img

ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হতে যাচ্ছেন মাস্ক

প্রকাশিত :  ১০:২১, ০৭ জুন ২০২৬

ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হতে যাচ্ছেন মাস্ক

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা এক লাখ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হতে যাচ্ছেন ইলন মাস্ক। মানব–ইতিহাসের বাণিজ্যিক পরিসরে এত বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদের নজির আগে কখনো দেখা যায়নি।

টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে মাস্কের হাতে ইতিমধ্যে ২৭৩ বিলিয়ন বা ২৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের শেয়ার ও স্টক আছে। তবে তাঁর রকেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি (আইপিও) আগামী সপ্তাহে পরিকল্পনা অনুযায়ী শুরু হলে তাঁর সম্পদে আরও ৮৪১ বিলিয়ন বা ৮৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার যোগ হতে পারে।

স্পেসএক্সের প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক মাস্ক। আইপিওর পর প্রতিষ্ঠানটির মোট বাজারমূল্য ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলারে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে শুধু টেসলা ও স্পেসএক্স—এ দুই কোম্পানি থেকেই মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১১ হাজার কোটি ডলার।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্যানুসারে, বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৮৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ৭৮ হাজার ৮৮০ কোটি ডলার।

তবে মাস্কের এই সম্পদ মূলত কাগুজে সম্পদ; এটা ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা নগদ অর্থ নয়। তাঁর সম্পদের মূল্য নির্ভর করছে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে টেসলা ও স্পেসএক্সকে কতটা মূল্যায়ন করেন, তার ওপর।

মানুষের জীবদ্দশায় যুক্তিসংগত উপায়ে ট্রিলিয়ন বা লাখোকোটি ডলার ব্যয় করা প্রায় অসম্ভব। কেউ যদি প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার করে খরচ করেন, তাহলেও লাখোকোটি ডলার ব্যয় করতে তাঁর এক শতাব্দীর বেশি সময় লেগে যাবে।

এই বিপুল সম্পদের পরিমাণ বোঝাতে নিচে এমন ছয়টি বিষয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো, ইলন মাস্কের সম্পদের মূল্য এগুলোর চেয়ে বেশি হয়ে যেতে পারে।

বিশ্বের মাত্র ২০টি দেশের অর্থনীতির আকার ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি ( ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি অর্জন করতে চায়)। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জিডিপি মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের চেয়ে কম।

এ তালিকায় রয়েছে তাইওয়ান (৯৭৭ বিলিয়ন ডলার), আয়ারল্যান্ড (৭৭৯ বিলিয়ন ডলার), সুইডেন (৭৬০ বিলিয়ন ডলার), সিঙ্গাপুর (৬৬০ বিলিয়ন ডলার) ও মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকা (৪৮০ বিলিয়ন ডলার)।

শুধু বিদেশেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও মাস্কের সম্পদের চেয়ে ছোট অর্থনীতির উদাহরণ রয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিটসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় আর্থিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রস্থল ম্যানহাটানের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২০২৪ সালে ছিল এক ট্রিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি। এটাই সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য।

নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের পর হিউস্টন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত এই শহর দেশটির তেল ও গ্যাসশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হিউস্টনের আবাসিক ও বাণিজ্যিক—সব ধরনের সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৮৭৯ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদমূল্যের চেয়ে অনেক কম।

বাড়ির পর অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকেরা সবচেয়ে বেশি যে জিনিস কিনে থাকেন, তা হলো হলো গাড়ি ও ট্রাক। গত বছর নতুন একটি গাড়ির গড় দাম রেকর্ড ৪৮ হাজার ৪০২ ডলারে পৌঁছায়। তবু ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ৬৩ লাখ নতুন গাড়ি বিক্রি হয়েছে, যার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৭৮৯ বিলিয়ন বা ৭৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

ইলন মাস্ক ইতিমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তবে তাঁর সম্পদের পরিমাণ শিগগিরই প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদেরও অনেক পেছনে ফেলে দিতে পারে।

গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস—এই চার ধনকুবেরের মোট সম্পদ একত্র করলেও তা প্রায় ১ দশমিক শূন্য ৯ ট্রিলিয়ন ডলার হয়। অর্থাৎ তাঁদের চারজনের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের চেয়ে সামান্য কম।

মাস্কের মতো তাঁরাও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের মাধ্যমেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

খেলার ক্লাব বা স্পোর্টস ফ্র্যাঞ্চাইজি ধনকুবেরদের প্রিয় বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলোর একটি। বাস্তবতা হলো, এক ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে পৃথিবীর প্রায় সব বড় খেলার ক্লাব কেনা সম্ভব।

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দামি ৫০টি ক্লাবের সম্মিলিত মূল্য মাত্র ৩৫৩ বিলিয়ন বা ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, অর্থাৎ এক ট্রিলিয়ন ডলারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

এ তালিকায় সবচেয়ে মূল্যবান দল এনএফএলের ডালাস কাউবয়েজ, এই ক্লাবের মূল্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। তালিকার ৫০তম দল এনবিএর টরন্টো র‍্যাপটরসের মূল্য প্রায় ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

ফেসবুক-ইউটিউবের আয় থেকে কর কাটা হবে না, আসছে ঘোষণা

প্রকাশিত :  ০৬:১৪, ০৭ জুন ২০২৬

ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে স্বাধীন পেশাজীবী ও বিষয়বস্তু নির্মাতারা যে বৈদেশিক আয় দেশে নিয়ে আসেন, আগামী অর্থবছর থেকে সেই আয়ের ওপর উৎসে কোনো কর কাটা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ বিষয়ে আয়কর আইনে সংশোধন আনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এর ঘোষণা দেবেন। তবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দেশে অন্য খাতের আয়ের ওপর নিয়মিত করদাতাদের মতো নির্ধারিত হারে আয়কর দিতে হবে। দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিদ্যমান আয়কর অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি দেশে অবস্থান করে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে সেবা ও পণ্যের বিনিময়ে উপার্জিত অর্থ দেশে আনেন, তবে সেই আয়কে রেমিট্যান্স হিসাবে গণ্য করা হয় না। এ কারণে ব্যাংকগুলো আয়কর আইন অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আনা অর্থের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখত।

তবে প্রবাসে অবস্থান করে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা যে অর্থ পাঠিয়ে থাকেন, সেটিকে রেমিট্যান্স হিসাবে গণ্য করা হয়। রেমিট্যান্সের ওপর উৎসে কর কাটা হয় না।

১ জুন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ ‘চিত্ত মিডিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানা বৈঠক করেন। বৈঠকে জুয়েল রানা ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কর আরোপের বিষয়টি নজরে আনেন। প্রধানমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

এনবিআর সূত্র জানায়, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ও প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার পর ফ্রিল্যান্সার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দেশে আনা অর্থের ওপর উৎসে কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। আগামী বাজেটে এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। আয়কর আইনে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সংজ্ঞা যোগ করা হবে। অবশ্য দেশে ব্র্যান্ড প্রমোশন বা স্পনসরশিপের মাধ্যমে তারা অর্থ আয় করেন, তার বিপরীতে সাধারণ নিয়মিত করদাতাদের মতো নির্ধারিত হারে আয়কর দিতে হবে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার কারণে দেশের আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং খাত আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হচ্ছে, এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। যারা বিভিন্ন ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যবহুল, শিক্ষণীয় বা বিনোদনমূলক ছবি, অডিও-ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করেন, তাদেরই ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ বলা হয়। তারা ইউটিউব অ্যাডসেন্স বা ফেসবুক মনিটাইজেশন, ব্র্যান্ড প্রমোশন বা স্পনসরশিপের মাধ্যমে অর্থ আয় করেন।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সাইবার নিরাপত্তা, এআইসহ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) পাঁচটি খাতে দুই লাখ ও ফ্রিল্যান্সিং/কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে আট লাখ নতুন কর্মসংস্থানের ঘোষণা ছিল। একই সঙ্গে শক্তিশালী নীতিমালা প্রণয়ন, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র স্থাপন, ই-ওয়ালেট চালু ও ১০ বছরের কর সুবিধা ও উদ্যোক্তাদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ ও স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ডাচ্-বাংলা ব্যাংক নিজেদের ফেসবুকের অফিশিয়াল পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে, ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর উৎসে কর কর্তন স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকটি জানিয়েছে, যেসব ফ্রিল্যান্সারের হিসাব থেকে আগে কর কেটে নেওয়া হয়েছে, সেই অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও জনস্বার্থে তা বাতিল করেছে সরকার। এছাড়া মোটরসাইকেল-অটোরিকশার কর বাতিল, সম্পদ কর ও উত্তরাধিকার করের উদ্যোগ বাতিল, রপ্তানি প্রণোদনার ওপর বাড়তি কর আরোপ থেকে ইউটার্ন নিয়ে অর্ধেক করা, আবগারি শুল্কের হার তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর