img

চাঁদে বিরল খনিজ আবিষ্কার চীনা বিজ্ঞানীদের

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদে বিরল খনিজ আবিষ্কার চীনা বিজ্ঞানীদের

চীনা বিজ্ঞানীরা চাঁদে এক নতুন ধরনের বর্ণহীন, স্বচ্ছ ও ভঙ্গুর খনিজের সন্ধান পেয়েছেন । গবেষকদের মতে, এই বিরল খনিজটি এলইডি (LED) প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, চীন থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চন্দ্র উল্কাপিণ্ড বিশ্লেষণ করে \'সেরিয়াম–ম্যাগনেশিয়াম চেঞ্জসাইট\' নামের এই খনিজটি শনাক্ত করা হয়েছে। মহাকাশ ভূতত্ত্বের গবেষণায় এই আবিষ্কারকে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন খনিজটিতে বেশ কিছু অস্বাভাবিক ভৌত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো এর বিশেষ ফ্লুরোসেন্স ইফেক্ট বা প্রতিপ্রভা প্রভাব। খনিজটির দানার আকার ১০ মাইক্রোমিটারের কম। ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদের চরম তাপমাত্রা ও চাপের ফলে খনিজটি গঠিত হয়েছে। খনিজটি বিভিন্ন শিল্পে প্রয়োগের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এলইডি তৈরিতে খনিজটি বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখতে পারে।

কমিশন অন নিউ মিনারেলস অ্যান্ড মিনারেল নেমসের মতে, খনিজটির ফ্লুরোসেন্ট গুণের কারণে এটি পরবর্তী প্রজন্মের এলইডি পণ্যের জন্য একটি শক্তিশালী উৎস হতে পারে। এ ছাড়া এর গঠন কাঠামো বিশ্লেষণ করে বর্তমানে ইলেকট্রনিকস পণ্যে ব্যবহৃত সিনথেটিক উপাদানগুলোর গুণমান ও কার্যকারিতা বাড়ানোর সুযোগ পাওয়া যাবে।

বর্তমানে চাঁদের পরিবেশে সেরিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম কীভাবে একে অপরের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, তা জানার মাধ্যমে চাঁদের গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। খনিজটি আবিষ্কারের ফলে পৃথিবী ও চাঁদের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের নতুন সুযোগ পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব

প্রকাশিত :  ০৭:৩৪, ১১ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৩৮, ১১ জুন ২০২৬

বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যান এবং চার্জিং অবকাঠামো আমদানিতে উল্লেখযোগ্য শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সরকার। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত কিছু ধরনের গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে কর বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে আসন্ন বাজেটে।

পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি আমদানিতে মোট করভার প্রায় ৯৩ শতাংশ। এটি কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া বাকি শুল্ক-কর অব্যাহতির সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (পিএইচইভি) আমদানির ক্ষেত্রেও কর-সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিনক্ষমতাসম্পন্ন পিএইচইভি গাড়ির সম্পূরক শুল্ক কমানো এবং ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন পিএইচইভি গাড়ির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবনা আসছে। এতে ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির মোট করভার বর্তমান ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ দশমিক ৪৩৭ শতাংশে নেমে আসবে। একইভাবে ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ পিএইচইভি গাড়ির মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ হবে।

এ ছাড়া চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবনা আসছে। দেশব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যের আমদানিতে মোট করভার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। প্রস্তাব কার্যকর হলে তা শূন্য শতাংশে নেমে আসবে। 

অন্যদিকে, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার ইন্টারনাল কম্বাশন (আইসি) ইঞ্জিনযুক্ত আমদানিকৃত গাড়ির ওপর করভার বাড়ানোর প্রস্তাবনা আসছে।

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বর্তমানে এসব গাড়ির মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে,অন্যান্য শ্রেণির গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর