img

ইতালিতে ছোট ভাইকে হত্যা করে পরিবারকে মরদেহ দেখাল বড় ভাই

প্রকাশিত :  ০৮:০৩, ০১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৮, ০১ মে ২০২৬

ইতালিতে ছোট ভাইকে হত্যা করে পরিবারকে মরদেহ দেখাল বড় ভাই

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের ইতালি প্রবাসী দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্বে বড় ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন ছোট ভাই। দুই ইতালি প্রবাসী ভাইয়ের পারিবারিক কলহ শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

ইতালির লেইজ (Lecce) শহরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ছোট ভাই নয়ন ফকির প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে ইতালির লেইজ শহরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির তার ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। তারা দুইজন টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের দেলু ফকিরের ছেলে।

ঘটনার পর বড় ভাই হুমায়ুন ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে নয়ন ফকিরের মরদেহ দেখান এবং খুনের কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় ইতালির পুলিশ অভিযুক্ত বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে। 

নিহত নাসিরের বন্ধু নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খুনি হুমায়ুন ফকির দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর যাবত ইতালি প্রবাসী। সে প্রথমে লিবিয়া যায়, পরে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যায়। পরে ২০২৩ সালে বড় ভাইয়ের সহায়তায় ছোট ভাই নয়ন ফকিরও ইতালিতে যায়। হুমায়ুন ফকির দুটি বিয়ে করেছে। আজ তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। এ নিয়ে ছোট ভাই নয়ন ফকির তার পূর্বের স্ত্রীকে তালাক দিতে নিষেধ করায় তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।

এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মনিরুল ইসলাম ডাবলু বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাই ইতালিতে খুন হয়েছে বলে শুনেছি। ঘটনাটি আমাকে অবগত করা হয়েছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ইতালিতে নয়ন খুনের নেপথ্যে বড় ভাইয়ের পরকীয়া

প্রকাশিত :  ১৬:৪০, ০১ মে ২০২৬

শোকের মাতম থামছেই না মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামে। ইতালির লেইজ শহরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরের হাতে ছোট ভাই নয়ন ফকির খুনের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। বিদেশের মাটিতে এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বড় ভাইয়ের পরকীয়া, দ্বিতীয় বিয়ে এবং আর্থিক দ্বন্দ্বের এক জটিল সমীকরণ।

জানা যায়, ঘাতক হুমায়ুন ফকিরের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন থাকলেও, তিনি তায়েবার (চাচাতো বোন) সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন।

তিন বছর আগে টেলিফোনে আমেনাকে (প্রথম স্ত্রী) বিয়ে করলেও, হুমায়ুন দুই বছর আগে ছুটিতে দেশে এসে গোপনে চাচাতো বোন তায়েবাকে (দ্বিতীয় স্ত্রী) বিয়ে করেন। এই দ্বিতীয় বিয়েটি হুমায়ুনের মা-বাবা এবং পরিবার মেনে নেয়নি। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল।

পরে হুমায়ুনের দ্বিতীয় স্ত্রী তায়েবাকে বাড়িতে তোলার খবর শুনে তার বাবা দেলোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 এ কারণে নিজের মা-বাবা ও ছোট ভাই নয়নের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন হুমায়ুন। প্রথম স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি সমঝোতাও করেছিলেন হুমায়ুন।

এ ছাড়া বড় ভাই হুমায়ুন ছোট ভাই নয়নকে ১৩ লাখ টাকা খরচ করে ইতালি নিলেও, নয়ন তাকে বিভিন্ন সময়ে ২০ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি হুমায়ুন তার মা-বাবার ভরণপোষণ বাবদ খরচ করা ১৬ লাখ টাকার অর্ধেক, অর্থাৎ ৮ লাখ টাকা নয়নের কাছে দাবি করেন।

নয়ন সেই টাকা দিতে রাজি হওয়া সত্ত্বেও হুমায়ুন পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে পরিবারের অভিযোগ।

নিহত নয়ন ও ঘাতক হুমায়ুনের একমাত্র বোন দিলারা আক্তার তার বড় ভাইয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করেছেন। অন্যদিকে, প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন অভিযোগ করেছেন যে, হুমায়ুন তাকে নিয়মিত মানসিক নির্যাতন করতেন এবং ভরণপোষণ দিতেন না। অভিযুক্ত হুমায়ুন বর্তমানে ইতালি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইতালির সময় বিকেল ৫টায় নয়ন তার বড় ভাই হুমায়ুনের বাড়ির নিচে বৈদ্যুতিক সাইকেল চার্জ দিতে যান।

নয়ন যখন প্লাগ লাগাতে নিচু হন, তখন ওত পেতে থাকা হুমায়ুন পেছন থেকে ছুরি দিয়ে নয়নের পিঠে ও মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর ভিডিও কলের মাধ্যমে মরদেহ দেশে থাকা মা-বাবাকে দেখান হুমায়ুন।

কমিউনিটি এর আরও খবর