img

বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব

প্রকাশিত :  ০৭:৩৪, ১১ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৩৮, ১১ জুন ২০২৬

বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব

বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যান এবং চার্জিং অবকাঠামো আমদানিতে উল্লেখযোগ্য শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সরকার। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত কিছু ধরনের গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে কর বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে আসন্ন বাজেটে।

পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি আমদানিতে মোট করভার প্রায় ৯৩ শতাংশ। এটি কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া বাকি শুল্ক-কর অব্যাহতির সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (পিএইচইভি) আমদানির ক্ষেত্রেও কর-সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিনক্ষমতাসম্পন্ন পিএইচইভি গাড়ির সম্পূরক শুল্ক কমানো এবং ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন পিএইচইভি গাড়ির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবনা আসছে। এতে ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির মোট করভার বর্তমান ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ দশমিক ৪৩৭ শতাংশে নেমে আসবে। একইভাবে ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ পিএইচইভি গাড়ির মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ হবে।

এ ছাড়া চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবনা আসছে। দেশব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যের আমদানিতে মোট করভার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। প্রস্তাব কার্যকর হলে তা শূন্য শতাংশে নেমে আসবে। 

অন্যদিকে, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার ইন্টারনাল কম্বাশন (আইসি) ইঞ্জিনযুক্ত আমদানিকৃত গাড়ির ওপর করভার বাড়ানোর প্রস্তাবনা আসছে।

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বর্তমানে এসব গাড়ির মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে,অন্যান্য শ্রেণির গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হতে যাচ্ছেন মাস্ক

প্রকাশিত :  ১০:২১, ০৭ জুন ২০২৬

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা এক লাখ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হতে যাচ্ছেন ইলন মাস্ক। মানব–ইতিহাসের বাণিজ্যিক পরিসরে এত বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদের নজির আগে কখনো দেখা যায়নি।

টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে মাস্কের হাতে ইতিমধ্যে ২৭৩ বিলিয়ন বা ২৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের শেয়ার ও স্টক আছে। তবে তাঁর রকেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি (আইপিও) আগামী সপ্তাহে পরিকল্পনা অনুযায়ী শুরু হলে তাঁর সম্পদে আরও ৮৪১ বিলিয়ন বা ৮৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার যোগ হতে পারে।

স্পেসএক্সের প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক মাস্ক। আইপিওর পর প্রতিষ্ঠানটির মোট বাজারমূল্য ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলারে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে শুধু টেসলা ও স্পেসএক্স—এ দুই কোম্পানি থেকেই মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১১ হাজার কোটি ডলার।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্যানুসারে, বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৮৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ৭৮ হাজার ৮৮০ কোটি ডলার।

তবে মাস্কের এই সম্পদ মূলত কাগুজে সম্পদ; এটা ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা নগদ অর্থ নয়। তাঁর সম্পদের মূল্য নির্ভর করছে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে টেসলা ও স্পেসএক্সকে কতটা মূল্যায়ন করেন, তার ওপর।

মানুষের জীবদ্দশায় যুক্তিসংগত উপায়ে ট্রিলিয়ন বা লাখোকোটি ডলার ব্যয় করা প্রায় অসম্ভব। কেউ যদি প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার করে খরচ করেন, তাহলেও লাখোকোটি ডলার ব্যয় করতে তাঁর এক শতাব্দীর বেশি সময় লেগে যাবে।

এই বিপুল সম্পদের পরিমাণ বোঝাতে নিচে এমন ছয়টি বিষয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো, ইলন মাস্কের সম্পদের মূল্য এগুলোর চেয়ে বেশি হয়ে যেতে পারে।

বিশ্বের মাত্র ২০টি দেশের অর্থনীতির আকার ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি ( ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি অর্জন করতে চায়)। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জিডিপি মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের চেয়ে কম।

এ তালিকায় রয়েছে তাইওয়ান (৯৭৭ বিলিয়ন ডলার), আয়ারল্যান্ড (৭৭৯ বিলিয়ন ডলার), সুইডেন (৭৬০ বিলিয়ন ডলার), সিঙ্গাপুর (৬৬০ বিলিয়ন ডলার) ও মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকা (৪৮০ বিলিয়ন ডলার)।

শুধু বিদেশেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও মাস্কের সম্পদের চেয়ে ছোট অর্থনীতির উদাহরণ রয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিটসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় আর্থিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রস্থল ম্যানহাটানের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২০২৪ সালে ছিল এক ট্রিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি। এটাই সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য।

নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের পর হিউস্টন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত এই শহর দেশটির তেল ও গ্যাসশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হিউস্টনের আবাসিক ও বাণিজ্যিক—সব ধরনের সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৮৭৯ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদমূল্যের চেয়ে অনেক কম।

বাড়ির পর অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকেরা সবচেয়ে বেশি যে জিনিস কিনে থাকেন, তা হলো হলো গাড়ি ও ট্রাক। গত বছর নতুন একটি গাড়ির গড় দাম রেকর্ড ৪৮ হাজার ৪০২ ডলারে পৌঁছায়। তবু ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ৬৩ লাখ নতুন গাড়ি বিক্রি হয়েছে, যার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৭৮৯ বিলিয়ন বা ৭৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

ইলন মাস্ক ইতিমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তবে তাঁর সম্পদের পরিমাণ শিগগিরই প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদেরও অনেক পেছনে ফেলে দিতে পারে।

গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস—এই চার ধনকুবেরের মোট সম্পদ একত্র করলেও তা প্রায় ১ দশমিক শূন্য ৯ ট্রিলিয়ন ডলার হয়। অর্থাৎ তাঁদের চারজনের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের চেয়ে সামান্য কম।

মাস্কের মতো তাঁরাও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের মাধ্যমেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

খেলার ক্লাব বা স্পোর্টস ফ্র্যাঞ্চাইজি ধনকুবেরদের প্রিয় বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলোর একটি। বাস্তবতা হলো, এক ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে পৃথিবীর প্রায় সব বড় খেলার ক্লাব কেনা সম্ভব।

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দামি ৫০টি ক্লাবের সম্মিলিত মূল্য মাত্র ৩৫৩ বিলিয়ন বা ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, অর্থাৎ এক ট্রিলিয়ন ডলারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

এ তালিকায় সবচেয়ে মূল্যবান দল এনএফএলের ডালাস কাউবয়েজ, এই ক্লাবের মূল্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। তালিকার ৫০তম দল এনবিএর টরন্টো র‍্যাপটরসের মূল্য প্রায় ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর