img

ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের বর্ণমাউথ সি-সাইডে কার্ডিফ কমিউনিটির বনভোজন অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১০:১২, ২৯ জুলাই ২০২৬

বনভোজন মানেই  মানুষের মিলন, একে অন্যের সাথে আলাপ, পরিচয়, আনন্দ ও হইহুল্লোর মধ্যে সময় কাটানো। মনটাই যেন ভালো করে দেয় প্রাকৃতিক পরিবেশে।

পিকনিক ইংরেজি শব্দে। এর মূল অর্থ হলো আপন আপন বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে গিয়ে পার্টিতে একত্রে ভোজন করা। আবহমান কাল ধরে প্রাচীন বাংলার মানুষ যেমন সংস্কৃতি প্রিয় তেমনি উৎসব প্রিয়। প্রবাসের শৃঙ্খলিত জীবনের কর্মব্যস্ততাকে মাড়িয়ে, বৃটেনের মাটিতে এখন ধুমধাম চলছে সামার ট্রিপের  উৎসবের।

বনভোজন বিনোদনে পরিচিত ও অপরিচিতজনের শিহরণ জাগানো উপস্থিতি স্মৃতির মন্দিরে ঢেউ তোলে। পরিচিত অপরিচিতের দেখাদেখি ও মাখামাখি কথায় অনেকেই গেয়ে ওঠেন ‘এই মুখরিত জীবনের চলার বাঁকে, অজানা হাজার কত কাজের ভিড়ে, ছোট্টবেলার শত রঙ করা মুখ, সুর তোলে আজও এই মনকে ঘিরে।’ 

বৃটেনের কার্ডিফ কমিউনিটির উদ্দ্যোগে কমিউনিটি সংগঠক ভিপি সেলিম আহমেদ, যুবসংগঠক খলিলুর রহমান,সামাজিক ব্যক্তিত্ব সুমন আলী ও সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান এর সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় গত সোমবার 

(২৭ শে জুলাই) ওয়েলস থেকে ইংল্যান্ডের ডরসেট এর নৈশ্বর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এর  বর্ণমাউথ সি-সাইডে কোচ বহরে যাবার পথে  রকমারি সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি গান, কৌতুক,আবৃত্তি সহ পিকনিক স্পটে হই হুল্লোড়-আনন্দের মাখামাখিতে সারাদিন রোমাঞ্চিত ছিলেন পিকনিকে অংশগ্রহণকারীরা। 

সমুদ্রের পাড়ে কাবাডি খেলা, রশি টানাটানি হাঁড়ি ভাঙা কিংবা সাঁতার কাটা আর আনন্দের আয়োজন সব বয়সীদের জন্যই এক অপূর্ব স্মৃতি তৈরি করে দেয়। 

ঐতিহ্যবাহী কাবাডি খেলায় ওয়েলস বাংলা নিউজ এর সম্পাদক মোহাম্মদ মকিস মনসুর এর দল ও রশি টানায় কমিউনিটি সংগঠক শেখ মোহাম্মদ আনোয়ার এর দল চ্যাম্পিয়ন এবং হাঁড়ি ভাঙায় ভূবেল রহমান বিজয়ী হয়েছেন। 

ডিনারপার্টি শেষে কমিউনিটি সংগঠক ভিপি সেলিম আহমেদ,ও যুবসংগঠক খলিলুর রহমান এর পরিচালনায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার বিতরণকালে কার্ডিফ কাউন্টি কাউন্সিলার সালেহ আহমেদ, ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর,

আলহাজ্ব লিলু মিয়া, হারুন তালুকদার, লিয়াকত আলী,ও আসাদ মিয়া, সহ কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা বক্তব্য প্রদান কালে নবীন ও প্রবীণদের এই মেলবন্ধন এবং চমৎকার আয়োজন নিশ্চয়ই কার্ডিফ কমিউনিটির মধ্যকার ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে আগামীতে এররকম আয়োজন অব্যাহত রাখার আহবান জানান। 

বর্ণমাউথ সি-সাইডে আনন্দঘন পরিবেশে সাড়াদিনব্যাপি 

মনোমুগ্ধকর আয়োজনে অন্যান্যদের মধ্যে কমিউনিটি সংগঠক গোলাম মর্তুজা, আব্দুল ওয়াহিদ বাবুল, আফজাল খান মিতু, মুহিবুর রহমান মায়া, মুজিবুর রহমান, সৈয়দ ইকবাল আহমেদ, আবুল কালাম মুমিন, রকিবুর রহমান, জহির আলী, আলমগীর আলম, কয়েস খান, আব্দুল জলিল, ফখরুল ইসলাম, জমসেদ ইউসুফ,  ফয়জুল ইসলাম, আকমল আলী,  ফয়েজ মিয়া, 

মুজিব মিয়া, সেলিম আহমদ, আবুল রোকসান,বুবল মিয়া, তমসসির আলী,  আবুল হোসেন, পারভেজ খান,  মানিক মিয়া, সায়েম আহমেদ, কুদ্দুস মিয়া,ফেরদৌস আলী, বেলাল মিয়া, সেবুল হোসেন, মারুফ আহমেদ, কামাল হোসেন, গিয়াস মিয়া, মুজাহিদ আলী, সাদিকুর রহমান, কামাল মিয়া, রশিদ আহমেদ, আব্দুল কাদির, 

ও মোহাম্মদ তাহেফ, সহ অংশগ্রহণকারী সবাই পিকনিক স্পটে হই হুল্লোড়-আনন্দের মাখামাখিতে সারাদিন রোমাঞ্চিত ছিলেন। যাত্রাকালে বাসের ভেতর জম্পেশ আড্ডায় মেতে ওঠেন যাত্রীরা গান, কৌতুক, আবৃত্তিসহ নানাবিধ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে দিতে কখন যে সময় 

চলে যায়। বাস থেকে নেমে শুরু হয় প্রতীক্ষিত সমুদ্র স্নানের পালা। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলা উৎসবটি হয়ে ওঠে প্রবাসীদের এক মিলনমেলা। 

উল্লেখ্য যে, প্রবাসীদের গ্রীষ্মকালীন বনভোজন উৎসবের ভালো দিকটি হচ্ছে তা বহু মানুষের সংস্কৃতির সম্মিলন ঘটায়। দেশের সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা প্রবাসীরা আসেন প্রাণের টানে। আসেন আবেগের টানে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে আনন্দ উপভোগ করতে। 

এ যেনো এক প্রাণের বন্ধন,আত্মার আত্মীয়তা, এ\'রকম উদ্দ্যোগ প্রতিবছর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন পিকনিকে অংশগ্রহণকারীরা।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

মেয়রের অ্যাক্সিলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রামের প্রথম ১০টি সাইট বাস্তবায়নে £১৪৩ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থায়ন অনুমোদন করেছে ক্যাবিনেট

প্রকাশিত :  ১১:০৯, ২৯ জুলাই ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়রের হাজার হাজার নতুন আবাসন নির্মাণের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করেছে। ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত ক্যাবিনেট সভায় মেয়রের অ্যাক্সিলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রাম সংক্ষেপে এমএএইচপি-এর প্রথম ১০টি সাইটের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে কাউন্সিল প্রথম ধাপে ৩৫১টি নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে পারবে। এটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, যার আওতায় বারাজুড়ে কাউন্সিলের মালিকানাধীন ৪২টি সাইটে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩০০টি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হবে, যার অন্তত ৫১ শতাংশ হবে সাশ্রয়ী মূল্যের (এফোর্ডেবল) আবাসন।

মেয়রের অ্যাক্সিলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রাম যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ কাউন্সিল-নেতৃত্বাধীন আবাসন উদ্যোগ। এর লক্ষ্য হলো উচ্চমানের, প্রকৃত অর্থে সাশ্রয়ী আবাসন (সামর্থাধীন ভাড়ার বাড়ি-ঘর) সরবরাহ করার পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং এমন সব কমিউনিটি গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ দীর্ঘমেয়াদে উন্নত জীবনযাপন করতে পারে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, \"এটি আমাদের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় প্রকৃত অর্থে সাশ্রয়ী এবং পরিবার-বান্ধব আবাসন সরবরাহের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। অনেক পরিবার এখনও নিরাপদ ও উচ্চমানের আবাসনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং  মেয়রের অ্যাক্সিলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রাম সেই চ্যালেঞ্জের একটি সাহসী জবাব।”

তিনি বলেন, \"এই প্রথম ১০টি সাইটের জন্য অর্থায়ন অনুমোদনের মাধ্যমে আমরা আমাদের পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছি। আমরা শুধু বাড়ি নির্মাণ করছি না; আমরা স্থানীয় এলাকায় বিনিয়োগ করছি, উন্মুক্ত জনপরিসর উন্নত করছি এবং এমন টেকসই কমিউনিটি গড়ে তুলছি, যা আগামী প্রজন্মের বাসিন্দাদের উপকারে আসবে।”

মেয়র আরও বলেন, \"এই কর্মসূচির কেন্দ্রে রয়েছে কমিউনিটির অংশগ্রহণ। যারা তাদের মতামত ভাগ করে নেওয়ার জন্য সময় দিয়েছেন, আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। তাদের মতামত এমন পরিকল্পনা তৈরি করতে সহায়তা করছে, যা স্থানীয় চাহিদা ও অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করে এবং একই সঙ্গে আমাদের বোরোর জরুরি আবাসন প্রয়োজন পূরণে সহায়তা করে।\"

ক্যাবিনেট £১৪৩ মিলিয়ন বাজেট অনুমোদন করেছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ গ্রেটার লন্ডন অথরিটি (জিএলএ)-এর অনুদানের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে, যার পরিমাণ £৭০ মিলিয়ন পাউন্ড, যা লন্ডনের মেয়রের এফোর্ডেবল হোমস্ প্রোগ্রাম (এএইপি) থেকে অনুদান নিশ্চিত করার ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া রাইট টু বাই রিসিপটস্ থেকে £৩০.৬ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থায়ন করা হবে।

একই সভায় বেথনাল গ্রীণ পিডিসি সাইটে একটি নতুন আইডিয়া স্টোর এবং ওয়ান স্টপ শপ নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত £৫.৭ মিলিয়ন পাউন্ড বাজেটও অনুমোদন করা হয়েছে। এমএএইচপি-এর এই সাইটে ৪৪টি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হবে।

ক্যাবিনেট সভায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কর্মসূচি চালুর পর থেকে বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শ ও সম্পৃক্ততা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, যাতে প্রতিটি সাইটের পরিকল্পনা স্থানীয় চাহিদা ও অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। কমিউনিটি কনভারসেশন অর্থাৎ কমিউনিটির সাথে আলোচনা এবং অনলাইন পরামর্শ কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত মতামত পরিকল্পনার নকশা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

পরিকল্পনা অনুমোদনের আবেদন জমা দেওয়ার আগে আরও পরামর্শ কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যাতে বাসিন্দা ও স্থানীয় সংগঠনগুলো প্রস্তাবিত পরিকল্পনা পর্যালোচনা করতে পারে এবং প্রতিটি সাইটের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে মতামত দেওয়ার সুযোগ পায়। বাসিন্দারা নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য পাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশনও করতে পারবেন।

মেয়রের অ্যাক্সিলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রাম-এর লক্ষ্য হলো বারাজুড়ে সর্বোচ্চ ৩,৩০০টি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা, যার অন্তত ৫১ শতাংশ সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ থাকবে সামাজিক ভাড়াভিত্তিক (সোশ্যাল রেন্ট) বাড়ি। পাশাপাশি জনপরিসর উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতকরণ এবং কমিউনিটি অবকাঠামোতে বিনিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর