img

শ্রীমঙ্গলে মোবাইল কোর্টে ১,০০০ ঘনফুট বালু জব্দ, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশিত :  ০৯:১৭, ১৯ আগষ্ট ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে মোবাইল কোর্টে ১,০০০ ঘনফুট বালু জব্দ, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুর-নোয়াগাঁও গ্রামের রাবার ফ্যাক্টরিসংলগ্ন জাগছড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ফলে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ হাজার ঘনফুট অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি), শ্রীমঙ্গল-এর নামে পরিচালিত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া তথ্য ও ছবিতে এ অভিযানের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইছবপুর-নোয়াগাঁও গ্রামের রাবার ফ্যাক্টরিসংলগ্ন জাগছড়া এলাকায়, মৌলভীবাজার সড়কের ৮ নম্বর পুলের কাছে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কোনো আসামিকে পাওয়া যায়নি। এ কারণে কাউকে অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযানে প্রায় ১ হাজার ঘনফুট অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা বালু বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

বারবার অভিযান, তবু বন্ধ হচ্ছে না বালু উত্তোলন

প্রকৃতি ও পরিবেশগত বৈচিত্র্যের কারণে শ্রীমঙ্গল উপজেলা চারদিকে পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও চা-বাগানঘেরা। এ উপজেলায় রয়েছে অসংখ্য পাহাড়ি ছড়া, যেগুলো স্থানীয়ভাবে ছোট নদী হিসেবেও পরিচিত। এসব ছড়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী গোষ্ঠী এসব অবৈধ বালু উত্তোলনের পেছনে অর্থায়ন করে। ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের জন্য শ্রমিক নিয়োগের পাশাপাশি বালু পরিবহনে ট্রাক, চালক ও হেলপার এবং তদারকির জন্য লোকজন রাখা হয়। পরে উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।

উপজেলার ভুনবীর ও সিন্দুরখান ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু বহনকারী ট্রাকের ধাক্কায় এক বৃদ্ধা, এক শিশুকন্যা ও এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র ও অতীতের সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব ঘটনার পর স্থানীয় মানুষ বিভিন্ন সময়ে সড়কে নেমে আন্দোলন করেছেন। আন্দোলন ও প্রশাসনের অভিযানের পর কিছু সময়ের জন্য বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও পরে আবার তা শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

অবৈধ বালু উত্তোলনে সাংবাদিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে একজন সাংবাদিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে। দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর মৌলভীবাজার প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ-সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করেছেন। তাঁর পোস্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে ওই সাংবাদিকের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা তাঁকে আটক করা হয়েছে কি না—এমন কোনো তথ্য এখনো জানা যায়নি।

অভিযানের আগেই পালিয়ে যায় সংশ্লিষ্টরা

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করলেও অভিযানের খবর আগে থেকেই পেয়ে যায় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা। ফলে অভিযানপরিচালনার সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই কাউকে পাওয়া যায় না।

এলাকাবাসীর মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের পেছনে যারা অর্থায়ন করেন, তাঁরা সাধারণত সরাসরি ঘটনাস্থলে থাকেন না। ফলে শ্রমিক, ট্রাকচালক, হেলপার কিংবা বালু উত্তোলনের তদারকিতে নিয়োজিত ব্যক্তিরা মাঝেমধ্যে আটক হলেও অর্থের জোগানদাতারা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ এসব অর্থ জোগানদাতার রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে বলেও দাবি করেন। তাঁদের অনেকে বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। 

নিরাপত্তার কারণে স্থানীয় অনেক মানুষও এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলে জানা গেছে। তাঁদের আশঙ্কা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কথা বললে তাঁরা নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।

খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মী আক্রান্ত

শ্রীমঙ্গলের ভুনবীর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে এক গণমাধ্যমকর্মী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানা গেছে। এ ঘটনায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের প্রভাব ও স্থানীয় পর্যায়ে তাঁদের নিয়ে মানুষের ভীতির বিষয়টি সামনে এসেছে।

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ি ছড়া থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ ও আশপাশের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ বালুবাহী যান চলাচল বাড়ায় সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও অভিযানের সময় মূল ব্যক্তিদের ঘটনাস্থলে না পাওয়ার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, শুধু ঘটনাস্থলে থাকা শ্রমিক বা পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অবৈধ বালু উত্তোলনের মূল উৎস বন্ধ করা কতটা সম্ভব?

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি অর্থের জোগানদাতা, সংগঠক ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তা না হলে একদিকে যেমন পাহাড়ি ছড়া ও পরিবেশের ক্ষতি অব্যাহত থাকবে, অন্যদিকে অবৈধ বালুবাহী যান চলাচল ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিও কমবে না।





যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

লন্ডনে কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: ব্রিটেনের কারিশিল্পের উজ্জ্বল নক্ষত্রদের সম্মাননা

প্রকাশিত :  ১৬:৩১, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৫৮, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

লন্ডন, ০৫ অক্টোবর: ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম সুগন্ধি অধ্যায়ের নাম ‘কারি’। দক্ষিণ এশীয় রান্নার সেই ঐতিহ্য আজ কেবল একটি খাবারের নাম নয়; এটি ব্রিটিশ অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও অভিবাসী উদ্যোক্তাদের সাফল্যের এক অনন্য প্রতীক। সেই সাফল্য, শ্রম, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা-স্পৃহাকে সম্মান জানাতেই লন্ডনে অনুষ্ঠিত হলো ১৭তম কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬।

রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লন্ডনের অভিজাত ম্যাফেয়ার এলাকার পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত আয়োজনটি ছিলো বরাবরের মতই অভিজাত, ঝাঁকালো ও উৎসবমূখর। ছিলো যুক্তরাজ্যের রেস্টুরেন্ট খাতের সফল উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ব্রিটিশ মূলধারার রাজনীতিক, মন্ত্রী, এমপি, লর্ড সভার সদস্যসহ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আনন্দঘন উপস্থিতিতে মূখরিত। উদ্দেশ্য একটাই- যুক্তরাজ্যের বিশাল রেস্তোরাঁ খাতে বাংলাদেশিদের সাফল্যকে তুলে ধরা, উদযাপন করা এবং অনুপ্রেরণা দেয়া। বিবিসি’র জনপ্রিয় উপস্থাপক ও সাংবাদিক জন কে (Jon Kay) এবং লাক্সমি গোপাল (Luxmy Gopal)–এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাঁচ শতাধিক অতিথি অংশ নেন।

এবার মোট ৪১টি পুরস্কার প্রদান করা হয় চারটি প্রধান বিভাগে— সেরা রেস্তোরাঁ, সেরা শেফ, সম্পাদকীয় বিশেষ সম্মাননা (Editor’s Choice) এবং সেরা টেকঅ্যাওয়ে। হাজারো গ্রাহক তাঁদের প্রিয় রেস্তোরাঁ, টেকঅ্যাওয়ে ও শেফের পক্ষে ভোট দেন। এরপর বিচারকদের কঠোর মূল্যায়নের মধ্যদিয়ে চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত তালিকা ও বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়।

এ বছরের সম্মাননার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ব্রাইটন থেকে বোল্টন, টনটন থেকে টিসসাইড, অর্থাৎ যুক্তরাজ্যের নানা শহরের সেরা কারি রেস্তোরাঁ ও শেফরা।


যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পের অন্যতম কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছে ‘কারি লাইফ ম্যাগাজিন’। এটি কারি লাইফ মিডিয়া গ্রুপের একটি প্রকাশনা। ১৭ বছর ধরে এই এওয়ার্ড অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ব্রিটেনের কারি শিল্পে অসামান্য অবদান রাখা পেশাজীবী, শেফ, রেস্তোরাঁ মালিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের সম্মান জানিয়ে আসছে। দ্বি-মাসিক এই বিজনেস-টু-বিজনেস প্রকাশনাটি যুক্তরাজ্যের ১০ হাজার ভারতীয়, বাংলাদেশি, শ্রীলঙ্কান, নেপালি ও পাকিস্তানি রেস্তোরাঁয় বিনামূল্যে পাঠানো হয় এবং এর আনুমানিক পাঠকসংখ্যা এক লাখেরও বেশি।

গত এক দশকেরও বেশি সময়ে কারি লাইফ এওয়ার্ডস ব্রিটিশ কারি শিল্পের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিতে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সেরা রেস্তোরাঁগুলো এই পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার মঞ্চ।

কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ব্রিটিশ কারি শিল্পের সেরাদের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও অনুপ্রেরণার স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করে। এর আগের কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-স্যার কিয়ার স্টারমার এমপি, ওয়েস স্ট্রিটিং এমপি, অ্যাঞ্জেলা রেনার এমপি এবং লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন জন স্নো, অ্যাডাম বোল্টন, মাইকেল বুয়ার্ক এবং অ্যাঞ্জেলা রিপন-এর মতো খ্যাতিমান সম্প্রচারকেরা।

ব্যয় বৃদ্ধি ও দক্ষ জনবলের সংকটের শঙ্কা

‘কারি লাইফ’ ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা সূচনা বক্তব্যে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬–এর বিজয়ীদের অভিনন্দন। এ বছর আমাদের পুরস্কারের ১৭তম আয়োজন - কারি শিল্পে উৎকর্ষ উদ্‌যাপন এবং এই খাতের কঠোর পরিশ্রম, স্থিতিশীলতা ও সৃজনশীলতাকে তুলে ধরার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের একটি প্রমাণ।”

তিনি আরও বলেন, “দেশজুড়ে রেস্তোরাঁগুলো মজুরি থেকে শুরু করে উপকরণের দাম - সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বৃদ্ধির মুখোমুখি হচ্ছে। পাশাপাশি অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের কারণে দক্ষ কর্মীর সংকটেরও বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পুরস্কারগুলো দেখিয়ে দেয় কেন এই শিল্পের আরও উল্লেখযোগ্য সহায়তা প্রয়োজন, যাতে এটি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রাখতে পারে।”

কারি শিল্প ব্রিটেনের অনুপ্রেরণার গল্প’

অনুষ্ঠানে কারি লাইফ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সৈয়দ বেলাল আহমেদ বলেন, “যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পে দেশের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যবসায়ী ও রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তাদের অনেকেই কাজ করছেন। আমরা আনন্দিত যে তাঁদের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত সাফল্যকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম দিতে পারছি, যাতে তাঁরা আরও এগিয়ে যেতে পারেন। ব্রিটিশ কারি শিল্প আবারও নিজেদের গৌরবময় অবস্থান প্রমাণ করেছে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রেন্ট ইস্ট আসনের এমপি ডন বাটলার। এছাড়া যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন আসনের একাধিক সংসদ সদস্য অংশ নেন এবং নিজ নিজ এলাকার পুরস্কারপ্রাপ্ত রেস্তোরাঁগুলোর প্রতি সমর্থন জানান।

উপস্থিত ছিলেন ওয়েমাউথের এমপি লয়েড হ্যাটন, টনটনের এমপি গিডিওন অ্যামোস ওবিই, লেস্টারের এমপি শওকত আদম এবং রুশনারা আলী এমপি। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্ত রেস্তোরাঁগুলো শুধু ব্যবসা নয়, স্থানীয় কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং বৃহত্তর কারি শিল্পের অবদান ব্রিটেনজুড়ে উল্লেখযোগ্য।


চার বিলিয়ন পাউন্ডের শিল্পের উৎসব

ব্রিটেনের কারি শিল্পের বাজারমূল্য প্রায় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড। হাজার হাজার রেস্তোরাঁ, টেকঅ্যাওয়ে ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসার মাধ্যমে এই শিল্প লাখো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তাদের অবদান এই শিল্পে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য; দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তাঁরা ব্রিটিশ কারি সংস্কৃতির ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডস সেই ঐতিহ্যেরই এক বার্ষিক উদ্‌যাপন - যেখানে রান্নাঘরের নীরব শ্রম, অভিবাসী জীবনের সংগ্রাম এবং উদ্যোক্তার সাফল্য একই মঞ্চে সম্মানিত হয়।

আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষক: কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ আয়োজন করেছে কারি লাইফ মিডিয়া গ্রুপ। এবারের আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক ছিল কোবরা বিয়ার, ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউড, মিলগো (Mealgo) এবং হিলসাইড ট্রাভেলস।

কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: পুরস্কৃত রেস্টুরেন্ট, টেকওয়ে এবং শেফ

এবারের কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬–এ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রেস্তোরাঁ, টেকঅ্যাওয়ে ও শেফরা সম্মাননা পেয়েছেন। Editor’s Choice of the Year, Best Restaurant of the Year, Best Chef of the Year এবং Best Takeaway of the Year—এই চার বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়।


এডিটর’স চয়েস অব দ্য ইয়ার - ২০২৬

সারে প্যালেস - ইওয়েল, সারে, লালা’স রেস্টুরেন্ট - লিডস/ব্র্যাডফোর্ড, ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার, মনসুন ম্যাজেস্টিক ইন্ডিয়ান ডাইনিং - নিউক্যাসল-আন্ডার-লাইম, নিউক্যাসল, রিভারসাইড স্পাইস - কোলচেস্টার, এসেক্স, ডাউনহ্যাম তান্দুরি - ডাউনহ্যাম মার্কেট, নরফোক, চেন্নাই ইন্ডিয়ান কুইজিন - লিক, স্ট্যাফোর্ডশায়ার, সেলিব্রিটিজ ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট - কার্ডিফ, দ্য এবারডেইল পাব অ্যান্ড গ্রিল- উইগস্টন, লেস্টার, আমনি চেস্টার - চেস্টার, এবং আই-নাগা রেস্টুরেন্ট - ওয়েস্ট উইকহ্যাম।


বেস্ট রেস্টুরেন্ট অব দ্য ইয়ার - ২০২৬

দিলরাজ রেস্টুরেন্ট - ব্রিজনর্থ, শ্রপশায়ার, রয়্যাল মাসালা - কিংসউইনফোর্ড, ডাডলি, দ্য বোম্বে সোয়ানলি- সোয়ানলি, কেন্ট, ইভসহাম বালতি - উর্সেস্টারশায়ার, দ্য ভাইসরয় - নিউহ্যাভেন, ইস্ট সাসেক্স, জালাপারি অব উডলি - উডলি, রিডিং, চৌরঙ্গী ইন্ডিয়ান কুইজিন - প্যাচাম, ব্রাইটন, কিংস লিন তান্দুরি - কিংস লিন, নরফোক, কাভালি - স্টোন, স্ট্যাফোর্ডশায়ার, লাসানি সাউথওয়েল - সাউথওয়েল, নটিংহ্যামশায়ার, চিলি’স রেসু্টরেন্ট - ওয়েমাউথ, ডরসেট, স্পাইস হেভেন - হুইচার্চ, শ্রপশায়ার, সীটন তান্দুরি - সীটন কেয়ারু, হার্টলপুল, ডা মাউন্ট গুর্খা - ওয়াটারলু, লিভারপুল, মালিহা অ্যান্ড তাজ বাঙালি অ্যান্ড ইন্ডিয়ান রেস্টেুরেন্ট - টনটন, সমারসেট, স্পাইস ভিলেজ- নিউ অ্যাশ গ্রিন, কেন্ট, আরিয়া ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট - ওয়াটফোর্ড, হার্টফোর্ডশায়ার, মনসুন রেস্টুরেন্ট - হলিউড, বার্মিংহাম, এবং স্পাইস মাস্টার- টাইলহার্স্ট, রিডিং।


বেস্ট শেফ অব দ্য ইয়ার - ২০২৬

শেফ গয়াস উল্লাহ - কুইন্স হেড রেস্টুরেন্ট, ব্রেটফোর্ড, রাগবি, শেফ আবদুল মালিক - সাফরন, লিক, স্ট্যাফোর্ডশায়ার, শেফ শামসুল মিয়া - সিনামন লাউঞ্জ, হরবেরি, ওয়েকফিল্ড, শেফ মোশাহিদ আলী (রাজ) - নাজ ইন্ডিয়ান কুইজিন, হেস্কেথ ব্যাংক, প্রেস্টন, শেফ সৈয়দ উসমানি - ইন্ডিয়ান কুইন টেকঅ্যাওয়ে, রাগবি, স্ট্যাফোর্ডশায়ার, শেফ আবদুল মিয়া- প্রিন্স অব ইন্ডিয়া, ফাভারশাম, কেন্ট, শেফ সামির দেশাই লেস্টার - দ্য ব্রডওয়ে বার অ্যান্ড গ্রিল, লেস্টার।


বেস্ট টেকঅ্যাওয়ে অব দ্য ইয়ার - ২০২৬

তাজ মহল নাইট - চেমসফোর্ড, এসেক্স, ক্লে ওভেন টেকঅ্যাওয়ে - সাউথ ড্যাগেনহ্যাম, এসেক্স, হেনলো তান্দুরি - হেনলো, বেডফোর্ডশায়ার, লিটল ইন্ডিয়া - বোল্টন, গ্রেটার ম্যানচেস্টার, বে-লিফ টেকঅ্যাওয়ে - হুইটস্টোন, লন্ডন।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর