img

উত্তরের ৪ জেলাসহ সিলেটে বন্যার আভাস

প্রকাশিত :  ০৯:১৬, ২১ জুন ২০২৬

উত্তরের ৪ জেলাসহ সিলেটে বন্যার আভাস

দেশের অভ্যন্তরে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত এবং ভারতের অরুণাচল প্রদেশে উজানের প্রবল বর্ষণের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

উত্তরের চার জেলায় বন্যার শঙ্কা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে নদীর দুই তীর উপচে চরাঞ্চলের আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, ফলে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে সিলেট বিভাগেও বন্যার শঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন জানিয়েছেন, ভারি বৃষ্টিপাতে উত্তরের চার জেলা নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতি থাকতে পারে।

রংপুরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, লালমনিরহাটে গতকাল বিকেল ৩টায় তিস্তা ব্যারাজ (ডালিয়া) পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এর আগের দিন একই সময়ে সেখানে পানিপ্রবাহ ছিল বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচে। গতকাল সকাল ৯টায় সেখানে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে নদীটির পানি প্রবাহিত হয় বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলার নদীতীরবর্তি নিম্নাঞ্চলের কিছু ফসলের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে।

গণমাধ্যমের তথ্যানু্যায়ী সিলেটের নিম্নাঞ্চলগুলোয় আকষ্মিক বন্যার শঙ্কার মধ্যে সিলেটে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪১ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে স্বল্প সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত।

এমন বৃষ্টিপাত আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। আগামী তিন দিন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার গতকাল দুপুরে জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪০.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৫.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারতের মেঘালয়সহ বিভিন্ন রাজ্যে কয়েক দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত চলছে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় নদীগুলোর পানি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে থাকলেও আগামী তিন দিন ভারতে ভারি বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে। এতে এই সময়ে সিলেটের নদ-নদী বিপৎসীমা অতিক্রমের বড় ঝুঁকি আছে। 

পানি উন্নয়ন বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ভারতের মেঘালয় পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের শঙ্কা আছে। ওখানে বেশি বৃষ্টিপাত হলে সিলেটের নদ-নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।’


 

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে তিন দিনে দুটি অজগর ও একটি শঙ্খিনী উদ্ধার, লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর আনাগোনায় উদ্বেগ

প্রকাশিত :  ১৯:২৪, ২১ জুন ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় গত তিন দিনে লোকালয়ের তিনটি পৃথক স্থান থেকে দুটি অজগর ও একটি অত্যন্ত বিষধর শঙ্খিনী (ব্যান্ডেড ক্রেইট) সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সাপগুলো অক্ষত অবস্থায় শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের মতে, চা-বাগান, পাহাড়, হাওর ও লেকবেষ্টিত এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং জনবসতি ক্রমাগত সম্প্রসারণের কারণে বন্যপ্রাণীরা প্রায়ই খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে।

গত রোববার (২১ জুন) দুপুরে উপজেলার বরুণা হাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন আওয়াল মিয়ার বাড়ির পুকুরে মাছ ধরার সময় জালে একটি বড় সাপ আটকা পড়ে। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটিকে অজগর হিসেবে শনাক্ত করেন এবং উদ্ধার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে ওই এলাকায় হাঁস, কবুতরসহ কিছু গৃহপালিত প্রাণী নিখোঁজ হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে শিয়াল বা বনবিড়ালকে দায়ী করা হলেও অজগর উদ্ধারের পর ধারণা করা হচ্ছে, এসব ঘটনার সঙ্গে সাপটির সম্পর্ক থাকতে পারে।

এর আগে শনিবার (২০ জুন) কাকিয়াবাজার এলাকায় ফসলি জমিতে মাছ ধরার সময় আরেকটি অজগর দেখতে পান স্থানীয় তপু দেবনাথ। পরে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সঞ্জিত দেব ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ সেটি উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।

এরও আগে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলাকালে শ্রমিকেরা একটি সাপ দেখতে পান। আতঙ্কে তারা সরে দাঁড়ালে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা গিয়ে সেটিকে শঙ্খিনী বা ব্যান্ডেড ক্রেইট হিসেবে শনাক্ত করেন। অত্যন্ত বিষধর এই প্রজাতির সাপটি পরে নিরাপদে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে দেওয়া হয়।

স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, শ্রীমঙ্গল ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা—চা-বাগান, বনাঞ্চল, টিলা ও ঝোপঝাড়ে ঘেরা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বনভূমি দখল, রিসোর্ট নির্মাণ ও অনিয়ন্ত্রিত বসতি সম্প্রসারণের কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল মারাত্মকভাবে সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হচ্ছে, আবার কখনো মানুষের হাতে ধরা পড়ছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের দাবি, গত দুই দশকে তারা দুই হাজারেরও বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো পরবর্তীতে বন বিভাগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়।

সংরক্ষণকর্মীরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, লোকালয়ে বন্যপ্রাণী দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে বা আঘাত না করে দ্রুত বন বিভাগ বা উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়া উচিত। এতে মানুষ ও বন্যপ্রাণী—উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

সিলেটের খবর এর আরও খবর