img

পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৯:৩০, ২২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:০৭, ২২ জুন ২০২৬

পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার (২২ জুন) তিনি পদত্যাগ করেন। এর ফলে গত এক দশকে দেশটি সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে। খবর দ্য ডনের।

পদত্যাগের পর লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট-এর সামনে সাংবাদিকদের স্টারমার জানান,  তিনি দলের সিদ্ধান্তকে ‘সৌজন্যের সঙ্গে’ মেনে নেবেন এবং তার উত্তরসূরিকে পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন দেবেন।

বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে ব্রিটেনের অস্থির রাজনীতির অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারের এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।

একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি গত সপ্তাহে নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নেবেন নাকি সরে দাঁড়াবেন—তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছিলেন।

সূত্রটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ‘স্টারমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়গুলো নিয়ে অনেক ভাবতে পছন্দ করেন।’

স্টারমারের ওপর চাপ কয়েক মাস ধরেই বাড়ছিল। তবে শুক্রবার (১৯ জুন) পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি পার্লামেন্টারি উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে আবারও ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার সুযোগ পান।

তিনি নাইজেল ফারাজ-এর দল রিফর্ম ইউকে সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন। দলটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।

বার্নহ্যামের এই জয় লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তাদের ধারণা, দক্ষ যোগাযোগ ক্ষমতার জন্য পরিচিত বার্নহ্যাম দলের হারানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে পারেন। স্টারমারের জনপ্রিয়তা ইতোমধ্যে ব্রিটেনের যেকোনো বর্তমান বা সাম্প্রতিক নেতার তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

তবে নেতৃত্ব পরিবর্তন ঝুঁকিমুক্ত নয়।  বার্নহ্যাম এখন পর্যন্ত জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং দেশের মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের মতো তিনিও সীমিত সুযোগের মুখোমুখি হতে পারেন। একদিকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণে অনাগ্রহী বন্ড বাজারের বিনিয়োগকারীরা, অন্যদিকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট ভোটাররা—উভয় দিক থেকেই চাপ থাকবে।

বর্তমানে উচ্চ ঋণ, সুদ পরিশোধের ব্যয়, দীর্ঘদিনের ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানোর চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কারণে জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেনের ঋণ গ্রহণের খরচ সবচেয়ে বেশি।

বার্নহ্যাম গত বছরের সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, ব্রিটেনকে ‘বন্ড বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার মানসিকতা’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে—বার্নহ্যাম বাজারকে আশ্বস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন কি না, তা নিয়ে।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত, জ্বালানি মূল্য নিয়ে সতর্ক ব্যাংক অব ইংল্যান্ড

প্রকাশিত :  ১১:৫৮, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাজ্যে মূল সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। টানা ষষ্ঠবারের মতো সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির মুদ্রানীতি কমিটি। তবে জ্বালানির উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যের বাজারেও। বেড়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম, যার ফলে মূল্যস্ফীতির ওপরও বাড়ছে চাপ।

এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি কমিটি মূল সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাংকটির এই হার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ব্যাংক ও ঋণদাতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বেঞ্চমার্ক হিসেবে কাজ করে। এর ওপর ভিত্তি করে ঋণ ও সঞ্চয়ের সুদের হার নির্ধারণে প্রভাব পড়ে।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ। কিন্তু প্রায় দুই বছর ধরে দেশটির মূল্যস্ফীতি এই লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। আগস্টে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন পূর্বাভাসে ব্যাংকটি জানিয়েছে, আগামী বছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশের সামান্য ওপরে উঠতে পারে। একই সময়ে জানুয়ারিতে পরিবারগুলোর গ্যাস ও বিদ্যুতের বিলের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা বা ‘প্রাইস ক্যাপ’ আগের পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে স্পষ্ট। তবে জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় পণ্য ও সেবার অন্যান্য দামে কতটা ছড়িয়ে পড়বে, তা এখনো মূল্যায়ন করছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এদিকে যুক্তরাজ্য সরকারের বন্ড বিক্রির গতিও কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণের ব্যয় কিছুটা কমেছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানির মূল্য, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয় এখন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতির অন্যতম প্রধান বিবেচনা। আগামীতে মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি ও জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতির ওপরই সুদের হারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকাংশে নির্ভর করবে।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর