাউণ্ডের বেশি ফান্ডরেইজ করেছেন।  

হারুন মিয়ার দেশের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লামাচন্দরপুর গ্রামে। তাঁর বাবার আলহাজ্ব মুবশ্বির আলী এবং মা সুরোজান বিবি। বাবা সত্তরের দশকে যুক্তরাজ্যে সুপরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন।
তিনি ৩ ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় । ১৯৭২ সালে লন্ডন এসে স্থানীয় কলেজ থেকে ও\'লেভেল শেষ করে নিজেকে ব্যবসায় নিয়োজিত করেন।  সেই থেকেই (১৯৭২ সাল) টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাস করছেন এবং এই এলাকাতেই তাঁর সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন । জনাব হারুন মিয়া ১৯৮৩ সালে মিনারা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।



কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটসে অ্যালকোহলজনিত অসামাজিক আচরণঃ বর্তমান পিএসপিও বহাল রাখা হবে কি না, মতামত জানাতে বাসিন্দাদের আহ্বান

প্রকাশিত :  ১৪:৩৮, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসে অ্যালকোহল পানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসামাজিক আচরণ মোকাবিলায় বর্তমানে যে পাবলিক স্পেসেস প্রোটেকশন ওর্ডার বা পিএসপিও কার্যকর রয়েছে, সেটি আরও চালু রাখা হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত জানতে পরামর্শ গ্রহণ শুরু করেছে কাউন্সিল।

কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পরামর্শের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা বর্তমান ব্যবস্থার বিষয়ে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন এবং অ্যালকোহল-সম্পর্কিত অসামাজিক আচরণ মোকাবিলায় ভবিষ্যতে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন, সে বিষয়ে মতামত দিতে পারবেন। 

পাবলিক স্পেসেস প্রোটেকশন ওর্ডার বা পিএসপিও হলো এমন একটি আইনি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট জনসমাগমের জায়গায় মানুষের জীবনযাত্রার মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এমন ধারাবাহিক বা গুরুতর অসামাজিক আচরণ মোকাবিলা করা যায়। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, পিএসপিও কাউন্সিল ও পুলিশের অনুমোদিত কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করার অতিরিক্ত ক্ষমতা দেয়।

টাওয়ার হ্যামলেটসে অ্যালকোহল-সংক্রান্ত পিএসপিও মূলত এমন পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য, যেখানে জনসমক্ষে অ্যালকোহল পান করা কোনো ব্যক্তির আচরণ অসামাজিক আচরণের কারণ হচ্ছে বা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কাউন্সিলের \'রেসপনসিবল ড্রিংকিং বরা\' ব্যবস্থার অধীনে, অনুমোদিত কর্মকর্তা কোনো ব্যক্তিকে জনসমক্ষে অ্যালকোহল পান বন্ধ করতে বলতে পারেন। প্রয়োজন হলে তার কাছে থাকা অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলের পাত্রও হস্তান্তর করতে বলা যেতে পারে।

পিএসপিও-এর অধীনে অনুমোদিত কাউন্সিল কর্মকর্তা এবং পুলিশ পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে:

অ্যালকোহল পান বন্ধ করতে বলতে পারেন;

অ্যালকোহল বা অ্যালকোহল রয়েছে বলে যুক্তিসঙ্গতভাবে মনে হওয়া কোনো পাত্র হস্তান্তর করতে বলতে পারেন;

নির্দেশ না মানলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পারেন।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১০০ পাউন্ড পর্যন্ত ফিক্সড পেনালি্ট নোটিশ দেওয়া যেতে পারে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানার বিধানও রয়েছে। 

অ্যালকোহল-সম্পর্কিত অসামাজিক আচরণের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের পদ্ধতি শুধু আইন প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কাউন্সিল জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যালকোহল-নির্ভরতা বা অন্যান্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা ও চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পাবলিক স্পেসেস প্রোটেকশন ওর্ডার বা পিএসপিও ২০১৭ সালের অক্টোবরে আগের ব্যবস্থার পরিবর্তে কার্যকর হয় এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে এটি নবায়ন করা হয়েছিল। বর্তমান আদেশের মেয়াদ ১৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। 

এখন কাউন্সিলের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে পরবর্তী মেয়াদে এই ব্যবস্থা চালু রাখা হবে কি না এবং প্রয়োজনে এতে কোনো পরিবর্তন আনা দরকার কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

কেন আপনার মতামত গুরুত্বপূর্ণ?

টাওয়ার হ্যামলেটস একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় বরা। অসামাজিক আচরণ স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় কাউন্সিল পুলিশ ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে। 

নতুন পরামর্শের মাধ্যমে বাসিন্দারা বর্তমান পিএসপিও কীভাবে কাজ করছে, জনসমক্ষে অ্যালকোহল-সম্পর্কিত অসামাজিক আচরণ নিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা কী এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন, সে বিষয়ে মতামত জানাতে পারবেন।

বাসিন্দারা টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের লেটস্ টক্ টাওয়ার হ্যামলেটস (Let’s Talk Tower Hamlets) প্ল্যাটফর্মে গিয়ে অনলাইন পরামর্শে অংশ নিতে পারবেন।

Let’s Talk Tower Hamlets-এ পরামর্শে অংশ নিন »

অ্যালকোহল-সম্পর্কিত অসামাজিক আচরণ বা অন্য কোনো এএসবি-এর ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি অনুযায়ী কাউন্সিল বা পুলিশের কাছেও তা রিপোর্ট করা যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৯৯ এবং জরুরি নয় এমন পুলিশি বিষয়ে ১০১ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বাসিন্দাদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।

আপনার এলাকায় অ্যালকোহল-সম্পর্কিত অসামাজিক আচরণ নিয়ে অভিজ্ঞতা বা মতামত থাকলে, এই পরামর্শে অংশ নিয়ে কাউন্সিলকে জানাতে পারেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর