img

এআই কি চাকরি কেড়ে নিচ্ছে? যা বলছে গবেষণায়

প্রকাশিত :  ১০:০৬, ০৫ জুলাই ২০২৬

এআই কি চাকরি কেড়ে নিচ্ছে? যা বলছে গবেষণায়

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হলো- এআই কি চাকরি কেড়ে নিচ্ছে? বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর সেই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, ছবিটা পুরোপুরি একপেশে নয়।

গবেষণা অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান এআই প্রযুক্তিতে বেশি বিনিয়োগ করছে তাদের অনেক ক্ষেত্রেই কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

র‌্যাম্প ও রেভেলিও ল্যাবসের যৌথ গবেষণায় প্রায় ২২ হাজার প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য নিয়মিত এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছে তাদের কর্মী সংখ্যা গড়ে ১০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। শুধু প্রযুক্তি বিভাগ নয়; বিক্রয়, প্রশাসন, গ্রাহকসেবা, অর্থ, বিপণনসহ বিভিন্ন বিভাগেও কর্মী বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে গবেষকরা বলছেন, এর অর্থ এই নয় যে এআই সব জায়গায় নতুন চাকরি তৈরি করছে। কারণ যেসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত বাড়ছে, তারাই অনেক সময় এআই ব্যবহারেও এগিয়ে থাকে। ফলে এআইয়ের কারণে নাকি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে কর্মী বাড়ছে তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছিল, এআইয়ের কারণে বিশেষ করে নতুন চাকরিপ্রার্থীরা বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। গোল্ডম্যান স্যাকসের এক গবেষণায় বলা হয়, গত এক বছরে এআইয়ের প্রভাবে প্রতি মাসে প্রায় ১৬ হাজার চাকরি কমেছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে তরুণ ও নতুন কর্মীদের ওপর।

তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরং নতুন কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের চাকরিও প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই শুধু মানুষের কাজ কেড়ে নেওয়ার প্রযুক্তি নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি বাড়িয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। সফটওয়্যার তৈরি, ভুল সংশোধন, তথ্য বিশ্লেষণ ও নতুন পণ্য তৈরির মতো কাজে এআই ব্যবহারে খরচ কমছে এবং উৎপাদন বাড়ছে।

তবে যারা শুধু এআইয়ের সাবস্ক্রিপশন কিনে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করছে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে না তাদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুবিধা দেখা যাচ্ছে না।

গবেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এআই ব্যবহারে এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান ও পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য আরও বাড়তে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবে তারাই বেশি সুবিধা পাবে।

অর্থাৎ এআইয়ের ভবিষ্যৎ হয়তো শুধু চাকরি কমানোর গল্প নয়; বরং যারা এআইকে কাজে লাগাতে পারবে তাদের জন্য তৈরি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার পথ।


img

লেনদেনে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারে নতুন নির্দেশনা

প্রকাশিত :  ১৭:৩৪, ০১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করে কেনাকাটার মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এখন থেকে বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংক বা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মার্চেন্টের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ১ শতাংশ ফি বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) আদায় করতে পারবে। এ ফির মধ্যে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার জারি করা হয়েছে। যা এরই মধ্যে সব তফশিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট স্কিমের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, আগের নির্দেশনার (পিএসডি সার্কুলার নং-২/২০২৫) অন্য সব ফি, চার্জ এবং শর্তাবলি অপরিবর্তিত থাকবে। তবে কেবল বাংলা কিউআর পরিশোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ড, ক্রেডিট কার্ড এবং বিকাশ বা রকেটের মতো এমএফএস ও পিএসপির মাধ্যমে মার্চেন্ট পেমেন্টে অ্যাকোয়ারিং ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মার্চেন্ট হতে আদায়যোগ্য এমডিআর-এর এই সর্বনিম্ন হার (১.০০%) কার্যকর হবে।

সার্কুলারে বলা হয়, দেশে ডিজিটাল লেনদেনের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে কোনো অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান চাইলে নিজস্ব উদ্যোগে প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন বা বিশেষ ছাড় সংক্রান্ত প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

জনস্বার্থে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে। 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর