মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের সুপেয় পানি শোধনাগার ধ্বংস
মার্কিন বিমান বাহিনীর বোমাবর্ষণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি দক্ষিণ ইরানে একটি সুপেয় পানির শোধনাগার বা সরবরাহ কেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি বিশেষ কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট চিত্র এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সামনে আনা হয়েছে।
বুধবারের (১০ জুন) এই বিধ্বংসী হামলায় স্থানীয় দুটি বিশাল পানির ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষের সুপেয় পানির সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের ভিজ্যুয়াল ইনভেস্টিগেশন টিম দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের বেমানি গ্রামের দুটি ছোট পানি সংরক্ষণাগারের অবস্থান ও সেখানে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করেছে। এর আগে ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোও বেমানি জেলায় দুটি পানির ট্যাংকে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর প্রচার করেছিল।
ইরানি প্রশাসনের এক স্থানীয় কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এই পানি শোধনাগারটি ধ্বংস হওয়ার পর থেকে ওই এলাকার ২০ সহস্রাধিক বাসিন্দা তীব্র পানির সংকটে পড়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মার্কিন যুদ্ধাস্ত্রের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষের ছবি ও প্রমাণ প্রকাশ করেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের তালিকা তৈরি করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ওপেন সোর্স মিউনেশনস পোর্টাল’ এর বিশেষজ্ঞরা এই টুকরোগুলো পরীক্ষা করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী তারা নিশ্চিত করেছেন যে উদ্ধার হওয়া অংশগুলো মূলত ২৫০ পাউন্ড ওজনের একটি অত্যাধুনিক ‘জিবিইউ-৩৯’ মডেলের গাইডেড বোমার অংশ, যা সম্পূর্ণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি।
যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত এই বোমার আঘাতের ধরন ও তীব্রতার সাথে আক্রান্ত ভবনের ভিডিওর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পুরোপুরি মিলে গেছে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যেকোনো দেশের বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে সামরিক হামলা চালানো একটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং আমেরিকা নিজেও এই আন্তর্জাতিক সনদের অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ।
অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা ‘সেন্টকম’ বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে মার্কিন সেনারা মূলত নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে এই অতিরিক্ত আত্মরক্ষামূলক বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে। এই নিখুঁত অভিযানে মার্কিন মেরিন কর্পস, বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকে অত্যাধুনিক সুনির্দিষ্ট নির্দেশিত অস্ত্র বা প্রিসিশন মিউনেশনস ব্যবহার করা হয়েছে।
সেন্টকম দাবি করেছে যে ইরানের সামরিক নজরদারি চৌকি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক কমান্ডের মতে মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে ইরানের উসকানিহীন এবং ধারাবাহিক আগ্রাসনের সরাসরি জবাব দিতেই তারা এই বিশেষ আকাশ অভিযান পরিচালনা করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি



















