কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । আজ রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মাতারবাড়ি পৌঁছান।
এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে হেলিকপ্টারে মহেশখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হন।
মহেশখালীতে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর হেলিকপ্টারে করে প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত বাঁশখালী ও হাটহাজারী এলাকায় যাবেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন।
সফর সূচির অনুযায়ী, দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেখানে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।
সফরসূচি অনুযায়ী বিকেল পৌনে ৪টায় হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বিরতি নেবেন তারেক রহমান। এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
ব্রিটেনে ওজন কমানোর ইনজেকশন নিয়ে উদ্বেগঃ ২০০টির বেশি মৃত্যুর রিপোর্ট
প্রকাশিত :
১০:০৯, ১০ আগষ্ট ২০২৬
ব্রিটেনে ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সির (এমএইচআরএ) কাছে ওজন কমানোর ইনজেকশন ব্যবহারের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্কিত ২০০টির বেশি মৃত্যুর রিপোর্ট জমা পড়েছে । একই সঙ্গে এসব ওষুধ ব্যবহারের পর ১ লাখ ৫৮ হাজারেরও বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অভিযোগও নিবন্ধিত হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এসব রিপোর্টের অর্থ এই নয় যে মৃত্যুগুলো বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো সরাসরি ওষুধের কারণেই ঘটেছে; বরং রিপোর্টকারীরা এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এমএইচআরএর ইয়েলো কার্ড স্কিমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, টাইরজেপাটাইড—যা ‘মাউনজারো’ নামে বাজারজাত করা হয়—ব্যবহারের সঙ্গে ১ লাখ ৬ হাজার ১৮৯টি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার রিপোর্ট এবং ১২০টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর তথ্য জমা পড়েছে। এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে পেট ও অন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতার ঘটনাও রয়েছে।
অন্যদিকে সেমাগ্লুটাইড, যা ওজন কমানোর ওষুধ ‘ওয়েগোভি’ এবং ডায়াবেটিসের ওষুধ ‘ওজেম্পিক’ ও ‘রাইবেলসাস’-এর সক্রিয় উপাদান, এর ক্ষেত্রে ৪৮ হাজার ৮৯টি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ৫৯টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এছাড়া লিরাগ্লুটাইড, যা ‘স্যাক্সেন্ডা’ নামে পরিচিত এবং ডায়াবেটিস চিকিৎসাতেও ব্যবহৃত হয়, এর সঙ্গে ৪ হাজার ৪৯১টি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ৩৭টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর রিপোর্ট নিবন্ধিত হয়েছে।
এমএইচআরএ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ কোটি কোটি প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে ব্যবহৃত হচ্ছে। ওষুধের ব্যবহার বৃদ্ধি, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য কারণেও রিপোর্টের সংখ্যা বাড়তে পারে। তাই শুধুমাত্র রিপোর্টের সংখ্যা দেখে কোনো ওষুধকে দায়ী করার সুযোগ নেই।
সংস্থার একজন মুখপাত্র বলেন, অন্যান্য সব ওষুধের মতো জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট ওষুধগুলোর নিরাপত্তাও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য বা নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখা দিলে তা দ্রুত রোগী, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে এমএইচআরএর মূল্যায়ন হলো, অনুমোদিত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করলে এই ওষুধগুলোর উপকারিতা সম্ভাব্য ঝুঁকির তুলনায় বেশি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেছেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে ওষুধের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সব তথ্য একত্রে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত এসব তথ্য পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজন হলে সরকার ও জনগণকে দ্রুত অবহিত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোগীর নিরাপত্তাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব ব্যক্তি ওজন কমানোর ইনজেকশন ব্যবহার করছেন, তাদের কোনো অস্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত এবং প্রয়োজনে এমএইচআরএর ইয়েলো কার্ড স্কিমে তা রিপোর্ট করা প্রয়োজন।