img

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ঘাতক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৬:২০, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ঘাতক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের Fort Myers শহরে নীলুফার ইয়াসমিন (৪৮) নামে এক বাংলাদেশি নারীকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই ঘটনায় অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিনকে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জামিনবিহীন আটক রাখার নির্দেশ দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালে ডক্টর মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ডে অবস্থিত একটি গ্যাস স্টেশনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

ঘাতক রোলবার্ট জোয়াচিনকে (৪০) ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা যায়, অভিযুক্ত রোলবার্টকে বর্তমানে লি কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে।

নিহত নীলুফার ইয়াসমিন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ব্লুবার্ডে অবস্থিত গ্যাস স্টেশনের বাংলাদেশি মালিকানাধীন ডি অ্যান্ড ডি কনভিনিয়েন্স স্টোরে ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন।

সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ)। অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিন গ্যাস স্টেশনের দোকানে থাকা এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে ব্যর্থ হয়ে ক্যাশিয়ার নীলুফার ইয়াসমিনের কাছে টাকা দাবি করেন। নীলুফার তাকে জানান, এটিএম মেশিনের দায়ভার তার নয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জোয়াচিন তখন চলে গেলেও বৃহস্পতিবার ভোরে ফিরে এসে তাণ্ডব শুরু করেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে জোয়াচিন প্রথমে দোকানের সামনে রাখা নীলুফার ইয়াসমিনের ব্যক্তিগত গাড়ির উইন্ডশিল্ড (সামনের কাঁচ) হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর করেন। কারণ জানতে নীলুফার দোকান থেকে বেরিয়ে এলে জোয়াচিন ‘গিভ মি মাই মানি’ (আমার টাকা দাও) বলে চিৎকার করে হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। 

হামলার পরপরই ফোর্ট মায়ার্স ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসেসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নীলুফারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিনকে ম্যাঙ্গো এবং রেলি স্ট্রিট এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় তিনটি স্কুল, সাকসেস একাডেমি, ইয়াং প্যারেন্ট এডুকেশন প্রোগ্রাম এবং জেমস স্টিফেনস এলিমেন্টারিতে সাময়িক ‘লকডাউন’ জারি করা হয়েছিল। বর্তমানে জোয়াচিন লি কাউন্টি জেলে বন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

এদিকে ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোলবার্ট জোয়াচিনকে গ্রেপ্তার এবং জেলে পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে। অপরাধীর ব্যাপারে আর কেউ আরও কোনো তথ্য পেলে সেটি জানানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত নীলুফার ইয়াসমিনের গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নে। তিনি কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিকের বোন।

মাত্র তিন মাস আগে এই কনভিনিয়েন্স স্টোরে ক্যাশিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন নীলুফার ইয়াসমিন। তার ১৬ ও ২০ বছরের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। 

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ইতালিতে নয়ন খুনের নেপথ্যে বড় ভাইয়ের পরকীয়া

প্রকাশিত :  ১৬:৪০, ০১ মে ২০২৬

শোকের মাতম থামছেই না মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামে। ইতালির লেইজ শহরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরের হাতে ছোট ভাই নয়ন ফকির খুনের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। বিদেশের মাটিতে এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বড় ভাইয়ের পরকীয়া, দ্বিতীয় বিয়ে এবং আর্থিক দ্বন্দ্বের এক জটিল সমীকরণ।

জানা যায়, ঘাতক হুমায়ুন ফকিরের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন থাকলেও, তিনি তায়েবার (চাচাতো বোন) সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন।

তিন বছর আগে টেলিফোনে আমেনাকে (প্রথম স্ত্রী) বিয়ে করলেও, হুমায়ুন দুই বছর আগে ছুটিতে দেশে এসে গোপনে চাচাতো বোন তায়েবাকে (দ্বিতীয় স্ত্রী) বিয়ে করেন। এই দ্বিতীয় বিয়েটি হুমায়ুনের মা-বাবা এবং পরিবার মেনে নেয়নি। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল।

পরে হুমায়ুনের দ্বিতীয় স্ত্রী তায়েবাকে বাড়িতে তোলার খবর শুনে তার বাবা দেলোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 এ কারণে নিজের মা-বাবা ও ছোট ভাই নয়নের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন হুমায়ুন। প্রথম স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি সমঝোতাও করেছিলেন হুমায়ুন।

এ ছাড়া বড় ভাই হুমায়ুন ছোট ভাই নয়নকে ১৩ লাখ টাকা খরচ করে ইতালি নিলেও, নয়ন তাকে বিভিন্ন সময়ে ২০ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি হুমায়ুন তার মা-বাবার ভরণপোষণ বাবদ খরচ করা ১৬ লাখ টাকার অর্ধেক, অর্থাৎ ৮ লাখ টাকা নয়নের কাছে দাবি করেন।

নয়ন সেই টাকা দিতে রাজি হওয়া সত্ত্বেও হুমায়ুন পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে পরিবারের অভিযোগ।

নিহত নয়ন ও ঘাতক হুমায়ুনের একমাত্র বোন দিলারা আক্তার তার বড় ভাইয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করেছেন। অন্যদিকে, প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন অভিযোগ করেছেন যে, হুমায়ুন তাকে নিয়মিত মানসিক নির্যাতন করতেন এবং ভরণপোষণ দিতেন না। অভিযুক্ত হুমায়ুন বর্তমানে ইতালি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইতালির সময় বিকেল ৫টায় নয়ন তার বড় ভাই হুমায়ুনের বাড়ির নিচে বৈদ্যুতিক সাইকেল চার্জ দিতে যান।

নয়ন যখন প্লাগ লাগাতে নিচু হন, তখন ওত পেতে থাকা হুমায়ুন পেছন থেকে ছুরি দিয়ে নয়নের পিঠে ও মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর ভিডিও কলের মাধ্যমে মরদেহ দেশে থাকা মা-বাবাকে দেখান হুমায়ুন।

কমিউনিটি এর আরও খবর