img

ধর্ষণ মামলায় সহকারী গ্রেপ্তার, কী পদক্ষেপ নিলেন শ্রাবন্তী

প্রকাশিত :  ১৬:২৫, ১৩ জুলাই ২০২৬

ধর্ষণ মামলায় সহকারী গ্রেপ্তার, কী পদক্ষেপ নিলেন শ্রাবন্তী

টালিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারীকে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে  গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার রাতে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার পর অর্ঘর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শ্রাবন্তী।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানায় দায়ের করা এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে অর্ঘ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে। পরে ১২ জুলাই রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার তাকে হাওড়া আদালতে হাজির করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অর্ঘ একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। ধর্ষণের মামলা করা ওই নারী একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, গত ১২ এপ্রিল কাজের সূত্রে চ্যাটার্জিহাটে অভিযুক্তের বাসায় গেলে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ১২ জুন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় এক বিবৃতিতে জানান, অর্ঘ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল শুধুই পেশাগত।

শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় বলেন, “হাওড়ার ষষ্ঠীতলার বাসিন্দা অর্ঘ মুখোপাধ্যায় এতদিন আমার কাজের দেখভাল করতেন। ২০২৪ সাল থেকে ‘তান্তেওয়ালা’ কোম্পানির মাধ্যমে আমার সব কাজ পরিচালিত হচ্ছে। সেই সূত্রেই তার সঙ্গে পরিচয়। সম্প্রতি জানতে পেরেছি, তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে। বিষয়টি আমার জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর।”

শ্রাবন্তী আরও বলেন, “তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। তবে এ ঘটনার পর আমি সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জানিয়ে দিয়েছি, অর্ঘ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আর কোনোভাবেই কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত অভিযুক্তের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন  ও আনন্দবাজার অনলাইন


img

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদকে নিয়ে মাহিয়া মাহির বিস্ফোরক অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১৮:১৫, ১১ জুলাই ২০২৬

বহুল আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পুরোনো সেই অডিও ফাঁসের ঘটনাটি নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে মাহি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই ডা. মুরাদ হাসানের দ্বারা ভুক্তভোগী বলে অভিযোগ মাহির।

এ চিত্রনায়িকা জানান, ডা. মুরাদ হাসান তাকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করতেন বলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর নম্বর ব্লক করে রেখেছিলেন। ভাইরাল হওয়া অডিওতে ডা. মুরাদ নিজেই বলেছিলেন, ‘ও তো আমার ফোন ধরবে না।’ মাহি বলেন, তিনি সরাসরি ফোন ধরতেন না বলেই ডা. মুরাদ অন্য মানুষের ফোন ব্যবহার করে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন।

অডিওতে ডা. মুরাদ হাসান মাহিকে তুলে নেওয়ার জন্য র‍্যাব, পুলিশ, এনএসআই ও ডিজিএফআই পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন।

মাহি প্রশ্ন তোলেন, যদি তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্কই থাকত, তবে কেন তাকে এভাবে ভয় দেখানো হতো? মূলত ডা. মুরাদকে এড়িয়ে চলতেন বলেই তাকে দমাতে ক্ষমতার প্রভাব খাটানো হয়েছিল।

হুমকি পাওয়ার পর মাহি ইন্ডাস্ট্রির অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং সহকর্মীদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। অনেকেই বিষয়টি জানতেন। কিন্তু ডা. মুরাদ মন্ত্রী হওয়ায় সবাই \"আমরা কী করব?\" বলে এড়িয়ে যান।

এমনকি কিছু সহকর্মী রাতে ফোন করে মাহিকে সতর্ক করতেন যেন রাত ১১টার পর তিনি ফোন না ধরেন, কারণ ওই সময়ে ডা. মুরাদ তাদের সামনেই থাকতেন।

মাহি বলেন, তিনি যদি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছাতে পারতেন, তবে অবশ্যই বিষয়টি তাকে জানাতেন এবং বিশ্বাস করেন যে তিনি এর বিচার করতেন।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি তাকে একাই ঠান্ডা মাথায় ও ভদ্রভাবে সামলাতে হয়েছিল।

অডিওতে ডা. মুরাদের গালিগালাজের বিপরীতে মাহির হেসে কথা বলা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এর জবাবে মাহি বলেন, \"আমি যদি তখন গালিগালাজ করতাম আর পরে আমার বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যেত, সেই দায়িত্ব কে নিত?\"

সবশেষে মাহি দাবি করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডা. মুরাদ শুধু তাকেই নয়, চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও অনেক নায়িকা, কণ্ঠশিল্পী এবং সংবাদ উপস্থাপিকাকে একইভাবে উত্যক্ত ও হেনস্তা করেছেন। ক্ষমতার ভয়ে তখন কেউ মুখ খুলতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই—নিউজ প্রেজেন্টার, সিঙ্গারসহ অসংখ্য নারী তার (ডা. মুরাদ হাসান) বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। তাই বিষয়টা অনেকেই বুঝবেন না।’