img

১২ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ফেলে এফ-৩৫সহ ৩ মার্কিন যুদ্ধবিমান গুঁড়িয়ে দিল ইরান

প্রকাশিত :  ০৬:৪২, ১১ জুন ২০২৬

১২ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ফেলে এফ-৩৫সহ ৩ মার্কিন যুদ্ধবিমান গুঁড়িয়ে দিল ইরান

জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫, এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারসহ একাধিক সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়। খবর আলজাজিরার।

আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত এফ-৩৫, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ছিল। তারা দাবি করেছে, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ঘাঁটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে।

এই হামলার দাবি আসে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পর। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর হামলা চালায় বলে খবর প্রকাশিত হয়। এর জবাবে ইরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে।

তবে আইআরজিসির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আল-আজরাক অঞ্চলের দিকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং এতে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারাও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছেন।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

প্রকাশিত :  ১১:২৮, ১১ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৪, ১১ জুন ২০২৬

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির লাইসেন্স বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ ঘোষণা দেন।

ঈদের আগের দিন বুধবার সকালে মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছটফট করতে করতে একে একে ছয় নবজাতক মারা যায়।

এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার’ প্রমাণ পাওয়ার কথা বলেছে।

গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয় নবজাতক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। 

কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির একাধিক দিক উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযুক্ত ছিল না; পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব ছিল এবং এসি ব্যবস্থাও অপ্রতুল ও অনিয়মিতভাবে পরিচালিত হতো। 

তদন্তে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং গুরুতর অবস্থার পরও সময়মতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা জন্মের পর সুস্থ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, প্রসব-পরবর্তী জটিলতার জন্য বিশেষ চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজনীয়তা ছিল না। তবে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে ঘাটতি ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। 

একই সঙ্গে হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং প্রশাসনিক ত্রুটির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।